Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনের পর হতাশায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:০৪ পিএম

নির্বাচনের পর হতাশায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা
Swapno

 
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি টানা ২ বছর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির আন্দোলন করে ও শেষ মুহুর্ত্বে এই আওয়ামী সরকারের অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের ইতি ঘটে। শুধু নির্বাচনের আগ মুহুর্ত্বে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় নির্বাচন বর্জনের যে লিফলেট কর্মসূচি পালন করেছেন তার মাধ্যমে দেশে এক ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

 

তা ছাড়া নানা নাশকতাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাঝেই নির্বাচনের ডেট পরা তা ছাড়া সকল দলের অংশগ্রহন না থাকায় নির্বাচনে বলা চলে একেবারেই সাধারন জনগণের উপস্থিতি ছিল না। শুধু বিএনপির একটাই টার্গেট সফল হিসেবে মনে  করছে নেতাকর্মীরা তা হলো নির্বাচনের দিন হরতাল যাকে ঘিরে কেন্দ্রের আশেপাশের পরিবেশে সাধারন জনগণ না থাকলে ও ভিড় ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যাকে ঘিরে বলা চলে নির্বাচনের যে কেন্দ্রগুলো ছিল সবগুলোই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে।

 

 

যার মাধ্যমেই শেষ হয় নির্বাচন অবশেষে নির্বাচনের ফলাফল। গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচনের পর পরই ৩ দিনের দিন নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন সেই এমপি সভা অনুষ্ঠিত হয় পরবর্তীতে গতকাল ১১ জানুয়ারী বঙ্গভবনে মন্ত্রীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে মন্ত্রী করা হয়েছে ২৬জন আর প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে ১১জন। নির্বাচন শেষ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অবহৃত রয়েছে যা দেখে ইতিমধ্যেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা মিলছে হতাশার ছাপ।

 

 

সকল নেতাকর্মীদের দাবি ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যার মাধ্যমে গত ২০১৪-২০১৮ সালের অবস্থার মুখোমুখী হতে যাচ্ছি আমরা। ব্যাপকভাবে আন্দোলন করে পুলিশের লাঠি চার্জের মাধ্যমে আর কত বছর এমন আন্দোলই চালিয়ে যেতে হবে। ইতিমধ্যে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সুসময়ের দেখা পেতে না পেতে আবারো দূসময়ের দিকে ঝুঁকছেন বিএনপি।

 

 

তা ছাড়া গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষে এক পুলিশ কনষ্টেবল নিহতের পর বিভিন্ন মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ কারগারে আর অধিকাংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর বিএনপির আন্দোলনের দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে।

 

 

বিশেষ করে প্রথমে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক ও মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপির আন্দোলনে ভাটা পড়ে।

 

 

মূল নেতারা কারাগারে থাকায় যাকে ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক আন্দোলণ অনেকটাই দূর্বল হয়ে পরে। রাজপথে শুধু বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল-কবির রিজভী ও মঈন খান রাজপথে দফায় দফায় হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে গেছে যাকে প্রতিহত করতে যখন আওয়ামী লীগের নেতারা রাজপথে নামতেন তখন আর বিএনপি রাজপথে থাকতেন না।

 

 

তা ছাড়া সকাল-৬টায় সকল জেলার নেতারাই ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমেই কর্মসূচি পালন করতেন। শুধু নির্বাচন বর্জনের দাবিতে যে কর্মসূচি ছিল লিফলেট বিতরণ শুধূ এই কর্মসূচি বিএনপি মন দিয়ে পালন ও করেছে তাতে যথাযথভাবে সফলতা ও অর্জন করেছে। কিন্তু বিএনপির দাবি, বর্তমানে এই সরকার জনগনে ভোট ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করে ফেললেন তা ছাড়া বর্তমানে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কঠোরভাবে আন্দোলণ করার কোন সুযোগ নেই।

 

 

এথন শুধু বহিবিশে^র দিকে তাকিয়ে না থাকা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা। যাকে ঘিরে বর্তমানে অনেকটাই হতাশায় তারা যদি বহিবিশ^ কোন পদক্ষেপ না গ্রহন করে তাহলে বিএনপির আর কিছু করার নেই এমনটাই মনে করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে জানা গেছে, বর্তমানে কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি বহু নেতাদের মুখে ও রয়েছে হতাশার ছাপ যা তারা কর্মী-সমর্থকদের মনোবল নষ্ট না হওয়ার স্বার্থে প্রকাশে আনছেন না।

 


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলনের তৎপরতা বহু পরিবর্তন করেন, কিন্তু আন্দোলনের গতি শক্তিশালী না হওয়ায় অবশেষে গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচন শেষ হয়। কোন বিএনপির শূভপ্রন্থী উর্দয় হতে দেখা য়ায়নি যাকে ঘিরে বিগত ২০১৪ সালের মতো করে এই ২০২৪ সালে ও নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটে ছিলেন দলটি।

 

 

কিন্তু এবার জনগণ নির্বাচন বর্জন করা ও তাদের সাড়া পাওয়ার পর ও কোনভাবেই সুবিধা হয়নি। বর্তমানে আন্তজার্তিক সম্প্রদায় বিশেষ করে মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কিছু দেশ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্য দেয়নি। সেদিকে তাকিয়ে আছে বিএনপির নেতাকর্মীরা তা ছাড়া গতকাল দীর্ঘ ৭৫ দিন তালা ভেঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা নয়া পলন্টনে তাদের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

 

 

ধীরে ধীরে সকল নেতাকর্মী যারা বিগত দিনে আত্মগোপনে ছিলেন তারা হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে নিয়ে রাজপথে আবারো আসা শুরু করেছে। যাকে ঘিরে নেতাকর্মীরা বলছে, বিএনপির দাবি ছিল এই আন্দোলন সফল না করে আর ঘরে ফেরা হবে না, কিন্তু সকলেই ধীরে ধীরে নিজ নিজ কার্যক্রমে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে কর্মী-সমর্থরা বলছে আবারো কি ৫ বছর আশায় থাকা লাগবেসহ নানা মনোভাব সব মিলিয়েই দেখা মিলছে বর্তমানে কর্মী-সমর্থকদের মুখে মুখে হতাশার ছাপ।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন