শামীম-সেলিমের আসনেই সবচাইতে কম ভোট
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:২২ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নানা নাটকীয়তার মধ্যই সম্পন্ন হলো। গোটা দেশের ন্যায় নারায়নগঞ্জ জেলা জুড়েও উত্তেজনা কোনো অংশেই কম ছিলো না। এ উত্তেজনা মূলত দুইটি আসনে জয় পরাজয়ের হিসেব নিয়ে এবং বাকি তিনটি আসনে ভোটার উপস্থিতির সমীকরণ নিয়ে। ভোটের আগেই নারায়ণগঞ্জ এর পাঁচটি আসনের মধ্যো তিনটি আসনের জয়ী প্রার্থী অনুমেয় ছিলো।
এর মধ্যে নারায়নগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে সেলিম ওসমান এর জয় একরকম নিশ্চিত ই ছিলো। কারণ তাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোন হেভিওয়েট প্রার্থীই ছিলো না। তাই এই তিন আসনের নির্বাচন কেন্দ্রিক উত্তেজনা ছিলো মূলত ভোটার উপস্থিতি নিয়ে।
কেন্দ্রে ভোটার আনার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে এই তিন প্রার্থী গণসংযোগ করে ঘাম ঝরিয়েছিলেন। ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে গেছেন তার অনুসারীরাও। বিভিন্ন উঠান বৈঠকে ভোটার টানতে দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এত কিছুর পরও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন ব্যতীত বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বীহীন আসনে ভোট প্রদানের শতকরা হার ছিলো সবচেয়ে কম।
এর মধ্যো শতকরা হিসেবে সর্বনিম্ন ভোট কাস্ট হয়েছে আলোচিত সাংসদ শামীম ওসমানের আসন নারায়ণগঞ্জ-৪ এ যার পরিমান ৩১.০৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোট কাস্ট হয়েছে শামীম ওসমানের বড় ভাই সেলিম ওসমানের আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ এ যার পরিমান ৩৩.৫৮ শতাংশ।

তবে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে তুলনামূলকভাবে ভোট কাস্ট এর পরিমাণ ছিলো অনেকটা বেশি। শতাংশের হিসেবে পাঁচটি আসনের মধ্যো দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ ভোট কাস্ট হয়েছে এই আসনে। যার পরিমান ৫৪.৮৭ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের মধ্যে মূলত নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) এই দুইটি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।
যার ফলস্বরুপ এই দুই আসনে ভোট কাস্ট এর শতকরা হার যথাক্রমে ৫৫.১৪ ও ৪৪.৫৬ শতাংশ। বলা বাহুল্য, নারায়ণগঞ্জ-০১ (রূপগঞ্জ) আসনে শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লড়াই হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে। এই আসনে সর্বমোট লড়াই করেছেন ৯ প্রার্থী।
তবে নৌকা প্রতীক পাওয়া পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া। এছাড়াও আলোচিত দল তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার ও এই আসনে লড়াই করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তবে তাকে নিয়ে যেই পরিমান হৈচৈ হয়েছে সেই হিসেবে ভোটের মাঠে একরকম শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন তিনি।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৬ জন। তবে ভোট দিয়েছেন সর্বমোট ২ লাখ ১২ হাজার ৬২৪ জন। এর মধ্যো জয়ী প্রার্থী নৌকা প্রতিকে গোলাম দস্তগীর পেয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৩ ভোট। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজাহান ভুঁইয়া কেটলি প্রতীকে পেয়েছে ৪৫ হাজার ৭৫ ভোট। শতাংশের হিসেবে ভোট পড়েছে ৫৫.১৪ শতাংশ। এই আসনের ৯ জন পার্থীর মধ্যো ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম বাবুর উল্লেখ্যযোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট কাস্ট এই আসনে হয়েছে। ৫ জন এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৭ জন ভোটারের মধ্যো ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে জয়ী প্রার্থী নৌকা প্রতিকে নজরুল ইসলাম বাবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর সিকদার লোটন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ ভোট। শতকরা হিসেবে এই আসনে ভোট পড়েছে ৫৪.৮৭ শতাংশ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন (সোনারগাঁ) নিয়ে ভোটারদের তুমুল আগ্রহ ছিলো। এই আসনে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো ১০ বছর পর নৌকা প্রতিক পাওয়া কায়সার হাসানাত ও লাঙ্গলের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকাকে নিয়ে। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৮জন। ভোট প্রদান করেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ১১০ জন।এখানে জয়ী প্রার্থী নৌকা প্রতীকে কায়সার পেয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতিকে খোকা পেয়েছে ৩৫ হাজার ৮১১ ভোট। এই আসনে ভোট কাস্টিং এর হার ৪৪.৫৬ শতাংশ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) এই আসনটি অত্যন্ত আলোচিত আসন গোটা দেশজুড়েই। কারন এই আসনের সাংসদ আলোচিত ব্যাক্তিত্ব শামীম ওসমান। তবে এ আসনে সত্যিকার অর্থে ভোটের তেমন আমেজ ছিলো না। কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ ছিলো না এ আসনে।
তাই জয় পরাজয়কে ছাপিয়ে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছিলো ভোটারদের ভোট কেন্দ্রমুখী করা। এর লক্ষে গনসংযোগ, মতবিনিময় সভাসহ নানামুখী কর্মসূচী হাতে নিয়েছিলেন তিনি। তার অনুসারিরাও অনেক কর্মসূচি পালন করেছিলো। তবে লাভ হয়নি সত্যিকার অর্থে। কারণ নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের মধ্যো শতকরা হিসেবে সবচেয়ে কম ভোট কাস্ট হয়েছে এই আসনে।
এই আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৭ জনেরই জামানাত বাজেয়াপ্ত। এখানে সর্বমোট ভোটার ৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৯ জন। এর মধ্যো ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩০ জন। নৌকা প্রতীকে জয়ী প্রার্থী শামীম ওসমান পান ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮২৭ টি এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুরাদ হোসেন জামাল গোলাপ ফুল প্রতীকে পান ৭ হাজার ২৬৯ ভোট। শতকরা হিসেবে এই আসনে প্রদত্ত ভোট ৩১.০৬ শতাংশ যা পাঁচটি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনটিতে আওয়ামীলীগ নৌকার কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই আসনটি জাপার সেলিম ওসমানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সেলিম ওসমান শামীম ওসমানের সহোদর। এই আসনে সর্বমোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ জন। এই আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে জয়ী প্রার্থী জাপার সেলিম ওসমান পান ১ লাখ ৫২ হাজার ২৮৯ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একরামুল হক চেয়ার প্রতীকে পান ৬ হাজার ৬৭৬ ভোট। শতকরা ভোটের হার এ আসনে ৩৩.৫৮ শতাংশ যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৫ টি আসনের মধ্যে। এস.এ/জেসি


