Logo
Logo
×

রাজনীতি

আন্দোলন সফল দাবি বিএনপি’র

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৭ পিএম

আন্দোলন সফল দাবি বিএনপি’র
Swapno

 

গতকাল বহুল আলোচিত-সমালোচিত প্রতীক্ষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনেক ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ছিলো বহির্বিশ্ব থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ জনগনের। এদিকে এই নির্বাচনকে অবৈধ ও পাতানো নির্বাচনে আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়নি দেশের সব থেকে সব বিরোধী দল বিএনপি। যাকে ঘিরে দফায় দফায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলণ করে আসছে।

 

তার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের মাধ্যমে যে নির্বাচন বর্জনের কর্মসূচি এসেছিলো তা বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক হারে পালন করতে দেখা গেছে। যার প্রতিফলন এই নির্বাচনের মাধ্যমে পেলো বিএনপির নেতাকর্মীরা। সরেজমিন থেকে শুরু করে অনলাইন মিডিয়া বা ফোনে ধারনকৃত ভিডিও ধারাই এটাই প্রমানিত হয়েছে যে দেশের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোটারের সংখ্যা ছিলো সামান্য।

 

প্রতিটি কেন্দ্রে ছিলো আওয়ামীলীগ তথা নৌকার পাতানো পোলিং এজেন্ট এমনটাই দাবি জানিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা ও অনলাইন বিভিন্ন জাতীয় মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলগুলো। ভোটারদের এমন কেন্দ্রমুখী না হওয়া বিএনপির প্লাস পয়েন্ট হিসেবেই দেখছে তারা। তারা বলছে, দেশের জনগণ এই সরকারের ভোট বর্জনের মাধ্যমে জানিয়ে দিলো দেশের সাধারণ জনগণ বহু সচেতন। তারা ভালোকে ভালো ও খারপকে খারাপ বলতে পারে। এমনটাই প্রমান দিয়েছে তারা এই সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ না নিয়ে।

 

এই সরকার এবার বুঝতে বাধ্য হবে এটাই সাধারণ জনগণের নিরব প্রতিবাদ এমনটাই দাবি বিএনপির। বিএনপির নেতাকর্মীরা আরো ভাষ্য দিয়ে যাচ্ছে যে বর্তমানে তাদের চলমান আন্দোলন সামনে আরো তীব্রতা হবে। তারা এখন কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছে তারা কি নির্দেশনা দেয় সে অনুযায়ী সরকার পতনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত রাজপথে থাকবে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বর্তমানে জনগনের হাতে তাদের প্রাথমিক বিজয়ে তারা আন্দোলন তীব্রতা করতে চায়। তারা আরো বলছে, শীঘ্রই এবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যার মাধ্যমে দেশের জনগণ তাদের সকল চাহিদা ফেরত পাবে।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, আজকে দেশের জণসাধারনের বিজয় সুনিশ্চিত হয়েছে। এই সরকার জনগণকে জিম্মি করে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে ধূলোই মিশিয়ে দিয়ে এটা স্বৈরাতান্ত্রিক কায়েমের লক্ষে যে এক তরফা যেন তেন ভাবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলো সেই ডামি নির্বাচনকে এই দেশের মানুষ আজ ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে এই সরকারের ডাকে সাড়া না দিয়ে, ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে আওয়ামী লীগকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

এই সরকারের এই বাংলাদেশে যে স্বৈরাতান্ত্রিক কায়েম করতে চেয়েছিলো তার প্রতি এটা চরম রায় দিয়েছে দেশের জনগণ। আজকে এই সরকার ফ্লস ভোট ও মৃত্যু ব্যক্তিদের ভোট, সিল মারাসহ সকল ভোট দিয়ে অপকর্মের মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি করার জন্য বহু চেষ্টা করেছে। এটা এই দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে আর তাদের এই অপকর্মকে বিশ্ববাসী ও দেখেছে।

 

তিনি আরো বলেন, আজকে কেউ ভোট দিতে কেন্দ্রমুখী হয় নাই এটা সত্য কথা, আমি মনে করি এই সরকার এই সত্যকে মেনে নিয়ে এবং অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি করবে অন্যথ্যায় তাদের যে পরাজয়ের দিন সচিত হলো ক্ষন শুরু হলো। তাদেরকে এই দেশের মানুষ এবার ক্ষমতা থেকে বিদায় করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে এবং এই দেশের মানুষের যে হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

 

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, নির্বাচন বর্জনের আহ্বানের আমরা যে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছি। সরকারের অবৈধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা সফল হতে পেরেছি। কারণ আপনারাসহ সারাবিশ্ব দেখেছে এই অবৈধ নির্বাচনে কোন সাধারণ জনগণ সাড়া দেয়নি। প্রতিটি কেন্দ্র ছিল ফাঁকা ইতিমধ্যে আমরা আমাদের অনেক লোক দিয়ে চেক করিয়েছি।

 

আমাদের ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানের নির্বাচনে কেন্দ্র গুলোর মধ্যে ভোটার সংখ্যা ছিলই না। শুধু আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীরা বাহিরে অবস্থান করে ছিলেন তাছাড়া কেন্দ্রের ভিতর ছিল পুরো ফাঁকা। আমাদের ধারণা অনুযায়ী আমরা বলছি সারাদেশে ২০% ভোট কাস্ট হয়নি। বর্তমানে আমাদের আন্দোলন চলমান অতি শীঘ্রই জনগণের সারা নিয়ে দেশে আরেকটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা এই সরকারের পাতানো নির্বাচনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলণ করেছি এটা দেশের সাধারণ জনগণ সমর্থন করেছেন। আমি দেশবাসী ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানাই তারা যে এই সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্বাচন বর্জন করে কেন্দ্রে অংশগ্রহন করেনি। আমরা আজকে যেমন দেখলাম সারা বাংলাদেশে ভোটার সংখ্যা শুধু কম বললে ভূল হবে, শূন্য ছিল। দেশের জনগণ যে এই সরকারকে চায় না বা সমর্থন করে না এটা তার নিরব প্রতিবাদ।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের রূপগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী গাজী অপর দিকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী শাহাজাহান তারা এলাকায় ভোট কিনে ও ১০/১৫% এর বেশি জনগনকে কেন্দ্রমুখী করতে পারেনি। এটা আমাদের বিজয় আমরা যে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছিলাম এটা যে সাধারন জনগণ সফল করছে এটা তারা বুঝেই করেছে।

 

কারণ তারা জানে যে আমরা বর্তমানে তাদের হয়ে কাজ করছি। তাদের নকল অধিকারের পক্ষে আমরা আন্দোলন করেছি। আর আমাদের সফলতা এসেছে। এবার আমরা আমাদের চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাবো যতই বাধা আসুক না কেন জনগনকে নিয়েই আমরা এই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন নিয়ে মাঠে থাকবো এই সরকারের পতনের মুহুর্ত পর্যন্ত। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন