Logo
Logo
×

রাজনীতি

শঙ্কা নিয়েই আগামীকাল ভোট

Icon

মাহফুজ সিহান

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৭ পিএম

শঙ্কা নিয়েই আগামীকাল ভোট
Swapno

 

২৪ ঘন্টা পরে বহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা আগেই দিয়েছে, তবে আজ নির্বাচনের আগের দিন ৬ জানুয়ারি ও ভোটের দিন ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ৪৮ ঘন্টার হরতালের ডাকায় ভোটারদের মনে নানা শঙ্কা ঘনিভূত হয়েছে।

 

তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রচারণার ইতি টানা হয় নারায়ণগঞ্জে। যেখানে খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। যার কারণে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, তারা প্রচারণার পুরোটা সময় ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে কোন মূল্যে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার পরিবেশ তারা রক্ষা করবেন।

 

ভোটকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সাথে প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীারা চোখ-কান খোলা রাখবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বিএনপির যে সকল হরতালের ডাক দিয়েছে তাতে যানজট তৈরি হতে দেখা গেছে। কিন্তু আমরা হরতালের ডাক যখন দিতাম সবকিছু বন্ধ হয়ে যেত। কারণ সেখানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। বিএনপির এসব কর্মকাণ্ড থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার যে আহ্বান জানিয়েছেন ভোটাররা তাতে সাড়া দিয়েছেন। তারা আগ্রহ নিয়েই ভোটকেন্দ্রে আসবে। ভোটের দিন যদি বিএনপি কিংবা অন্য কেউ ভোটারদের অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে চায় কিংবা কোন ধরণের অরাজকতা তৈরি করতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো ইতিমধ্যেই ভোটের মাঠে নেমে গিয়েছে, আমরাও আমাদের নেতাকর্মীদের প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। ভোটাররা নির্বিঘ্নে গিয়েই ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন।’

 

আরো একদিন আগে থেকেই নেতাকর্মীরা সজাগ রয়েছে উল্লেখ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা রাজনীতি করি, নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত কথা। বাঁচতে হলে বাঁচবো, মরতে হলে মরবো। কিন্তু ভোটারদের ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে কেউ বিরত রাখতে পারবে না।

 

আমি আমার মহানগরের নেতাকর্মীদের নিয়ে মহানগর এলাকার ১৭টি ওয়ার্ডে প্রচারণা চালিয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখেছি, ভোটাররা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভোট দেয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার ভোটারদের তা রক্ষার জন্য তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন। বিএনপি যাতে কোন ধরণের অরাজকতা করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি ওয়ার্ড, মহল্লায় আমাদের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবে।  

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি বাদে আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন ছোটদল স্বতন্ত্র প্রার্থী মোট ৩৪ জন। নারায়ণগঞ্জ- ২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় তারা ইতিমধ্যেই জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

 

তবে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এখন শক্তিশালী প্রার্থী ছাড়াও তারা আসলে কতজন ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে জয়ী হন সেই ফল দেখার। নারায়ণগঞ্জের দুটি আসন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার জমজমাট ভোটযুদ্ধ আশা করা হলেও এই আসনে বিএনপি কি ভূমিকা নেয় সেটি নিয়ে নানা আশঙ্কায় ভোটাররা।

 

জেলার সবচাইতে জমজমাট নির্বাচন আশা করা হচ্ছে রূপগঞ্জে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা শাহজাহান ভুঁইয়াকে। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা এবং তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার  ও জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এই আসনে নির্বানকে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপান্তরিত করেছে।

 

তবে এই আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা নানাভাবে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির হার্ডলাইনে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের কথায় কতখানি কান দিতে পারেন বিএনপি নেতারা সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

কেননা, নির্বাচনের আগের দিন ও নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করতে বিএনপির যে হার্ডলাইন কর্মসূচি তা উপেক্ষা করে আদতে এখানকার বিএনপি নেতারা ভিন্ন কোন চিন্তা করার অবকাশ পান কিনা সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সূত্র জানিয়েছে, রূপগঞ্জের মতো সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের বিএনপি নেতাদের সাথে বারংবার যোগাযোগ করেছেন সেখানকার প্রার্থীরা। কারণ রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার তিনটি আসনেই বিএনপির নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। 

 

এদিকে জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে ১২ জন করে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা জুড়ে স্ট্রাইকিং ফোর্সের ১০৪ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি (শুক্রবার) এই তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা‘র জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান সরকার।

 

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ২৫০ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা এক হাজারটি সেকশনে ভাগ হয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। উপকূলের ১৩টি উপজেলা বাদে সকল উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি করে স্ট্রাইকিং টিম নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই হাজার ৮৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে পুলিশ। কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত জেলা পুলিশ।’

 

নারায়ণগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানিয়েছেন, ‘৭ জানুয়ারি সারাদেশ ব্যাপী সংসদীয় আসনগুলোতে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।’

 

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পাটি, তৃণমূল বিএনপি সহ ১৩টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৩৪ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। জেলার ৫ টি আসন মোট ভোটার সংখ্যা ২২,৫৫,০৬০ জন। মহিলা ১১,০৭,০৬৬ জন, পুরুষ ১১,৪৭,৯৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ১৭ জন।

 

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৩,৮৫,৬১৬ জন। মহিলা ১,৮৮,৭২০ জন, পুরুষ ১,৯৬,৮৯৪ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মোট ভোটার ৩,৩৩,২৬৭ জন। মহিলা ১,৬২,১৩৯ জন, পুরুষ ১,৭১,১২৫ জন তৃতীয় লিঙ্গ ৩ জন। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে মোট ভোটার ৩,৪৫,৬৩৮ জন। মহিলা ১,৬৭,৪৮৯ জন, পুরুষ ১,৭৮,১৪৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গ নাই।

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৬,৯৬,১৩৯ জন, মহিলা ৩,৪৩,৬৯২জন পুরুষ ৩,৫২,৪৪১ জন তৃতীয় লিঙ্গ ৬জন। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মোট ভোটার ৪,৯৪,৪০০ জন, মহিলা ২,৪৫,০২৬ জন, পুরুষ২,৪৯,৩৬৮ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ৬ জন। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন