Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘গণতন্ত্রের স্বার্থে ৭ জানুয়ারি ভোট দেবেন’

Icon

মাহফুজ সিহান ও মো. আল-আমিন

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম

‘গণতন্ত্রের স্বার্থে ৭ জানুয়ারি ভোট দেবেন’
Swapno

 

# জ্বালাও-পোড়াও মানুষ খুন এটাই হচ্ছে বিএনপির একমাত্র গুণ 
# মানুষের ভোটের অধিকারে বাধা দেয়া কেউ মেনে নিবে না

 

 

দীর্ঘ ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জ সফরকে সফল করতে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ফতুল্লার এ কে এম শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে নির্বাচনী জনসভার সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে।

 

সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে মাঠ। সকলে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে বক্তব্য শোনার জন্য। বিকাল ৩টা ১৩ মিনিটে নৌকার আকৃতির বিশাল মঞ্চে উঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি তার বক্তব্যে ‘বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র আছে প্রমাণ করতে রবিবারের (৭ জানুয়ারি) নির্বাচনে জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন।’

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের শেষ প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আমরা সরকারে রয়েছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যেখানে ২৩৩ টি আসন পেয়েছিল, বিএনপি পেয়েছিল ৩০টি আসন। এরপর থেকে বিএনপি আর নির্বাচনে আসতে ভয় পায়। যার জন্য তারা সন্ত্রাস করে।

 

২০১৪ সালের নির্বাচন বন্ধ করতে তারা ২০১৩ সাল থেকে অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে। ৩ হাজারের বেশি মানুষকে তারা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তাছাড়া বাস, লঞ্চ, প্রাইভেটকার, রেললাইন, বিমান পর্যন্ত তারা পুড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও মানুষ খুন এটাই হচ্ছে বিএনপির একমাত্র গুণ। তারা মানুষকে কিছু দিতে পারে না। 

 

সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্প তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানত্রেী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি। আওয়ামী লীগের আমলে ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আমরা স্বাক্ষরতার হার বাড়িয়েছি। ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল আমরা খাদ্যে স্বয়ংস্বম্পূর্ণ করেছি। 

 

বিএনপির দুর্বৃত্তায়নের জন্য দেশ পিছিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দুঃসাহস ও দুর্বৃত্তায়ন করেছে। তারা ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার করেছে। তারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ করেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর জনগণের মাথাপিছু আয় আমরা বাড়িয়েছি। আমরা ৩৩টি জেলাকে ভূমিহীন ভুক্ত করতে পেরেছি।

 

৮ লাখ ৪১ হাজার মানুষকে ঘর, ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। দেশের উন্নয়নে মানুষের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষিত করতে আইটি পার্ক করে দিচ্ছি। আগে যেখানে দেশের ২৮ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পেত, সেখানে আজ মানুষ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পাচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে হবে, কারণ উৎপাদন খরচ ইউনিট প্রতি ১২ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ভর্তুকি দিয়ে ৬ টাকা। 

 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে অনেক উন্নয়ন করেছি গত ১৫ বছর ধরে। আমরা এখানে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু যেটি নাসিম ওসমানের নামে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শীতলক্ষ্যায় গাজী সেতু, সুলতানা কামাল সেতু, মেঘনা সেতু, গোমতী সেতু নতুনভাবে তৈরি করে দেয়া হয়েছে।

 

তাছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শামসুজ্জোহা সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা হয়েছে, চাষাঢ়া থেকে খানপুর, গোদনাইল আদমজী ইপিজেড রাস্তা নাগিনা জোহার নামে আমরা তৈরি করে দিয়েছি। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর দ্বিতল রাস্তার কাজ চলছে। এছাড়া মেট্রোরেল করা হবে নারায়ণগঞ্জে। সোনারগাঁ, আড়াইহাজারে ইকোনমিক জোন তৈরি করে দিয়েছে। তাছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দিয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির দিকে নজর দেয়া হয়েছে।

 

তাছাড়া শেখ রাসেল পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ডিএনডি এলাকার উন্নতি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল তারা, কিন্তু তারা প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা নিজের অর্থায়নের পদ্মাসেতু তৈরি করে আমরা প্রমাণ করেছি আমরা পারি। 

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন যাতে না হয়, মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল। আমরা বলেছি, নির্বাচন হবে। ৭ তারিখে ভোট হবে। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটের অধিকার প্রমাণ করবেন। ভোটের এই মৌলিক অধিকার সাংবিধানিক অধিকার, সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন। প্রমাণ করে দিবেন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত আছে বিধায়ই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। 

 

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর পিছনে ফিরে তাকাবে না। যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, মানুষকে নিয়েই আমাদের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ সবসময় গণমানুষের দল। কারো মুখাপেক্ষী হবে না, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে।

 

করোনার সময় আমরা মানুষকে বিনা পয়সায় ভ্যাক্সিন দিয়েছি, ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছি, ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে, গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন এখন ১২ হাজার ৫০০ টাকায় বৃদ্ধি করেছি, এমন নজির আর পৃথিবীর কোন দেশে নেই। সব মানুষের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করে। আজ সারা বাংলাদেশে আজ সবার হাতে হাতে মোবাইল, সব জায়গায় ওয়াই ফাই। বাংলাদেশকে আজ আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। 

 

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের কথা টেনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন বিএনপি পুলিশের উপর হামলা করেছে। পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। অ্যাম্বুলেন্স জালিয়ে দিয়েছে। সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে। মহিলাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে। তারা রেললাইন কেটে দিয়েছে। যাতে দুর্ঘটনা ঘটে। মা তার সন্তানকে বুকে নিয়েই পুড়ে কয়লা হয়ে গিয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকারে বাধা দেয়া কেউ মেনে নিবেনা। যথাসময়ে নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের শেষ সভা নারায়ণগঞ্জ থেকেই।

 

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী আহবান জানিয়ে বলেন, যার যতখানি জমি আছে, তারা সেখানেই শস্য উৎপাদন করবেন। আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও ফাঁকা রাখবেননা। গণভবনকে আমি খামার বাড়িতে পরিণত করেছি। বাংলাদেশের কোন জমি অনাবাদি থাকবেনা। আমাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।     

 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীল উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপুসহ জেলা-মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন