Logo
Logo
×

রাজনীতি

লাঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রতীক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৭ পিএম

লাঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রতীক
Swapno

 

# লাঙ্গলের সাথে প্রার্থী কারা জানে না বন্দরবাসী
# নির্বাচন যেহেতু অইবো, হের মানে আরও কেউ খাড়াইছে : ভোটারদের ধারণা
# তাইলে তো লাঙ্গল পাস কইরাই লাইছে : সাধারণ ভোটার
# অন্য প্রার্থীদের বন্দরের পয়েন্ট ওয়ান পার্সেন্ট লোকও চিনে না বলে অভিমত

 

 

বন্দরের কলাগাছিয়ার ঘারমোড়া এলাকায় এক চায়ের দোকানে বেশ কয়েকজন ষাটোর্ধ্ব লোককে নির্বাচন নিয়ে আলাপ করতে শোনা যায়। বিশেষ করে সেই চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙ্গল মার্কাকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করার আহ্বান জানানোকে কেন্দ্র করে এই বিষয়ে আলাপের সৃষ্টি।

 

সেখানে এক ব্যক্তি (তাদের নাম জিজ্ঞাসা করা হয়নি) তার সাথে বসা আরেকজনকে বলছে কিরে মফি (সম্ভবত তার নাম মফিদুল) নির্বাচনের শুধু লাঙ্গলের নাম হুনি (শুনি), আর কেউ কি দাঁড়ায় নাই, লাঙ্গল লড়বো কার লগে। তাদের সাথে বসা তৃতীয় ব্যক্তি বলে ওঠেন, আরে বেডা; আর কেউ না দাঁড়াইলে আবার নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন যেহেতু অইব, হের মানে আরও কেউ দাঁড়াইছে।

 

মফি বলেন, হেইডাতো ঠিক; কিন্তু হুনছি এনো (এখানে) নৌকাও দাঁড়ায় নাই, ধানের শীষও দাঁড়ায় নাই, তাইলে লাঙ্গল এত মিডিং (মিটিং) মাইকিং করতাছে কিয়ের লাইগ্গা? এনো হের লগে ইলেকশনে খাঁড়ইয়া কি অন্য কেউ পাস কইরা সীট লইয়া যাইবোগা! তৃতীয় ব্যক্তি আবারও বলেন, আরে না, হের সামনে নি কেউ দাঁড়াইতে পারব! হেগো অনেক ক্ষমতা।

 

হুনছি (শুনেছি) ইলেকশনে হের ধারে-কাছেও কেউ নাই, হের লাইগ্গা আনন্দে এত টাকা উড়াইতেছে। দেখলিনা হেদিন (সেদিন) সমরক্ষেত্রে কত টাকা খরচা কইরা মিডিং করলো। যেত্তগুলা চের (চেয়ার) দিছে, আর যেই বড় কইরা পেন্ডেল সাজাইছে, হেরপর গাড়িরতো অভাব নাই। এন কত্তাগুলি টাকা যে গেছে। হেইডা হেরাই (তারাই) কইতে পারবো।

 

প্রথম ব্যক্তি আবারও বলেন, ইলেকশনে যদি লড়নের মত মানুষই না থাহে, লাঙ্গল যদি  আগেরতেই জানে হেরা পাস করবো, তাইলে এত টাকা খরচা, এত মিছিল, মিডিং মাইকিং করইরা লাভ কি? এহানে আর কেডায় খাঁড়াইছে হেইডাও মাইনষে জানে না, লাঙ্গলের লগে আর কি মার্কা আছে হেইডাও মাইনষে জানে না! তাইলেতো লাঙ্গল পাস কইরাই লাইছে। শুধু কলাগাছিয়াই নয়, বন্দরের বিভিন্ন এলাকায়ই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে আলোচনায় সমালোচনায় মেতে ওঠতে।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান। সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

 

অন্যদিকে এই আসন থেকে এবারও কোন প্রার্থী দেয়নি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নেই কোন বৃহত্তর কোন রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখানকার ভোটারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পরাজিত হওয়াতো দূরের কথা কোন প্রকার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতারও সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে থেকেই তাকে আসন্ন সংসদের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধুমাত্র আইনগত ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র।

 

স্থানীয়দের অভিমত নির্বাচনী হাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান। কিন্তু চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে এখন পুরোপুরি নির্ভার আছেন সেলিম ওসমান। আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী অংশগ্রহণ করছেন।

 

তার মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে একেএম সেলিম ওসমান (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ ভাসানী ভূঁইয়া (সোনালি আঁশ), ইসলামী ফ্রন্ট থেকে এএমএস একরামুল হক (চেয়ার) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ছামছুল ইসলাম (একতারা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে সেলিম ওসমান ব্যতিত অন্যান্য প্রার্থী তাদের রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীক বন্দর এলাকার পয়েন্ট ওয়ান পার্সেন্ট (০.১%) ভোটারও চিনেন না বলে স্থানীয়দের অভিমত। এস.এ/জেসি 

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন