ওসমানদের অতিকথনে ফেঁসে যাচ্ছে বিএনপির নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ওসমানলীগ ও ওসমানপার্টি এই দুটি শব্দরই অর্থই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে খুবই সরল। কারণ নারায়ণগঞ্জের প্রচীনতম মেরু উত্তর মেরুর রাজনীতি আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টির সম্পৃক্ত। যার কারণে যারা উত্তর মেরুর নেতাদের সাথে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে তাদেরকে ওসমানলীগ বলে এবং যারা উত্তর মেরুর নেতাদের সাথে জাতীয়পার্টির রাজনীতি করে তাদের ওসমানপার্টি বলা হয়।
তবে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকেও ওসমানদের সাথে প্রকাশ্যে সখ্যতা রেখে রাজনীতি করলেও তাদের কোন রকম নামকরণ না হলেও তাদের নিয়ে ওসমানদের অতিকথনের ফলে কেউ বিএনপি থেকে ‘গেট আউট’ হয়েছে কেউ অতিকথনের ফলে পদ হারিয়ে ডিমোশন হয়েছে। এতে করে ওসমানদের অতিকথনের ফলে ফেঁসে যাচ্ছে ওসমানে লগোয়া বিএনপি সমর্থিত নেতারা।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান প্রায় সময়ই বিএনপিকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াউদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে তীর্যক মন্তব্য করে পলিট্রিকাল প্রস্টিটিউট বলেও সম্বোধন করেছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে নিয়ে ভদ্রলোক ছাড়া কথাই বলেন না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান।
যার কারণে বিএনপি সমর্থিত নেতাদের সন্দেহ ছিল স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের প্রেসক্রিপশনেই রাজনীতি করেন বলে মামুন মাহমুদকে নিয়ে কিছুদিন পর পরই বক্তব্যে ভদ্রলোক বলে সম্বোধন করতেন শামীম ওসমান। তবে সাংসদ শামীম ওসমানের অতিকথনের ফলে শেষতক মামুন মামুদ বিএনপির সদস্য সচিব থেকে ডিমোশন নিয়ে আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে অদিষ্ঠিত হয় এবং জেলা বিএনপির রাজনীতিতে বিদ্রোহী ভূমিকায় রাজনীতি করতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাশা হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হলেও বিএনপির রাজনীতিতে নিজেকে আর মেলে ধরতে পারেনি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন উন্নায়নমূলক কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করেছেন এবং এসকল সভা সমাবেশে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করতেন।
কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা মামলা কারণে ঘাঁ ডাকা দিয়েছেল। কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমান তাদের অনুপস্থিতির ফলে নির্বাচনী প্রচারণা কালে বক্তব্যে সেসকল জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন ‘কেনো তোমরা লুকায় আছো গ্যারান্টি আমার পুলিশ ধরবে না’ এবং তাদের নাম ধরে বলেন আজকে এ সময় তারা কোথায় গেল।
এরপরই গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সমরক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের আহ্বানে মঞ্চে উপস্থিত হন বন্দরের বিএনপির তিন সাবেক বর্তমান কাউন্সিলর হান্নান সরকার, সুলতান আহম্মেদ ও গোলাম নবী মুরাদ।
পরবর্তীতে শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান মুকুল, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপি নেতা শওকত হাশেম শকু, বন্দর উপজেলা বিএনপি নেতা হান্নান সরকার, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, সাবেক কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদকে বহিষ্কার করেন।
আর এ সকল নেতাদের নিয়ে তাদের নাম উদ্দেশ্য করে নির্বাচনী বিভিন্ন সভায় অথিকথন ছিল সেলিম ওসমানের কন্ঠে। এর কিছুদিনের মধ্যেই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এ সকল বিএনপি সমর্থিত সাবেক বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা। এতে প্রতিয়মান হয়েছে ওসমানদের অতিকথনের ফলে ফেঁসে যাচ্ছে বিএনপির নেতারা। এস.এ/জেসি


