আন্দোলনে দিপু-খোকনের বলয় সুপার ফ্লপ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম
# তারেক রহমানের আস্থা রাখতে ব্যর্থ দিপু ভূঁইয়া
দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে থাকা দেশের সবচাইতে বড় বিরোধী দল বিএনপি দফায় দফায় চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে ও ক্ষমতাসীনদল আওয়ামী লীগের এক তরফা নির্বাচন ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার আঙ্গুল কর্মী-সমর্থকরা তুলছেন জেলা ভিত্তিক দায়িত্বে থাকা মূল মূল নেতাকর্মীদের উপরে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে রাজপথে গতি ফিরিয়ে আনতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উপরে আস্থা রেখেছিলেন। যাকে ঘিরে তার নেতৃত্বে তার বলয়ের নেতাকর্মীদের ধারা গঠিত হয়েছে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের কমিটি। কিন্তু এই আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থতার প্রমান দিয়েছেন এই দিপু ভূঁইয়া। বিএনপির কঠোর ও চূড়ান্ত আন্দোলনে তার নেতৃত্বে একদিন ও দেখা যায়নি কোন মিছিল মিটিং।
তাছাড়া মামলা জর্জরিত থাকা নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখেনি দিপু ভূঁইয়া তাছাড়া তার আস্থা ভাজন যাকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই গোলাম ফারুক খোকন যার রাজনৈতিক পরিচিতি মাত্র কয়েকদিনের তারপর দিপু ভূঁইয়ার ভরাতে যিনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসেবে আদিষ্ঠ হয়। এই নেতা জেলা ভিত্তিক আন্দোলন খোঁজ খবরে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
যাকে ঘিরে তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাছাড়াও এই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রয়েছে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষে কাজ করার অভিযোগ। কেউ কেউ বলছে, রূপগঞ্জে এই দিপু-খোকন ও তার নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করেই রাজনীতি করে থাকে বলে মনে করছেন। যার কারণে এই কঠোর আন্দোলনে তারা কোন নেতৃত্ব বা দিকনির্দেশনা দিলেন না। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কঠোর আন্দোলন ফ্লপে আঙ্গুল তুলছেন দিপু ভূঁইয়ার দিকে।
সূত্র মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উপরে আস্থা রাখেন। যাকে ঘিরে জেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের মূল দায়িত্বরত হিসেবে রূপগঞ্জের নেতাদের সিলেক্ট করা হয়েছে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন সকলেই দিপু ভূঁইয়ার অনুসারীবৃন্দ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে শুরু করে জেলার সকল অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিকে চাঙা করতে বিএনপির মূলদলসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে দিপু ভূঁইয়ার উপরে আস্থা রেখেই তারা অনুসারীদের কমিটিতে স্থান দিয়ে ঢেলে সাজানো হয়েছিলো। যেটা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে লক্ষ্য করা গিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেয়েছে দিপু ভূঁইয়ার আস্থা ভাজন হিসেবে সু-পরিচিত গোলাম ফারুক খোকন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে আদিষ্ঠ হন পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে আদিষ্ঠ করা হয়।
অপরদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক তাকে ও স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি হিসেবে আদিষ্ঠ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু যোগ্যতা কম থাকায় স্থান পায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকদলের নবগঠিত কমিটিতেও আহ্বায়ক পদে দিপু ভূঁইয়ার অনুসারী ড. শাহীনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকদলের নেতৃত্বে এসেছে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেয়েছে দিপু ভূঁইয়ার অনুসারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হোসেন ভূঁইয়া। তাছাড়া অপরদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন, সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্সকে ও জেলা যুবদলের বড় একটি পদে আনতে জোরদার চেষ্টা করেছেন এই দিপু ভূঁইয়া।
