Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুর্নীতির বরপুত্রের খাতায় চেয়ারম্যান এহসানের নাম

Icon

এল.আর. আকাশ

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩১ পিএম

দুর্নীতির বরপুত্রের খাতায় চেয়ারম্যান এহসানের নাম
Swapno

 

# সচিবদের সাথে মিলে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের মামলা
# এর আগেও সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি
# স্থানীয় প্রভাবশালী এমপির সাগরেদ হওয়ায় পার পেয়ে যান তিনি

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় জাতীয় পার্টির দাপট বরাবরই একটু বেশি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য একেএম সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে এমপি হওয়ার পর সেখানকার বেশ কিছু ক্যাডার জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে ফায়দা লুটতে শুরু করে।

 

যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই খুন, ছিনতাই ও ভূমিদস্যুতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছিলেন। সেসব ক্যাডারগণ তাদের অপকর্মের হাতকে আরও শক্তিশালী করতেই জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন হলেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ।

 

যার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের সাথে যোগ সাজশ করে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, প্রতারণা ও সরকারি কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গ করে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ফি আদায়কৃত ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে এবং নির্দিষ্ট কোডে জমা প্রদান না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

গত মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারি দুদকের ঢাকা বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মো.মনোয়ারুল ইসলাম এর দায়ের করা এই মামলায় চেয়ারম্যান এহসান (৫২) এর সাথে আসামী হিসেব আছেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুই সচিব শামিম মিয়া (৪৩) ও মোহাম্মদ ইউসুফ (৪২) এর নাম। এই ঘটনায় এর আগেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিলেন বলেও জানা যায়।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, আসামিরা বন্দর ইউনিয়ন পরিষদে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে একই ব্যক্তির নামে ২টি জন্ম নিবন্ধন আইডি তৈরি করে সেখান থেকে একটি সনদ গ্রাহককে সরবরাহ করে ও অপরটির আইডি সংরক্ষণ রাখা হয়। সেই জন্ম নিবন্ধনে শুধু জেলার নাম লিখে পূর্ণ ঠিকানা ব্যবহার না করা, ভূয়া, অস্বিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্ম নিবন্ধন আইডি তৈরি করা হয়।

 

এছাড়াও আসামি ইউসুফ, সাবেক সচিবের বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তর ফরম, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের প্রত্যয়নপত্র তৈরি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ নারায়ণগঞ্জের (স্থানীয় সরকার শাখা) এবং বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের স্মারক পত্র তৈরি করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ জাতীয় পাটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অনুসারী হওয়ার সুবাদে তিনি যেকোন অপরাধ করেই পার পেয়ে যান। কোন নাগরিক তার সমর্থন করলে তাদেরকে জন্মসনদ প্রদানসহ বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

তাছাড়া তার বাড়ির সামনের খাল দখল হলেও দখল কারীদের সাথে আঁতাত করে তিনি নীরব থাকেন বলেও জানা যায়। এর বাইরেও রেল লাইনের লীজ নেওয়া ব্যক্তিকে তার জায়গা থেকে জোর পূর্বক সরিয়ে দিয়ে সেখানে নিজেদের লোক দিয়ে দোকান বসানো, রেল লাইনের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করে জমির মালিককে নির্যাতন করার অভিযোগও আছে এহসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

 

এর আগেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে আঁতাত করে বন্দরের নবীগঞ্জ রেলসড়ক এলাকায় সরকারী বেশকিছু জায়গা দখল করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এত কিছু করেও শুধুমাত্র স্থানীয় প্রভাবশালী এমপির ছত্রছায়ায় আছেন বলে সকল অভিযোগ থেকে তিনি পার পেয়ে যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এস.এ/জেসি 


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন