Logo
Logo
×

রাজনীতি

আমেজহীন আসনে নির্বাচনী সভায় আসছে শেখ হাসিনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:১০ পিএম

আমেজহীন আসনে নির্বাচনী সভায় আসছে শেখ হাসিনা
Swapno

 

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারনার জন্য এমপি প্রার্থীরা আর মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছে। সেই সাথে ৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহনের মাধ্যমে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রচারনায় নারায়ণগঞ্জে সর্বশেষ নির্বাচনী সভা করতে যাচ্ছে বড় আকারে। এই নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন।

 

 

দুই যুগ পর নারায়ণগঞ্জে আসছে শেখ হাসিনা। এই সভা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সভাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেই সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দ সংস্থার ব্যক্তিরা নিরাবপত্তার বিষয়ে সর্বাত্বক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যান্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জে শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে ব্যপক আকারে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

 


এদিকে ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনী সভা সফল করার জন্য নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের নৌকার প্রার্থীরা ব্যপক ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। শামসুজ্জোহা ক্রীড়া ওসমানি স্টোডিয়ামে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। গতকাল সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

 

 

যা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে দৃশ্যমান। আর নতুন বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য নতুন বার্তা দিবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা। কারণ নারায়ণগঞ্জ হলো আওয়ামী লীগের জন্মস্থান। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যাশাও অনেক। জাতির পিতার কণ্যা আমার নির্বাচনী এলাকায় শেষ জনসভাটা করবেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

 

 


নাসিক মেয়র আইভীকে উপস্থি থাকার প্রসঙ্গে এমপি শামীম ওসমান বলেন, একটু কষ্ট আছে অনেককে কাছে চেয়েছিলাম পাচ্ছিনা। মিটিংয়ের দিন তারা কষ্ট করে অন্তত মঞ্চে উপস্থিত হবে এটুকু আমরা আশা করি।

 


শামীম ওসমান বলেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে যেহেতু আমার নির্বাচনী এলাকা আমি আমার নেতাকর্মীদের বলছি, তারা আছেন বলেই আমি শামীম ওসমান, তারা না থাকলে আমার দুই পয়সার দাম নেই। তারা আমার চেয়ে বেশী যোগ্য। যেহেতু নিরাপত্তার ব্যাপার আছে তাই নির্দিষ্ট কিছু লোক ছাড়া আমরা কাউকে মঞ্চে উঠাবোনা। আমাদের অনেক সিনিয়র নেতাদের আমরা হয়তো প্রপার সম্মান দেখাতে পারবোনা তাই হাতজোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি।

 


অপরদিকে আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে কাগজে কলমে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও তারা কেউ প্রচারনার মাঠে নেই। যখনি শামীম ওসমানের বিপক্ষে কেউ প্রচারনায় নামতে যান তখনি তাদের উপর হয় হামলা করা হয় নয়ত তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে বাসা রাখা হয়। আর এনিয়ে অন্য প্রার্থীরাও বিব্রত।

 

 

একই ভাবে এমপি শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমানের বিপক্ষেও তেমন কোন প্রার্থী নেই। কাগজে কলমে তিন জন প্রার্থী থাকলেও তারাও প্রচারনায় নেই। আর এতে করে ওসমান পরিবারের দুই সহোদর এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য নিশ্চিত জয় জেনে তারাও এখন র্নিভার। কমিয়ে দিয়েছে প্রচার প্রচারনা।

 


নগরবাসি বলছে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান এমপিরাই আবারও থাকছে। তাদের বিপক্ষে কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় এখানে নির্বাচনের আমেঝ আছে কি তা ভুলে গেছে ভোটাররা। আগে নির্বাচন আসলে ভোটাররা ্ঈদের চেয়ে বেশি রকমের আনন্দ করতেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে সেই আনন্দ নেই।

 

 

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ নৌকার প্রার্থী এমপি শামীম ওসমানের এলাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ লাঙ্গলের প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী এলাকায় বিপক্ষ প্রার্থীরা মাঠে না থাকায় ভোটের আমেঝ নেই বললে চলে। আবারে কেউ কেউ বলছে নারায়ণগঞ্জের এ দুটি আসনে নির্বাচন বলতে যে কিছু আমেঝ থাকে তা নেই বললে চলে। তারা একাই মাঠে প্রচারনা করে যাচ্ছেন।

 


দলীয় সুত্রমতে, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি আসনে নৌকার বিপক্ষে ডামি প্রার্থী রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তার সেই নির্দেশনা মানা হয় নাই। কেননা এখানে নৌকার বিপেক্ষ কোন ডামি প্রার্থীতো নেই বরং তার বিপক্ষে কোন শক্তিশালী প্রার্থী নেই।

 


তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, ৪ জানুয়ারি নির্বাচনী সভা করার জন্য নারায়ণগঞ্জে আসছে শেখ হাসিনা। কিন্তু এই সভাপটি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী ফতুল্লার এলাকার শামসুজ্জোহা পৌর স্টোডিয়ামে হতে যাচ্ছে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে যেখানে নির্বাচনের আমেঝ নেই সেই আসনে নির্বাচনী সভায় আসছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

আমেঝহীন নির্বাচনী আসনে এসে তা অন্য আসন গুলোতে কতটুকু সফলতা বয়ে আনবে এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ২ যুগ পরে নারায়ণগঞ্জের সভায় প্রধানমন্ত্রী আসছে তা নিয়ে দলীয় নেতা কর্মীরা ব্যপক উচ্ছসিত। সেই সাথে দলের নেতা কর্মীরাও চাঙ্গা হচ্ছে। অন্তত নির্বাচরনকে কেন্দ্র হলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন পরে শেখ হাসিনাকে পাচ্ছে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন