ফতুল্লায় শামীম ওসমান অনুসারীদের মধ্যে সফল ও ব্যর্থ যারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:১০ পিএম
সদ্য সমাপ্ত হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন দেশব্যাপী আলোচিত সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান। নির্বাচন পূর্ববর্তী কয়েক মাস জুড়ে নারায়ণগঞ্জের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে দলীয় যতগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল প্রায় প্রতিটা কর্মসূচিতেই শামীম ওসমান তার অনুসারীদের সাথে নিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু ভোটের মাঠে তিনি তেমনভাবে সফল হতে পারেননি।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয় পরাজয়ের ক্ষেত্রে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও বাকি তিনটি আসনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রোমুখি করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। এই তিনটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ একটি। এ আসনটি মূলত (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) নিয়ে গঠিত। দেশব্যাপী আলোচিত এই সাংসদের আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ৩১.০৬ শতাংশ। যা নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই সংসদ সদস্য পুনরায় বিজয়ী হলেও ভোটার উপস্থিতির যেই চ্যালেঞ্জ ছিল দেশজুড়ে তাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
শামীম ওসমান সব সময় ফতুল্লাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারণ এখানে ভোটার এবং ভোটকেন্দ্র উভয়ই অনেক বেশি। এই অঞ্চলে তার চিহ্নিত অনুসারী রয়েছে চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে অন্যতম ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ১ নং সদস্য হাজী আবু মো. শরিফুল হক, ফতুল্লা থানা আওয়ামী যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটন, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল।
বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এদের মধ্যে ভোটের মাঠে কেউ ছিলো সফল আবার কেউ চূড়ান্ত ব্যর্থ। আজ এদের মধ্যে যারা ব্যর্থ হলো তাদের দিয়ে আলোচনা শুরু করবো এবং যারা সফল হল তাদের দিয়ে আলোচনা শেষ করবো।
মীর সোহেল আলী : ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি যিনি দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা থানা যুবলীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। প্রতিটা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ নেতা শামীম ওসমানের পক্ষে ব্যাপক লোকসমাগম করতো। কিন্তু শামীম ওসমানের আস্থাভাজনের তালিকায় থাকা এই নেতা ভোটের মাঠে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তথ্যমতে, ফতুল্লার এই আওয়ামী লীগ নেতা ফতুল্লা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও শাহ ফতুল্লা ইসলামী মাদ্রাসার কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন। তার আওতাধীন কেন্দ্রে সর্বমোট ভোটার ছিল ৯ হাজারের মতো। কিন্তু ভোট পড়েছে প্রায় ২২০০। যা শতকরা হিসেবে মাত্র ২৩ শতাংশ। মীর সোহেল আলীর আওতাধীন কেন্দ্রের ভোটের চিত্রের এই বেহাল দশায় মর্মাহত হয়েছেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। মীর সোহেল আলী শামীম ওসমানের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়াও, নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে তার ছোট ভাই ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মীর ফয়সাল আলীর দেশত্যাগ নিয়ে জেলা জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। ভোটের মাঠে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি ও একসময়ের ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সভাপতি বর্তমান এই আওয়ামী লীগ নেতার এমন করুণ চিত্রে মিশ্র প্রতিক্রিয়া স্থানীয় রাজনীতিতে।
ফরিদ আহমেদ লিটন : থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটনও শামীম ওসমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন মিছিল মিটিং এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার। কিন্তু ভোটের মাঠে তিনিও অনেকটাই অকৃতকার্য বলা চলে। তথ্য মতে, ফরিদ আহমেদ লিটন মূলত ফতুল্লা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন। ৩ নং ওয়ার্ডে ৪টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোটার ছিল প্রায় ১১ হাজার। কিন্তু ভোট কাস্ট হয়েছে শুধুমাত্র ৩ হাজার ৬০০। শতাংশের হিসেবে মাত্র ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ শামীম ওসমানের আস্থাভাজনের তালিকায় থাকা এই নেতাও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি।
মোস্তফা কামাল : ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামালকে শামীম ওসমানের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু শামীম ওসমানের পক্ষে ভোটের মাঠে তার ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয়েছে। তথ্যমতে, মোস্তফা কামাল এর আওতাধীন ছিলো তিনটি কেন্দ্র। ৩ টি কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ছিলো সর্বমোট ৬ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ১ হাজার ১৯৪ টি। অন্যদিকে মহিলা ভোটার ছিলো মোট ২ হাজার ৮০০। এর মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ৫১০ টি। সব মিলিয়ে তার আওতাধীন কেন্দ্রগুলোতে মোট ভোটার ৯ হাজার ৩০০ টি। কিন্তু মোট ভোট পড়েছে ১ হাজার ৭০৪ টি। যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ১৯ শতাংশ। বলা যায় শামীম ওসমানের পক্ষে ভোটের মাঠে এই নেতা চরমভাবে ব্যর্থ।
এবার আলোচ্য বিষয় শামীম ওসমানের পক্ষে তার অনুসারীদের মধ্যে যারা সফল।
শরিফুল হক : ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ১ নং সদস্য আবু মোঃ শরিফুল হক ভোটের মাঠে রীতিমতো চমক দেখিয়েছেন। শামীম ওসমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেতা পূর্বের সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেমনিভাবে সফল হয়েছিলেন ভোটের মাঠেও একইভাবে তিনি সফল হয়েছেন। তার তত্ত্বাবধায়নে ছিলো ফতুল্লা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কানন কিন্ডার গার্ডেন। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ হাজার ৫০০। মোট ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৫০০। অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ তিনি শামীম ওসমানের আস্থার প্রতিদান রাখতে পেরেছেন ভালোভাবেই।
আজমত আলী : ফতুল্লা থানা আওয়ামী যুবলীগ নেতা হাজী আজমত আলী শামীম ওসমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। শামীম ওসমানের পক্ষে প্রতিটা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও তিনি ভোটের মাঠে সাফল্য দেখিয়েছেন। এ যুবনেতার নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্র কুতুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৬৬ জন। এখানে মোট ভোট পড়েছে ২ হাজার ৩১২ টি। যা শতকরা হিসেবে ৭৩ শতাংশ। এছাড়াও তার নিয়ন্ত্রণাধীন রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৭০০ জন। সর্বমোট ভোট পড়েছে ১ হাজার ১৩১ টি। শতকরা হিসেবে ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ এই যুবনেতা আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন বরাবরের মতোই।
ফাইজুল ইসলাম : ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম শামীম ওসমানের আরেক আস্থাভাজনের নাম। এই যুবনেতাও পূর্বের ন্যায় এবারও শামীম ওসমানের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে ৫৭ শতাংশের মতো ভোট কাস্ট করতে সমর্থ হয়েছেন। বলা চলে এই যুবনেতা সফলভাবে তার দায়িতত্ব পালন করতে পেরেছেন। এস.এ/জেসি


