# একাদশ নির্বাচনেও ভোট চান নাই তিনি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার আর মাত্র ৩দিন রয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হতে যাচ্ছে। ওই দিনের পর থেকে এমপি প্রার্থীরা আর প্রচারণা করতে পারবে না। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনের মাঠে একক ভাবে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমান প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু তার বিপক্ষের প্রার্থীদের তেমন ভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না। যদিও অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা বিপক্ষের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। অন্য প্রার্থীদের তেমন ভাবে মাঠে নামতে দিচ্ছে না। তবে গত কয়েক দিন যাবৎ প্রচারণার মাঠে নেই নৌকার প্রার্থী। কিন্তু তার অনুসারীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে নিবার্চনী প্রচারণায় নেমে সাংসদ শামীম ওসমান ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, হয়তো এটাই আমার শেষ নির্বাচন। নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই, অন্য কেউ আসুক। আল্লাহর হুকুম হয়েছে, তাই আমি ফতুল্লা সিদ্বিরগঞ্জ এলাকায় অনেক কাজ করতে পেরেছি। আমরা বাচ্চাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত চাই। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই না। ভোট আমাকে দিয়েন না, যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়েন, তবে ভোটটা দিয়েন। এবারের ভোটটা দেয়া আপনাদের খুব দরকার।
আগামী ৭ তারিখে নির্বাচন হবেই। তারা আমাদের মানচিত্রে আঘাত করেছে। সিরিয়া, লিবিয়ার মতো দেশ বানাতে না চাইলে ভোট দিতে আইসেন। কারণ আপনি ঠিক করবেন আপনি কী চান। সিদ্ধান্ত আপনার। আমি কখনো ভোট চাই না। কারণ আপনি আমার থেকে কম বুঝেন না। দেশটাকে সিরিয়া লিবিয়া বানাতে চান নাকি আবারও ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনে সুন্দর শান্তিময় দেশ গড়তে চান। সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে।
অপরদিকে খোজঁ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী এমপি শামীম ওসমান ২০১৮ সনের নির্বাচনেও একই কথা বলেছেন। তখনও ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নৌকার প্রচারণায় গিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম ওসমান বলেছেন আমি ভোট চাইতে আসি নাই। কেননা আপনাদের প্রয়োজনের জন্য আপনারা কাকে ভোট দিবেন তা আপনারা নির্ধারণ করবেন।
গত নির্বাচনেও তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় আমি কারও কাছে ভোট চাইব না। তবে এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্ন রাখব আপনারা কোন দিকে থাকবেন? বোমাবাজ, জ্বালাও-পোড়াওকারীদের পক্ষে? নাকি উন্নয়নের পক্ষে? চয়েজ আপনাদের।
ভোটারদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে, সাংসদ শামীম ওসমান ২০১৮ সনের নির্বাচনে তিনি যে কথা বলেছেন এবারের নির্বাচনের প্রচারনায় এসেও একই কথা বলছেন। তার ফাকা বুলির আওয়াজ এবার মানুষ আগের মত নিচ্ছে না। তিনি গতবারও বলেছেন, ফতুল্লাকে তিনি নতুন বউয়ের মত সাজাতে চান।
কিন্তু নির্বাচনের পর তা নিজে ভুলে গিয়ে ফতুল্লার পানিতে হেটে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া বছর জুড়েই পানিতে ডুবে থাকে ফতুল্লার অধিকাংশ স্থানীয়রা। ২০১৮ সনের নির্বাচনের প্রচারনার কথা ২০২৩ সনে এসেও বলে বেরাচ্ছেন।
তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে আসলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে প্রচারণার মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। কেননা তার বিপক্ষের প্রার্থীরা কেউই প্রচারণার মাঠে নেই। যদিও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তিনি বলেছেন এবার খেলা হবে। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হওয়ার পর প্রচারণার মাঠে নেমে তিনি বলেন খেলতে এসে দেখি খেলার মাঠে খেলোয়ার নেই। অনেকটা খালি মাঠে গোল দিচ্ছে শামীম ওসমান।
তাই সচেতন মহলেও আলোচনা হচ্ছে তিনি যেমন ২০১৮ সনের নির্বাচনে ভোট চান নাই এবারও ভোট চাইবেন না বলে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে আসলে তিনি ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কেননা এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জে শামীম ওসমান কতটা সফল হবে তা নির্বাচনের ভোট গ্রহনের দিনই বুঝা যাবে। আর এজন্য ৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এস.এ/জেসি