কিন্তু ভাগ্যক্রমে তা আর হয়ে উঠেনি কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে তিনি ও ভালো পদে আসতে পারেন বলে তিনি তাকে আশ্বাস দিয়েছেন তা ছাড়া রূপগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদলের কমিটিতে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে দিপু ভূঁইয়া তাছাড়া সামনের সকল জেলার আওতাধীন থানা অঙ্গসংগঠনে কমিটিগুলোতে নজর রয়েছে তার। এমনকি যাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে তারা কেউ দিপু ভূঁইয়ার নতুন অনুসারী নন দীর্ঘদিন ধরেই রূপগঞ্জে বিএনপির দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রাজনীতি করছেন।
তারেক রহমানের এই আস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঢাকামুখী আন্দোলন বা নারায়ণগঞ্জমুখী আন্দোলনে জোরদার ভূমিকা রেখেছিলেন দিপুর অনুসারীরা দীর্ঘ ১ বছর আন্দোলনে রাজপথে একের পর এক চমক প্রদর্শণ করেছেন দিপু ভূঁইয়া। কিন্তু ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে পন্ড হয়ে যায়। যাকে ঘিরে একের পর এক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর আন্দোলণমুখী হয়ে উঠলেন বিএনপি এমতা অবস্থায় এই নির্বাহী কমিটির সদস্য দিপু ভূঁইয়া ও তারা অনুসারীরা রাজপথ থেকে ছিটকে পরে।
দফায় দফায়কৃত সকল হরতাল ও অবরোধে এক পলকে ও দেখা যায়নি দিপু ও খোকনের অনুসারীদের। যাকে ঘিরে আন্দোলনে জেলা বিএনপির বহু অঙ্গসংগঠন গতি হারিয়ে ফেলে নেতাকর্মীরা আরো বলছে, দিপু ভূঁইয়ার উপরে তারেক রহমানের আস্থা করাটা ভূল হয়েছে কারণ তিনি এতো দায়িত্ব নিয়ে ও দলের দূসময়ে নেতাকর্মীদের হাত ছেড়ে দিয়েছেন ছিল না কোন নেতাকর্মীদের সাথে তার কথোপোকথন হয়নি আন্দোলনকে গতিশীল করার আলোচনা।
বহু নেতাকর্মী বলছে, আন্দোলন রেখে বিভিন্ন দেশে পারি ও জামিয়েছেন এই দিপু ভূঁইয়া ও তার আস্থাভাজন গোলাম ফারুক খোকন। তারা কোন নেতাকর্মীদের সাথে দূসময়ে পাশে ও ছিলেন না রাজপথে আন্দোলনে ও ছিলেন না শুধু না কা ওয়াস্তে কিছু মামলা খেয়ে ফেললে ও গা ডাকা দিয়ে দেশ ছাড়া হয় তারা। কোন নেতাকর্মীদের মামলায় বা হামলায় তারা কোনভাবেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেননি। কিন্তু বিএনপির সহআন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন তারা সকলেই বিভিন্নভাবে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ অবহুত রেখেছেন তাছাড়া দলের দূসময়ে কে কোন বলয়ের সেদিকে লক্ষ্য করেনি তারা সকলের খোঁজেই মুর্ধ ছিলেন।
অপরদিকে এই দিপু-খোকন বলয়ের কেউ রাজপথে এই কঠোর আন্দোলনে কোন ভূমিকার খাতায় নাম লেখায়নি। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা কৃষকদলের সভাপতি ডা.শাহিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স দিপু বলয়ের কাউর মুখ রাজপথ দর্শন করেনি। সকলেই নাম কা ওয়াস্তে মামলা খেয়ে আত্মগোপনেই শেষ করেছে বিএনপির সকল কঠোর মুহুর্ত।
তাছাড়া নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে দিপু ভূঁইয়া-গোলাম ফারুক খোকনসহ তাদের বলয়ের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে নির্বাচনের পিছনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার কেটলি মার্কার পক্ষে কাজ করার যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বা টিভি চ্যানেলে ও উঠে এসেছিলেন। তারা ছাড়া নৌকারসহ কেটলির পক্ষে কাজ করে প্রকাশ্যে এসে গিয়ে দিপু ভূঁইয়ার প্যানেলের বহু নেতাকর্মী বহিস্কৃত হয়েছে।
তাছাড়া আরো অনেকেই আড়ালে থেকে ও কাজ করেছেন প্রকাশ্যে না আসায় তাদের প্রতি কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি কেন্দ্র এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্সের বিরুদ্ধে ও অভিযোগ রয়েছে দিপু ভূঁইয়ার নির্দেশে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার কেটলির পক্ষে রাজপথে কাজ করতে। সব মিলিয়ে আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ফ্লপের পরিচয় দিয়েছেন দিপু ভূঁইয়া ও গোলাম ফারুক খোকন। তাদের খপ্পরে পরে বর্তমানে কোনঠাসা হয়ে পরেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। এস.এ/জেসি


