নির্বাচনি কারিশমায় হতচকিত বিএনপি। এক ধাক্কায় শূন্য হয়ে গেলো গোয়াল। চলতি মাসের ৭ তারিখ অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের মাঠে আছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। বিরতি দিয়ে দিয়ে অবরোধ, হরতালসহ গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
কিন্তু গায়েবি মামলা আর গ্রেফতারের ভয়ে জোরালো ভাবে আন্দোলনে শরিক হতে পারছে না দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই এখন কারাগারে। যারা বাইরে আছেন তারাও বেশিরভাগই হুলিয়া মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে। জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে বিজয় দিবসের র্যালিতে এক ঝলক দেখা গেলেও এখন পুরোপুরিই আত্মগোপনে।
তবে যারা সরকারি দলকে ম্যানেজ কিংবা পঞ্চইন্দ্রিয় বন্ধ রাখতে পারঙ্গম, তারা বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। তবে রাস্তঘাটে তাদের চলাফেরা দেখলে কেমন যেন এতিম এতিম লাগে। দলীয় অবস্থা যখন এমনিতরো, তখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের এই বহিষ্কার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরণের আলোচনা সমালোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক নেতা যুগের চিন্তাকে জানান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন তার আগামী দিনে নির্বাচনি রাস্তা নিষ্কণ্টক করতেই মুকুলসহ ৬জনকে বহিষ্কারের পেছনে কাজ করেছেন। বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের লাঙ্গলমার্কা প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেয়ার অভিযোগ এনে এতদসংক্রান্ত ছবি, ভিডিও এবং নিউজকাটিং বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন ওই নেতা।
সাখাওয়াতের দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে ওই নেতা বলেন, মুকুলভাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির নির্ভরশীল প্রার্থী। এ কারণেই তাকে বহিষ্কার করিয়ে সাখাওয়াত তার রাস্তা ক্লিয়ার করেছেন।
অপরদিকে মহানগর বিএনপির একজন সক্রিয়নেতা যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। যে গরুকে গোয়ালে রেখে কখনোই পোষ মানানো যাবে না বলে মনে করা হয়, তাকে গোয়াল থেকে বের করে দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে হয়তো গোয়ালটা সাময়িকভাবে শূন্য হয়ে যাবে, কিন্তু বাড়তি ঝামেলা এবং দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পাওয়ার একটা সহজ উপায় বেরিয়ে আসবে।
উপযুক্ত তথ্যউপাত্তের প্রমাণ নিয়েই তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।বলে দাবি করে তিনি বলেন, ওরা দলের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তাদের নানাবিধ কর্মকান্ডও দলের বিপক্ষে যাচ্ছিলো। তাদের নিজ দল যেখানে পাতানো নির্বাচন বর্জন করে প্রতিহতের জানবাজি লড়াইয়ে অবতীর্ণ সেখানে ওরা লাঙ্গলের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালায় কার স্বার্থে! এটা তো তার নিজ দলের সাথেই প্রতারণার সামিল।
বিগত নির্বাচনগুলোতেও তারা একই কাজ করেছে। কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু নামমাত্র বিএনপি করেন। তিনি বরাবরই সেলিম ওসমানের তল্পিবাহক। সেলিম ওসমানের হুকুম ছাড়া এদিকওদিক নড়াচড়ার ক্ষমতা তার নেই। কারণ, তার ভাই কিসমত হাশেমের হাতে বঙ্গবন্ধরু আত্মস্বীকৃত খুনির গন্ধ লুকিয়ে রয়েছে। অপর ৪ জন নিয়মিতই সেলিম ওসমানের নির্বাচনি প্রচারণার উঠান বৈঠকে যোগদান করে বক্তৃতা দিতেন।’
তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ হিসেবে সূত্রটি জানিয়েছে, বর্জনকৃত নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই সাময়িকভাবে তাদেরকে এ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
৬ জনের বহিষ্কারকান্ডে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে মতামত জানতে বেশ কয়েকবার তার মোবাইলে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এস.এ/জেসি


