প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন আইভী-আনোয়ার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:০১ পিএম
আজ প্রধানমন্ত্রী সমাবেশে উপস্থিত থাকবের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন সহ দলের সর্ব স্থরের নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয় আইভী ও আনোয়াপন্থীরা আজকের এই নির্বাচনী সমাবেশ সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তাই ওসমানী স্ট্যাডিয়ামের আজকের এই সমাবেশ সফল করার জন্য বিভেদ ভুলে সকলেই মাঠে নেমেছেন। তারা আজকের সমাবেশে দলীয় প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান সহ দলের মনোনীত সকল প্রার্থীও জন্য ভোট চাইবেন। এদেকি প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তারা একজন অপরজনকে ফোন করছেন এবং ভয়েজ ম্যাশেজ দিয়ে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। যদিও একটি মহল প্রচার করছেন মেয়র আইভী শামীম ওসমানের ডাকে সারা দিচ্ছেন না এবং আইভীকে নির্বাচনী প্রচারে দেখো যাচ্ছে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ৪ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জে আসছেন তাতেও মেয়র আইভীর কোনো বিকার নেই।
আইভী থাকবেন কি থাকবেন না এটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ উল্টো। প্রথমত মেয়র আইভী প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দিতে হবে বলে কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন। কারন তিনি যেহেতু মেয়র পদে রয়েছেন তাই তিনি আইন মোতাবেক একেবারে প্রকাশ্যে গলসংযোগ নামতে পারেন না।
তবে তিনি তার সমর্থকদের পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাদেরকে ভোট দিতে হবে। দলের প্রার্থীদের ভোট দিতে হবে। এমনকি জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমানকে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী সন্মান করে তার আসনে অন্য কোনো প্রার্থী দেন নাই তাই তাকেই ভোট দেবেন তিনি এবং তার সমর্থকদেরও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে বলে দিয়েছেন।
তারাছা এই দুই এমপি এমনিতেই জয়ী হবেন বলে মনে করেন আইভী। তারপরেও তিনি তিনি তার অবস্থান থেকে চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন।
এদিকে শামীম ওসমান বার বার আইভীকে ঠেলিফোন এবং ম্যাশেজ দেওয়ার পরেও আইভী তাতে সারা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে জানতে মেয়রকে টেলিফোন করা হলে মেয়র বলেন, এটা সত্য নয়। শামীম ভাইয়ের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন গত ৩১ ডিসেম্বর রবিবার শামীম ভাই আমাকে একটি ভয়েজ ম্যাশেজ পাটিয়ে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ১ জানুয়ারী সোমবার রাইফেল ক্লাবে দলের সবাইকে নিয়ে বসতে চান। তখন জবাবে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলেম রাইফেল ক্লাবে না বসে দলীয় কার্যালয়ে বসার জন্য। বিষয়টি নিয়ে আমি দলের সিনিয়র নেতাদের সাথেও কথা বলেছি।
সবাই তাতে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু শামীম ভাই নিরাপত্তার কথা বললেন। তিনি জানালেন রাইফেল ক্লাবটি বেশ সিকিউরড। তাই সেখানেই বসার জন্য। তবে আমি রাইফের ক্লাবে যেতে রাজী হইনি। তার অর্থ এই নয় যে আমাদের মাঝে নির্বাচন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে কোনো দুরত্ব রয়েছে।
আমার পরিস্কার বক্তব্য হলো আমি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় থাকবো এবং দলের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে এই সমাবেশ সফল করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জের সর্ব স্থরের জনগনকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত থেকে এই সমাবেশ সফল করার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।
ফলে এর মধ্য দিয়ে পরিস্কার হয়ে গেলো শামীম ওসমান এমপি এবং মেয়র আইভীর মাঝে কোনো রকম দূরত্ব নেই। তাদের মাঝে বেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেই পরিস্কার জানা গেলো।


