# আজ মন্ত্রী পরিষদের শপথ, নাম নেই মন্ত্রী গাজীর
# মন্ত্রীত্ব পেতে শামীম বাবুর দৌড়ঝাঁপ
নির্বাচনে জয়ীদের শুভেচ্ছা জানানোর রেশ কাটতে না কাটতেই এবারের নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তিন দিন পরেই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের এমপি সহ ২৯৮ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছে। গতকাল নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেয়ার পরে আজ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিতে যাচ্ছে। তবে এই মন্ত্রী সভায় কারা আসছেন আর কারা বাদ পড়ছেন এই আলোচনা জোরালো হয়েছে আওয়ামী লীগে।
বেশ কিছু নতুন মুখ নিয়ে নানা আলোচনা করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তবে নতুন মন্ত্রী পরিষদে কারা আসছে তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জে কারা আসছে তা নিয়েও এখন আলোচনা উঠেছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মত মন্ত্রী পায় এই জেলায়। তাও আবার শহরের কোন এমপি নন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিনের মাথায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, এবারও শুধু আওয়ামী লীগেরই মন্ত্রিসভা হবে। অর্থাৎ ২০০৮ ও ২০১৪ সালের মতো জাতীয় পার্টি কিংবা ১৪ দলের শরিকদের কাউকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, ৪৫ সদস্যের মন্ত্রীসভার মধ্যে অন্তত ১৫ জন বাদ পড়তে পারেন। বয়স, নানা বিতর্ক ও অদক্ষতার দায়ে এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাদ যেতে পারেন। এর মধ্যে টানা তিন মেয়াদে মন্ত্রীসভায় আছেন, এমন নেতাও বাদ পড়তে পারেন। এর বাইরে মন্ত্রীসভার তিনজন সদস্য নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন এবং তিনজন দলের মনোনয়নই পাননি।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এবার মন্ত্রীসভায় একেবারে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, এমন বেশ কজন থাকতে পারেন। এর মধ্যে থেকে জয়ী একাধিক সাবেক আমলার নাম আলোচনায় আছে। আলোচনায় রয়েছে তরুণ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নাম। এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রীসভায় থাকা দুই-তিনজন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদোন্নতি হতে পারে এমনটিও আলোচনা করছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা।
এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা তিন-চারবার সংসদ সদস্য হলেও অতীতে মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। এবার এমন তিন-চারজনের নাম আলোচনায় আছে। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় ছিলেন এমন কয়েকজনের ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে বলে আলোচনা আছে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, এবারও শুধু আওয়ামী লীগেরই মন্ত্রীসভা হবে। অর্থাৎ ২০০৮ ও ২০১৪ সালের মতো জাতীয় পার্টি কিংবা ১৪ দলের শরিকদের কাউকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, এমনিতে আওয়ামী লীগের বাইরে মাত্র চারটি দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে। ফলে প্রকৃত বিরোধী দল থাকছে না এমন সমালোচনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে যাঁরা মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন, আজ সকাল থেকেই হয়তো মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁদের ফোন করে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো শুরু হবে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে এবারও মন্ত্রী পরিষদে তিনজন এমপির নাম দাবী তুলেছেন তাদের সমর্থকরা। যদিও ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। কিন্তু তিনি আগামীতে মন্ত্রীত্ব পাবেন কি না তা জানা যায় নাই। তবে নতুন মন্ত্রী পরিষদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নাম দাবী জানিয়েছে তার অনুসারীরা। যদিও তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে বেড়ান তাকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি মন্ত্রীত্ব নেন নাই।
যদিও দলের একটি অংশে গুঞ্জন উঠেছে তিনি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার জন্য এবার দলীয় হাই কমান্ডে দৌঁড়ঝাপ করছেন। শুনা যাচ্ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু দৌঁড়ঝাপ করছেন। তবে ইতোমধ্যে যারা আজ মন্ত্রী সভায় শপথ নিবেন তারা ফোন পেয়েছেন।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে এমপি শামীম ওসমানকে মন্ত্রীত্ব দেয়ার জন্য গত নির্বাচন থেকে জোরালো ভাবে দাবী উঠেছে। দলের হাই কমান্ড তাদের এই দাবী তেমন ভাবে দেখছে না। এবারের মন্ত্রী পরিষদে যেহেতু অনেক নতুন মুখ চমক আসছে সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ছাড়া শামীম ওসমান সহ অন্যরাও মন্ত্রী হওয়ার জন্য আশা ছাড়েন নাই। কেননা রাজনীতিতে মন্ত্রীত্ব পেলে এর পরে আর তেমন কিছু পাওয়ার আশা থাকে না। সর্বোচ্চ পাওয়া হচ্ছে মন্ত্রীত্ব।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, আজ যারা মন্ত্রী পরিষদে শপথ নিবে তাদের থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সহ ৩৫ জন ফোন পেয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জের কোন এমপি মন্ত্রী পরিষদে শপথ নেয়ার জন্য ফোন পান নাই। তবে এখনো তারা হতাশ হন নাই। কেননা সামনে আর তালিকা বাকি রয়েছে। সেখানে হয়ত তাদের নাম চলে আসবে।
সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। এই সংকটের সময় দক্ষ ও যোগ্য মন্ত্রীসভা গঠন করা না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের মাথায় নিশ্চয়ই বিষয়টি আছে। তাই এই বিষয় সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী পরিষদ গঠন হচ্ছে।
৩৫ জনের নাম হলো; পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন, আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, ওবায়দুল কাদের, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, আসাদুজ্জামান খান, ডা. দীপু মনি, মো. তাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুখ খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, আবদুস শহীদ, সাধন চন্দ্র মজুমদার, র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আব্দুর রহমান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, আব্দুস সালাম, মহিবুল হাসান চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হক খান, জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নাজমুল হাসান পাপন, ইয়াফেস ওসমান।
প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন, বেগম সিমিন হোসেন রিমি, নসরুল হামিদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, মো. আলী আরাফাত, মহিবুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাহিদ ফারুখ, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রোমানা আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরী, আহসানুল ইসলাম। আজ তারা মন্ত্রী পরিষদে শপথ নিতে যাচ্ছেন। এস.এ/জেসি


