ভোটার ঠেকানোর স্বপ্নে বিভোর বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:০২ পিএম
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন। যাকে ঘিরে এই নির্বাচনকে প্রহসনমূলক ও একতরফা দাবি করে নির্বাচন রুখতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে দেশের সব থেকে বড় বিরোধী দল বিএনপি। এদিকে বিএনপির হাইকমান্ড নির্বাচন প্রতিহত করতে ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ঘোষণা করলে ও যা লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগের মাধ্যমেই পালন করেছে বিএনপি। এর মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে নতুন বছরে নতুন রূপে ১ জানুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত সেটির বাস্তবতা মেলেনি। কিন্তু এবার বিএনপি আগামী ৬ জানুয়ারী সকাল ৬টা থেকে ৮ জানুয়ারী সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা তিনদিনের হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে যেহেতু ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন যাকে ঘিরে প্রথম ৬ ও ৭ জানুয়ারী হরতাল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া শুরু করেছে জনমনে।
এদিকে কর্মসূচি নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা ধোঁয়াশার মধ্যে এতোদিন থাকলে ও নির্বাচনের আগমুহুর্ত্বে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা হওয়াতে উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এটি যে পুরোপুরি একটি পাতানো নির্বাচন- সেটি প্রমাণে সবকিছু করবেন তারা। নিজস্ব কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি বিশ্বের গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে পাশে পেতে চায় বিএনপি।
কর্মসূটি চলমান গতিতে চলবে তা ছাড়া নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ২৪ ঘন্টা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এরই মধ্যে ভোট বর্জন করে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে যাচ্ছে। গত ২০ ডিসেম্বর দলটি নির্বাচনকে ১ তরফা উল্লেখ করে তা বর্জনের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে দলটি সরকারকে সব ধরনের অসহযোগিতা করতে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এরপর থেকে বিএনপি নির্বাচন বয়কটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছে।
এবার নির্বাচন বর্জন করে টানা তিনদিনের হরতাল পালন করবে দলটি। এদিকে নেতাকর্মীরা বলছে সাধারন জনগণ এবার নির্বাচনে ভোট দিতে যাবে না। সকলেই এই সরকারের নির্বাচনকে প্রতিহত করতে রাজপথে থাকবে তা ছাড়া নির্বাচনের আগমুহুর্ত্বে বিএনপির শেষ আন্দোলন রাষ্টযন্ত্রের বিপরীতে কতটুকু ভূমিকা দেখাতে পারবে তারা সেটাই দেখার বিষয়।
দলীয় সূত্র বলছে, এক দিকে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো। বিপরীতে নির্বাচন ঠেকাতে টানা ৩ দিনের হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দল বিএনপি। এদিকে গত ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ভোটের মাঠে উত্তাপ ও ছড়িয়েছিল।
১০ বছর পর এবার দলটি নির্বাচন বর্জন করলে ও কেন্দ্রীয়ভাবে হরতাল ঘোষণা করলে ও প্রতিহতের ঘোষণায় যেতে চায় না। জানা গেছে, তাদের ভাবনায় আছে, উত্তাপ ও সহিংসতা না ছড়িয়েই ভোটারদের উপস্থিতি কমানো। নেতাকর্মীরা বলছে, বিএনপি এবার নির্বাচন ঠেকানোর চেয়ে ভোটারদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ৭ জানুয়ারি ভোটের দিনে সরকারবিরোধী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে বিষয়ে জনমত তৈরিকে প্রাধান্য বেশি দেওয়া হচ্ছে।
তাছাড়া গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশ পন্ড হয়ে যাওয়ার পর চার দফায় পাঁচ দিন হরতাল এবং ১২ দফায় ২৪ দিন অবরোধ কর্মসূচি করে বিএনপি। এরপর ভোট ঠেকাতে জনগণকে ভোট বর্জনের পাশাপাশি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। যদিও অসহযোগ আন্দোলনের কার্যকারিতা নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণকে ভোট প্রদানে নিরুৎসাহিত করতে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ১১ দিন গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে বিএনপি।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের থেকে আলোচনা করে জানা গেছে, জোর কর্মসূচি থেকে সরে আসতে। কারণ মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নকারীরা সাড়া এতো না দিলে ও শেষ মুহুত্বে ব্যাপক আন্দোলনের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। এদিকে হরতাল সমর্থনে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে দেখা যাচ্ছে নেতাকর্মীরা রাজপথে রয়েছেন। আগামী টানা তিনদিন আত্মগোপনে থেকে ও কৌশল মোতাবেক শান্তিপূর্নভাবে হরতাল কর্মসূচি পালনের দাবি বিএনপির।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, এই অবৈধ সরকার বিগত দুই ট্রামের মতো করে এবার ও আগামী ৭ জানুয়ারি একটি পাতানো নির্বাচন করতে যাচ্ছে। আমি যাকে প্রতিহত করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি যে হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে, সেটাকে বাস্তবায়ন করতে আমরা মহানগর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছি। আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে আগামী ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মী ও দেশের সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করবে। আমরা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই হরতাল ও দেশের জনগনের দাবি রাজপথে থেকেই সফল করবো ইনশাআল্লাহ।