# দুটি আসনে একেবারেই নেই ভোটের আমেজ
দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আর এই সময়ে নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনের ভোটারদের সাথে আলাপ হয়। প্রশ্ন ছিলো একটাই, আর সেটি হলো ভোট দিতে যাবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশ মানুষই বলেন কেনো ভোট দিতে যাবো? আমরা তো জানি এবারের এই নির্বাচনে কোন প্রার্থী জিতবেন আর কোন দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে। আমার ভোট দেয়া বা না দেয়ায় তো কারো কিছু যায় আসে না।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এমন তথ্যই জানা গেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার ফতুল্লার নন্দলালপুরের বাসিন্দা আলী হোসেনের কাছে ভোট দিতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বলেন আসলে আমার কি ভোট দেওয়ার কোনো দরকার আছে? তিনি বলেন আপনি বলুন এই মুহুর্তে যে নির্বাচন হচ্ছে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার কি কোনো সম্ভাবনা আছে?
আমি জানি আমি ভোট দেই বা না দেই ক্ষমতায় যাবে আওয়ামী লীগ আর আমাদের আসনের এমপি হবেন শামীম ওসমান। তাহলে আমি অযথা কেনো ভোট দিতে যাবো? একই প্রশ্নের জবাবে ফতুল্লা বাজারের দোকানদার মনির হোসেন একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন এবারের নির্বাচনে আমাদের এই আসনে একজনই প্রার্থী, আর তিনি হলেন নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমান। যদিও শুনতে পাচ্ছি আরো কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু আমরা তো আর কোনো প্রার্থীকে চিনি না।
তিনি আরো বলেন, ভোট হলো একটি পবিত্র আমানত। তাই এই ভোট যদি আমি দিতে পারতাম তাহলে খুব ভাবনা চিন্তা করেই দিতাম। কিন্তু এবার যে ভোট হচ্ছে তাতে আমি ভোট দিলেও শামীম ওসমান পাশ করবেন আর না দিলেও তিনি পাশ করবেন। তাই ৭ তারিখে যে নির্বাচন হচ্ছে নির্বাচনে ভোট দেওয়া আর না দেওয়া সমান কথা। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ভোটারদের সঙ্গে আলাপ কালে তারাও একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
গতকাল এই আসনে আলীরটেক গোগনগর এবং নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকা পরিদর্শন করে এমন তথ্যই জানা গেছে। তারা বলেন নির্বাচনটি হচ্ছে এক তরফা। যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সকলেই সরকারি দলের লোক অথবা সরকারের মনোনীত লোক। এই নির্বাচনের আগেই বুঝা যাচ্ছে বিপুল ভোটে জিতবে নৌকা আর প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। আর নৌকার বাহিরে যারা নির্বাচন করছেন তারাও অধিকাংশ আওয়ামী লীগেরই লোক।
জাতীয় পার্টি আছে, তারাও আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়েই আছে। এক কথায় যারা নির্বাচন করছেন তারা সকলেই এক ব্যক্তির লোক। তাই এই নির্বাচনে আগেই বুঝা যাচ্ছে ক্ষমতায় যাবে আওয়ামী লীগ আর প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। তাই আমাদের ভোটের কোনো দরকার আছে বলে আমরা মনে করি না।
তবে ভোটারদের মাঝে যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত সমর্থক তারা বলছেন তারা ভোট দিতে যাবেন বলে জানান। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য হলো শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমান হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। তাই তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দেবেন। তবে এবার ভোট কেন্দ্রে স্বেচ্ছায় যেতে চান এমন মানুষের সংখ্যা খবুই কম। এস.এ/জেসি


