# এবার বিএনপি নেতারাও মনে করেছিলেন শামীম ওসমান মন্ত্রী হচ্ছেন
# এবারও মন্ত্রী না করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা
এবারও যারা মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেলেন তাদের অনেকেই অপরিচিত মুখ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের তুলনায় রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ এবং অদক্ষ অনেকেই স্থান পেয়েছেন। কিন্তু দলের জন্য ব্যাপক ভূমিকা রাখার পরেও তাকে মন্ত্রী করা হলো না। তবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের অনেকেই মনে করেছিলেন এবার হয়তো শামীম ওসমানকে মন্ত্রী করা হবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত এবারও তাকে মন্ত্রী পরিষদে না নেয়ায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার রেপুটেশন কি এতোটাই খারাপ? আর যাদেরকে মন্ত্রী করা হচ্ছে তারা কি এতোটাই ভালো মানুষ? তারা কি শামীম ওসমানের তুলনায় ভালো মানুষ? ফলে এবারও তাকে মন্ত্রী না করায় নারায়ণগঞ্জবাসী অনেকেই অবাক হয়েছেন। এমন কি যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তারাও মনে করেছিলেন এবার হয়তো শামীম ওসমান মন্ত্রী হবেন।
কেনোনা তারা মনে করেছেন কয়েকটি কারণে শামীম ওসমানকে মন্ত্রী করা হবে। তার মাঝে অন্যতম কারণগুলি হলো, এবার নির্বাচনের আগে গত এক বছর দলের দুঃসময়ে শামীম ওসমান দলের জন্য ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মার্কিন ভিসা নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রাজপথে থেকে দলের নেতাকর্মীরে সাহস জুগিয়েছেন। রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশগুলিতে বিপুল সংখ্যক লোকজন নিয়ে যোগ দিয়েছেন।
টেলিভিশন টকশোগুলিতে তিনি দলের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। প্রতিপক্ষকে তিনি তার দলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে হারানোর চেষ্টা করেছেন। বিগত এক বছরে যখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নানা ভয়ে মুখ খুলেন নাই এবং কথা বলেছেন সাবধানে তখন শামীম ওসমান দলের পক্ষে কথা বলেছেন অনেকটাই বেপরোয়া ভাবে। এছাড়াও তিনি নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকেও বেশ দাবাড়ানির মাঝে রেখেছেন। তাই অনেকে মনে করেছিলেন এবার হয়তো শামীম ওসমানকে মন্ত্রী করা হবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো সেটা আর হলো না। তাই নারায়ণগঞ্জের অনেকে এখন মনে করেন শামীম ওসমানকে আসলে একজন লাঠিয়াল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা আরো মনে করেন সরকার ইচ্ছে করলে শামীম ওসমানের জায়গায় অন্য কাউকে প্রতিষ্ঠা করতে পারতো বা দলের মনোনয়ন দিতে পারতো। কিন্তু শামীম ওসমানের একটা ‘রাফ এন্ড টাফ’ ইমেজ রয়েছে। আর এই ইমেজের কারণেই তাকে বার বার মনোনয়ন দিচ্ছে সরকার। প্রয়োজনে গরম বক্তৃতা দিতে এবং মাঠ কাঁপাতে হয়তো তাকে দরকার।
কিন্তু তাকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিলে সেটা চালাতে তিনি ব্যর্থ হবেন বলেই মনে করে সরকার। কারণ একটি বিশেষ সংসদীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার আর সারা দেশ নিয়ন্ত্রণ করা তথা দেশের একটি মন্ত্রনালয় নিয়ন্ত্রন করা এক বিষয় নয়। মন্ত্রনালয় চালানোর মতো ঠাণ্ডা মাথার মানুষ তিনি নন বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জে তার বিরোধী শিবিরের লোকজন। যদিও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের তুলনায় অনেক জুনিয়র নেতারাও মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এস.এ/জেসি


