নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ‘গুডবাই’ ধ্বনি ওঠেছে। মহানগর বিএনপির মাঠপর্যায়ের এক পরীক্ষিত নেতা তার প্রিয় দলকে গুডবাই জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। কারণ হিসেবে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল রাজনীতিকে দায়ী করে বলেন, ‘আমরা আর কতো ওয়েট এন্ড সী বাণী শুনবো। দেখতে দেখতে আর শুনতে শুনতে ১০ বছর পার করলাম। কোন রেজাল্ট তো পাচ্ছি না। আমার প্রিয় দলটি এখন ‘কার খালু’র দলে পরিণত হয়ে গেছে। অতএব গুডবাই হে আমার প্রিয় বিএনপি গুডবাই।’
নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ না হলেও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে নির্বাচন কমিশনের দাবি। ভোট বর্জন ও ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে বিগত ২ মাস যাবৎ আন্দোলনের লাগাতার কর্মসূচি অব্যাহত রেখেও জনসম্পৃক্ততার অভাবে তা বস্তবে রূপ দিতে পারেনি দলটি। বিএনপির লাগাতার আন্দোলন কিংবা পৃথিবীর মোড়ল হিসেবে খ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখ রাঙানিকেও আমলে নেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।
সংবিধানের দোহাই দিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের সাজানো ছকে নির্বাচন করে ফেলেছে। ‘স্বতন্ত্র কৌশলী’ নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ বিজয়ও ছিনিয়ে নিয়েছে। বিএনপি নেতারা এটাকে নির্বাচনি তামাশা আখ্যা দিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘ওয়েট এন্ড সী।’
২০১৪ সলের পর থেকে টানা দশ বছর বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই ‘ওয়েট এন্ড সী’র কব্জায় বন্দি ছিলো। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল রাজনীতির শিকার হয়ে এখন তারা ঘর ছাড়া। কেউ কারাগারে, অনেকে আত্মগোপনে আবার কেউ কেউ বহিষ্কারের বলির পাঁঠায় পরিণত হয়েছেন। দলের ভেতর নানামুখি কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে ওঠছে। নিজেরাই এখন নিজেদের শত্রু।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কম্বলের লোম বাছা। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও বহিষ্কার করা হয়। তৈমূরের অপরাধ ছিলো, দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া।
দীর্ঘ ২ বছর অপেক্ষা করেও তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কোন আলামত না দেখে তিনি তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মহাসচিবের পদ করায়ত্ত্ব করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনালী আঁশ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। আর কামালের অপরাধ ছিলো, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তৈমূরের পক্ষে কাজ করা। এই ২ জনকে দিয়ে শুরু হওয়া কম্বলের লোম বাছা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মহামারি রূপ ধারণ করেছে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছেন না। একে অন্যকে ল্যাং মারার প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে যান অনেকে। মূলত, জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি করাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় অন্তর্কলহ। নিজেদের পছন্দমতো পদ না পেয়ে কমিটি থেকে গণপদত্যাগ কার্যক্রম শুরু হয়। জন্ম নেয় ‘বিদ্রেহী গ্রুপ’। এ গ্রুপটিকেই আন্দোলনে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
কিন্তু অনেককে বহিষ্কার করা হলে এ গ্রুপের নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে ঘরবন্দি থাকে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গলের পক্ষে প্রচারণার অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ৬ নেতাকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে দলে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামীতে আন্দোলনের মাঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকেই দেখা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোস্বায় অনেকে রাজনীতিকেই গুডবাই জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা আর ‘ওয়েট এন্ড সী’র বাণী শুনতে রাজি নন। এস.এ/জেসি


