নারায়ণগঞ্জবাসীর ’সান্ত্বনা’ প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার মেয়র আইভী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:০৪ পিএম
রাজধানী লগোয়া নারায়ণঞ্জ সারাদেশে আন্দোলন সংগ্রামের সূতিগার হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথেও জড়িত রয়েছে এই নারায়ণগঞ্জের নাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষোট্টির ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থান সব খানেই ছিল এখানকার মানুষের জোরালো অংশগ্রহণ।
কিন্তু ছয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও নারায়গঞ্জ সব সময় অবেহেলিত থেকেছে। মন্ত্রী পরিষদে মাত্র একবারের জন্য জায়গা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের কোন এমপির। গত সরকারে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে টানা চারবারের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী।
দ্বাদশ সংসদে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। নতুন মন্ত্রিসভায় এবার নারায়ণগঞ্জের কেউ জায়গা পাননি। যদিও গুঞ্জন ছিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদে নারায়ণগঞ্জ থেকে জায়গা পাচ্ছেন গোলাম দস্তগীর গাজী ও শামীম ওসমানের মধ্যে একজন। কিন্তু কেউই জায়গা না পাওয়ায় হতাশ তাঁদের নেতাকর্মীসহ নারায়ণগঞ্জবাসী।
বরঞ্চ গত সরকারে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ থেকে মন্ত্রী হওয়া গোলাম দস্তগীর গাজীকেও এবার মন্ত্রী পরিষদে রাখা হয়নি। যদিও বয়সজনিত কারণে তাঁকে মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এবারের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল নারায়ণগঞ্জে। নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ছিল আবারও সরকারের মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচার ছিল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন একেএম শামীম ওসমান। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার আসনে আওয়ামী লীগ থেকে টানা চতুর্থ বারের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসীর কপালে জোটেনি মন্ত্রিত্বের মর্যাদা।
তবে নারায়ণগঞ্জবাসীর সান্ত্বনা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রোটোকলসহ সরকারের নানান সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে হ্যাট্রিক জয়ী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে উপমন্ত্রীর পদ মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। এবার নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছে তাঁকে।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা ১৮ তম, সংসদ সদস্যরা ১২ তম কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ৯ম ক্যাটাগরির প্রোটোকল দেওয়া হয়। সেই হিসেবে জেলায় বর্তমানে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে প্রোটোকল অনুযায়ী বেশি সুযোগ সুবিধা ও সম্মান পাবেন মেয়র আইভী।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এ ছাড়া পাঁচজন পুলিশ সদস্য, একজন গানম্যান সুবিধা দেওয়া হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ির সুবিধাও পেয়ে থাকেন তিনি। এছাড়া চিকিৎসা খরচ, ভ্রমণ-আপ্যায়ন ভাতা, বেতন ও বাড়িভাড়াসহ নানান সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন।


