আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গতকাল সকাল ৮ টা থেকে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৫ বছর পর পর ভোটাররা ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেঁছে নেন। তবে এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে তেমন কোন পরিবর্তন হলেও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে পরিবর্তন হয়েছে। এখানে নৌকার প্রার্থী কায়সার হাসনাত নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন ছিল সর্বত্র আলোচনায়। কেননা এখানে আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল। টানা তৃতীয় বারের এমপি নৌকার প্রার্থীকে ফেল করানোর জন্য তারই দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়া। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকারও এই এখানে নির্বাচন করেছেন।
তবে তৈমুর আলম খন্দকার ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন। এরপর থেকে তিনি প্রায় বছর দুয়েক আলোচনার বাইরে থাকেন। বিএনপি নেতারা বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে ওসমান পরিবারের মদতে নাসিক নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাকে দল বহিস্কার করে। এই নির্বাচনে যদিও তিনি আশা করেছিলেন জয়ী হবেন। কিন্তু তখন ওসমান পরিবারের মদতে নির্বাচনে যেয়ে তাকে বলির পাঠা হতে হয়। কেননা তাকে জয়ী করার আশা দেখানো হয়েছিল।
রূপগঞ্জে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার সোনালী আঁশ প্রতীকে মাত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৮১৪ ভোট। যেখানে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে (রূপগঞ্জ) নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী ১ লাখ ২২ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিপরীতে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়া কেটলি প্রতীকে ৩৪ হাজার ১৪১ পেয়েছেন ভোট।
তাছাড়া তৈমূর ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী গোলাম মর্তুজা ৩১৫ ভোট, জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ১৯৬ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের একেএম শহীদুল ইসলাম চেয়ার প্রতীকে ৬০৭ ভোট, জাকের পার্টির যোবায়ের আলম ভুঞা ৪৫৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদিন চৌধুরী ট্রাক প্রতীকে ২৪৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান আলমিরা প্রতীকে ১৪৯ ভোট পেয়েছেন।
অপরদিকে এর আগে ২০১১ সনে নারায়ণগঞ্জ প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তিনি বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে অংশ গ্রহন করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনের ভোটের আগের দিন তাকে কোরবানি হয়ে বলির পাঠা হতে হয় বলে তিনি নিজেই বিভিন্ন সভায় বেল বেরান। নাসিক ২০১১ সনের নির্বাচনের ভোটের আগের রাতে বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার নির্দেশে তাকে বসে পরতে হয়।
তখনকার নাসিক নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই হেভিওয়েট নেতা বর্তমান এমপি শামীম ওসমান ও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রার্থী হয়ে ছিলেন। ভোটের আগের দিন রাতে তৈমূর আলম খন্দকার বসে পড়ায় মেয়র আইভী সহজে জয় পেয়ে যান। আর দলের সিদ্ধান্তের কারনে তৈমূর বসে পড়ায় তাকে বলির পাঠা হতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব হয়ে আবারও আলোচনায় আসেন। যদিও এখন তাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মীর জাফর বলেও ডাকেন। এই নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে পরাজয় বরন করে সেই তৃতীয়বারের মত বলির পাঠা হতে হয়। কেননা রূপগঞ্জের ভোটের মাঠে তৃনমূল বিএনপির তৈমুর আলম তেমন আলোচনায় ছিলেন না। এখানে আওয়ামী লীগের দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। ত্ইা তাকে সেই আবারও বলির পাঠা হতে হয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল।
রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার একটি কমিটমেন্টের উপর ভর করে এই দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি গ্রীণ সিগন্যাল পেয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ নিজের স্বার্থেই তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতায় রেখেছে। তৈমুর আলম নৌকার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দিতায় থাকলেও সবশেষ তাকে পরাজয় বরণ করে নিতে হয়। তিনি এমপি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও তার সেই স্বপ্ন পুরন না হয়ে তা স্বপ্নই থেকে গেল। আর এতে করে সচেতন মহলের মতে তিনি বলির পাঠায় হ্যাট্রিক হন।
তবে রাজনীতিতে সামনের দিন গুলোতে তিনি কতটা এগিয়ে যেতে পাবনে তা নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। কেননা তৃনমুলকে বিএনপিতে আসার পর তিনি যে মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তার সেই মিশনও ব্যর্থ হয়েছে। আর এজন্য সরকারি দল ইবা তাদেরকে কতটুকু টানবে তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। তবে বার বার পরে গিয়ে তৃনমূল বিএনপির তৈমূর আলম আলোচনায় উঠে আসেন। এই নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আর সেই পদে না থেকে তৃমূল বিএনপির মহাসচিব পদে রয়েছেন। এস.এ/জেসি


