Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীমের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে ভুল করেছেন পলাশ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৩০ পিএম

শামীমের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে ভুল করেছেন পলাশ
Swapno


# সারা দেশে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রাথী জয়ী ৬০, পলাশও হতে পারতেন তাদের সঙ্গে আরো একজন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের উপর্যুপরি অনুরোধের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কাউসার আহম্মেদ পলাশ। কারণ এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জিতে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিলো পলাশের। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে পারতেন এবং নির্বাচনে অংশ নিলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতো।

 

 

কারণ এবারের নির্বাচনে মোট ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছে। তাদের ৬০ জনই আওয়ামী লীগের। যারা সাহস করে নির্বাচনটা করেছে তাদের মাঝে এই বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র পদে দাঁড়িয়ে এমপি হয়েছেন। তাই নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের মতে, এবার পলাশ যদি শামীম ওসমানের অনুরোধ না শুনে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে থাকতো তাহলে হয়তে জিতে যেতো। কারণ শামীম ওসমান দশ বছর ধরে এমপি এবং এবার নিয়ে মোট চার বার এমপি হলেন। আর এ দেশের সাধারন মানুষের একটি স্বাভাবিক ধরন হলো তারা বার বার কাউকে ভোট দেয় না।

 

 

এছাড়া বিগত দশ বছরে শামীম ওসমানের বেশ বড় কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রতি বছরই বর্ষাকালে ফতুল্লা বাসীকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মাঝে ডুবে থাকতে হয়। এতে বছরের অন্তত পাঁচ মাস ফতুল্লাবাসীকে চরম দুর্দশার মাঝে দিনাতিপাত করতে হয়। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দুটি থানায়ই বছরের পর বছর ধরে বেপরোয়া সন্ত্রাস চলছে। চারিদিকে মাধকের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শামীম ওসমান গত দশ বছর ধরেই মাদক নির্মূলের ঘোষণা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। তাছাড়া তার পারিবারিক সদস্যদের নামেও সন্ত্রাস ও ভূমি দস্যুতায় মেতে আছে বহু সন্ত্রাসী। তাদের কাছে ফতুল্লাবাসী অসহায়।

 

 

তাই শামীম ওসমান মুখে অনেক কথা বললেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়েছে খুবই কম। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যারা তার লোক হিসাবে পরিচিত তারা গত দশ বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অধীকাংশই বেশ কষ্টে আছে। তাই এবারের নির্বাচনে পলাশ যদি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকতেন তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটাররা। কারণ এই আসনে শামীম ওসমানের পর কেবলমাত্র পলাশই একজন সাহসী এবং গরীব দুঃখী মানুষের নেতা হিসাবে পরিচিত বলে তারা মনে করেন।  

 

 

এদিকে কাউসার আহম্মেদ পলাশকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে শামীম ওসমান নিজে পলাশকে টেলিফোন করে অনুরোধ করে বলেছেন পলাশ যেনো নির্বাচন না করে শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। পরে তিনি তার অন্যতম দুই কর্মী এবং আওয়ামী লীগ নেতা শাহ নিজাম এবং মীর সোহেলকে পাঠিয়েছেন পলাশের কাছে। তারা পলাশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন এবং নির্বাচন থেকে সড়ে যাবার অনুরোধ করেছেন। ফলে এক পর্যায়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। যার ফলে এবার শামীম ওসমান নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেন।

 

 

অথচ এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজেই প্রত্যেকটি আসনে যাতে একাধিক প্রার্থী থাকেন এই ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজনে তিনি ডামি প্রার্থী রাখার কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্যের পর সারা দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে তিনশরও বেশি প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করেছেন। আর তাদের মাঝে নব্বই শতাংশই আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারাই এবার ৬০ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তাহলে পলাশ কেনো সড়ে দাঁড়ালেন? অনেকে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে পলাশের একটি বড় ধরনের ব্যাক্তিগত ইমেজ রয়েছে। তার কর্মী সমর্থকেরও কোনো অভাব নেই।

 

 

তিনি নির্বাচন করলে সব দলের ভোটাররাই তার দিকে ঝুঁকতো। এছাড়া এবার আইনশৃংখলা বাহিনীও বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছিলো। যার প্রমাণ এতো বেশি পরিমাণ স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়ানোর পরেও সারা দেশে তেমন একটা সহিংসতা হয়নি। কারণ এই নির্বাচনটিতে যেহেতু বিরোধী দল অংশ নেয়নি তাই সরকার ও প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্ঠা করেছে নির্বাচনটি যেনো সহিংসতামুক্ত হয়। তাই পলাশ যদি শেষ পর্যন্ত সাহস করে দাঁড়িয়ে থাকতেন তাহলে নিঃসন্দেহে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে পারতেন তিনি এবং তার জয়ের সম্ভাবনাও ছিলো উজ্জ্বল।  এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন