Logo
Logo
×

রাজনীতি

লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম

লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু
Swapno


# সিটি নির্বাচনে ‘ইভিএম হলো একটি চুরির বাক্স’
# সংসদ নির্বাচনে ‘আমরা এরকম সাজানো নির্বাচনে আর যাবো না’

 

 

রাজনীতিতে কখনো বলির পাঠা কখনো মীরজাফর একের পর এক খেতাব পেয়েই যাচ্ছেন নিজের কৃতকর্মের কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বর্তমান তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে হেরে জামানত হারিয়ে আদু ভাই খেতাবও পেয়েছেন।

 

গত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন সেই সাথে হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ব্যাপক হাঁক ডাক দিয়ে বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেন। সিটি নির্বাচনে হেরে তৈমুর আলম খন্দাকার বলেছিলেন, ‘ইভিএম হলো একটি চুরির বাক্স’।

 

সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে তৃণমূল বিএনপি থেকে সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে নেমে ভোটের মাঠে নিজেকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে জাহির করেন পরবর্তীতে ভোটের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করে জামানত হারিয়ে বলছেন ‘আমরা এরকম সাজানো নির্বাচনে আর যাবো না’।  

 

সূত্র বলছে, ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে বসিয়ে দেয়া হয় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দাকারকে। সে সময় তাকে নিয়ে একটি কথা উঠে বলির পাঠা বানানো হয়েছে তৈমুর আলম খন্দকারকে। পরবর্তীতে ক্ষোভে ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে অংশ নেননি তৈমুর আলম খন্দকার।

 

২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাতি প্রতীক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। যার কারণে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কৃত করেন। কিন্তু সিটি নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া পেলেও ভোটের ফলাফলে দাড়ায় পরাজয়। কারণ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ১লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট আর তিনি পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫শত ৬২ ভোট পেয়েছিলেন।

 

সিটি নির্বাচনে ভোটে হেরে তিনি বলেছিলেন ‘ইভিএম হলো একটি চুরির বাক্স’ ইভিএমে কোন ভোটে যাবেন না। মূলত, ২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র হওয়ার লোভের টোপ গিলে তিনি মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কারণ আওয়ামী লীগের একটি অংশের সমর্থন পাবেন এই লোভেই তিনি মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

প্রথমত কিছুটা সমর্থন পেলেও নির্বাচনের শেষদিকে এসে কোন রকম সমর্থন না মেলায় সিটি নির্বাচনে তার ভরাডুবি ঘটে। ঠিক তেমনিই আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে হঠাৎ আচমকা তৃণমূল বিএনপি নামক একটি দলে যোগ দেন যোগ দিয়ে তিনি মহাসচিব পদ ভাগিয়ে নেন। পাশাপাশি আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনে তৃণমূল বিএনপি থেকে প্রার্থী হন।

 

কারণ আওয়ামী লীগের সমর্থন বা আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই আসনে রাখা হবে না এমন টোপেই সংসদ প্রার্থী হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম দস্তাগীর গাজী এবং কেটলি প্রতীকের শাহজাহান ভূঁইয়ার সাথে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 

ভোটের ফলাফলে ১২৮টি কেন্দ্রে নৌকা মার্কা নিয়ে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক পেয়েছেন ১লাখ ৫৬হাজার ৪৮৩ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাজাহান ভুঁইয়া, স্বতন্ত্র (কেটলি) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৫ ভোট, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী  তৈমুর আলম খন্দকার (সোনালী আঁশ) পেয়েছেন ৩হাজার ১৯০ ভোট।

 

তৈমুর আলম খন্দকার সংখ্যায় এত অল্প ভোট পাওয়ায় জামানত হারানোর অবস্থা তৈরী হয়েছে। এতে করে সিটি নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বরাবরই বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করায় রাজনীতিতে তাকে এখন আদু ভাই বলা হচ্ছে। এছাড়া রাজনীতিতেও তার লোভের কারণে ভরাডুবি ঘটাতে তার রাজনীতির লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করছে রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। এস.এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন