স্বতন্ত্র থাকলে চ্যালেঞ্জে পড়তেন সেলিম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম
# সারা দেশে লাঙ্গলের যে নাজুক অবস্থা তার প্রভাব পড়তো এখানেও
সাহস করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়ালেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতো বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃবৃন্দ। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু অথবা জিএম আরাফাত যদি সাহস করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতেন তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।
আর সেই ক্ষেত্রে খালি মাঠে গোল দিতে পারতেন না সেলিম ওসমান এমপি এবং বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন তিনি। এমন কি অনেকে মনে করেন তাদের একজন যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতেন তাহলে আওয়ামী লীগের ভোটের বড় অংশ পেতেন তারা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের নেতা জিএম আরাফাত প্রার্থী হলে একেবারে পাল্টে যেতো চিত্র। একজন উদীয়মান তরুন হিসাবে তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করতেন। যদিও সেলিম ওসমান এমপি জাতীয় পার্টির বাহিরেও একজন হেভীওয়েট প্রার্থী।
তারপরেও এই আসনে বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোনো প্রার্থী নেই। তাই নৌকা না থাকলেও আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী থাকলে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতো বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এলাকার বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সমর্থক। কেনো না এমনিতেই সারা দেশে এখন জাতীয় পার্টির তেমন কোনো জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। লাঙ্গলের কোনো ভোট নেই। যার প্রমাণ মিলেছে সোনারগাঁ সহ সারা দেশে।
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি। তাই এবার নারায়ণগঞ্জের এই আসনে লাঙ্গলের বিপরীতে যদি আওয়ামী লীগের কোনো যোগ্য প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করতেন তাহলে তার জয়ের সম্ভাবনা ছিলো বলেই অনেকে মনে করেন। তখন আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় একটি অংশ তাকেই ভোট দিতো বলে মনে করেন।
প্রসঙ্গত এবারের এই নির্বাচনে মোট ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন যাদের মাঝে ৬০ জনই আওয়ামী লীগের। তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। আর এ ক্ষেত্রে সরাসরি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনাও ছিলো। নির্বাচনও হয়েছে অনেকটাই সুষ্ঠু। যদিও বিরোধী দল বিএনপি না থাকায় এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে আগে থেকেই গ্রহনযোগ্য হয়নি। নির্বাচনে দাবিকৃত ভোটের হার নিয়েও বিরাট প্রশ্ন উঠেছে।
কিন্তু তারপরেও একটি বড় সংখ্যার নিজ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু সেলিম ওসমান এমপির বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতেই সাহস পেলেন না। দাঁড়ালে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো বলে অনেকেই মনে করেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ হলো রাজধানীর একেবারে নিকটে। যার ফলে এখানে থাকতো মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজর। কিন্তু এখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউই এবারের এই সুযোগটি নিতে সাহস পেলেন না। যার ফলে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এবারও খালি মাঠেই গোল দিতে সক্ষম হলেন। এস.এ/জেসি


