সদর-বন্দরের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়নি।
গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল ৮ টা থেকে টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রে একযোগে চলেছে ভোটগ্রহন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সদর-বন্দরসহ ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহনের কার্যক্রম শুরু হলেও বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের তেমন উপস্থিত চোখে পড়েনি।
পিজাইডিং অফিসারদের তথ্য অনুসারে, এই আসনের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রায় ২৫’শর অধিক ভোটারদের তালিকা ছিলো। কিন্তু সে অনুযায়ী গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অর্ধশতাংশ ভোটারও উপস্থিত ছিলো না। নারায়ণগঞ্জে মোট ভোটারের সংখ্যা ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০জন। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ জন। মহিলা ২ লাখ ৪৫ হাজার ২৬ জন, পুরুষ ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গ ৬ জন।
নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনের জয়গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়, ১৩নং নলুয়া সর. প্রা. বিদ্যালয়, না.গঞ্জ-হাই স্কুল, সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর সোনাকান্দা উচ্চবিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, সকাল বেলাতে মানুষের আনাগোনা একটু কমই থাকে। ভোট শুরু ২ ঘন্টার পর থেকে আমাদের ভোট কাস্টিংয়ের প্রথম ধাপে আমরা ৫% ভোট পেয়েছি। তবে আসা করছি বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারের সংখ্যা ও বাড়বে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে একই প্রশ্ন তাদের কাছে ফের রাখলে তারা বলেন, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য মাইকিং করা হয়েছে এরপরেও তেমন ভোটার ভোট দিতে আসেনি। তবে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩০% ভোট গ্রহন সম্পূর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রে কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। এছাড়া কোনো জাল ভোট পরেনি। পরিবেশ ভালো ছিলো, এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে একেএম সেলিম ওসমান-লাঙ্গল, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ ভাসানী ভূঁইয়া-সোনালি আঁশ, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে এএমএস একরামুল হক-চেয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ছামছুল ইসলাম একতারা প্রতীক পেয়েছেন।
রহমান নামে এক ভোটার বলেন, ভোট দিতে এসে মানুষ কি করবে। আমার পরিবারে ভোটার রয়েছে ৫জন কিন্তু তার মধ্যে ভোট দিতে এসেছি মাত্র আমি। বাকিরা আসবে না। কারণ তাদের কথা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কি করবো বিরোধী তেমন কোনো শক্ত দল নেই। এছাড়া শুধু আমার পরিবারই না বা শুধু এই আসনই না ভোট দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই অনেকের। সকাল থেকে আমি এলাকার আশেপাশে কয়েকটি কেন্দ্রেই ঘুরেছি কিন্তু কোথাও কাউকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখিনি। কেন্দ্রে গেলেই দেখি প্রার্থীদের সমর্থক ছাড়া আর আনসার বাহিনী ছাড়া কোনো লোকই নাই। এস.এ/জেসি