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী কাল সকাল ৬টা থেকে ৮ জানুয়ারী সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা হরতাল পালনে রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। যার নেতৃত্ব দিবে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্থরের সাধারন জনগণ। দীর্ঘদিন আমরা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেছি। এবার নির্বাচনকে টার্গেট করে টানা তিন দিনের হরতাল দেওয়া হয়েছে আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সকল নেতাকর্মীদের সাথে যোগযোগ করেছি তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে সব্বোর্চ ত্যাগ স্বীকার করা হবে রাজপথে।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের এই অবৈধ নির্বাচন নিয়ে কোন চিন্তিত না। কারণ আমরা জানি এই অবৈধ সরকার নির্বাচন করে এদেশে মাটি থেকে আর টিকে থাকতে পারবেনা। এই সরকারের পতন অনিবার্য। আর আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের যে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেটা দেশের জনগণ ভোটকেন্দ্রে নিজের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ না করে নীরব থেকেই পালন করবে। আর ইতিমধ্যে আমরা যে হরতাল অবরোধ কর্মসূচি গুলো পালন করেছি সেভাবেই শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের এই কর্মসূচি পালন করে যাবো।
এই হরতাল কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা কর্মীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আমাদের কর্মসূচি সফল করবে। এই সরকার তো এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে তাদের মনের ভিতর ভয় ঢুকে গেছে, তারা বুঝতে পেরেছে তারা আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেনা যাকে ঘিরে তারা এখন উল্টাপাল্টা কথা বলছে। কিন্তু আমরা আশা রাখছি দেশের জনগণ আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে নীরব থেকে এই সরকারের পতন ঘটাবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী ৩ দিনের হরতার কর্মসূচি এ ঘিরে কেন্দ্র আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে রাজপথে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে। আমরা বর্তমানে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। এই সরকারের অবৈধ ভোট ঠেকাতে আমরা জনগণদের সাথে নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকবো সকল বাধা ডিঙিয়ে আমাদের কর্মসূচি সফল করব।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে শুধু বিএনপি নয় কেউই লড়তে পারবে না। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র অনেকটাই শক্তিশালী এখানে প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল উদ্ধতম লোক রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে যাওয়া আমাদের অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু আমরা জনগণদের সাথে নিয়ে রাজপথে থেকেই এ সরকারের পতন ও আগামী ৭ জানুয়ারি অবৈধ ভোট প্রতিহত করতে রাজপথে থাকবো। আর আমাদের মূল হাতিয়ার হল দেশের জনগণ। আমরা তাদেরকে সজাগ করতে চাই এই সরকারের বিরুদ্ধে তারা যাতে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী সরকারের পক্ষে ভোট দিতে কেন্দ্রে অংশগ্রহণ না করে। সেই বার্তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই হরতালের আন্দোলন দিয়েছে কেন্দ্র আমরা মহানগর যুবদল সকল ত্যাগ স্বীকার করেই রাজপথে হরতাল পালন করতে প্রস্তুত আছি।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী ৬,৭ ও ৮ জানুয়ারী কেন্দ্র থেকে আমাদের যে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এই কর্মসূচিকে যথাযথভাবে পালন করব। আজকে সন্ধ্যায় পঞ্চপটির মোড়ে আমরা হরতালের সমর্থনে মশাল মিছিল করেছি। আমরা এই সরকারের পাতানো নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবো। আমরা আশা করি দেশের জনগণ তাদের এই নির্বাচনকে সমর্থন করবে না, সকলের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করবে না।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, এই অবৈধ সরকারের নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে আমাদের যে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই হরতাল কর্মসূচি পালন করবো। আমাদের এই হরতাল কর্মসূচিটা হবে শান্তিপ্রিয়। ইতিমধ্যে আমরা যে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি একটা কর্মসূচির মধ্যেও আমাদের কোন সহিংসতা রূপ দেখা যায়নি। এই হরতাল কর্মসূচিও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সফল করবো। আর কেন্দ্র আমাদের যে হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে এটা সাধারণ জনগণই সফল করবে এই অবৈধ সরকারের নির্বাচনকে প্রতিহত করে ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে নিরব থেকেই এই সরকারের পতন ঘটাবে। এস.এ/জেসি


