Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘স্বতন্ত্র কৌশল’ বাকশালের জমজ ভাই!

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম

‘স্বতন্ত্র কৌশল’ বাকশালের জমজ ভাই!
Swapno

 

বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনই আওয়ামী লীগের কব্জায় চলে গেছে। কব্জায় মানে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে না দিলে ওই আসনটিতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হতেন। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতো তা হলে নারায়গঞ্জের ৫টি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো। বিজয়ের পাল্লা বিএনপির দিকেই হেলে পড়ার সম্ভাবনা বেশী ছিলো বলে মনে করেন বোদ্ধামহল। এমনকি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনই যদি বিএনপি পেয়ে যেতো তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না।

 

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সরকারের ম্যাগা প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট তথা যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন হলেও নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়াটাই বেশী চোখে পড়ে। এদেশে ‘দিন আনে দিন খায়’ এমন মানুষের সংখ্যাই বেশী। এমনকি ভোটারের সংখ্যাতেও এরাই বেশী। এদরকে অবহেলা করা মানে গোটা জাতিকেই ক্ষেপিয়ে তোলা। নারায়ণগঞ্জের বেশীরভাগ ভোটারই মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরানার। নির্বাচনি লড়াইয়ে এই ঘরানার ভোটাররাই জয়-পরাজয়ে প্রধান ভূমিকা রাখে।

 

প্রচার মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি এলাকার মানুষ এখনো পানিতে ডুবে থাকে। ডিএনডি’র পানি নিষ্কাশনের খালগুলো সরকারি দলের লোকেরা দখল করে রেখেছে। মাদক নির্মূলের কথা ফলাও করে বলা হলেও দেখা যায়, সরকারি দলের দোহাই দিয়েই একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী খোলামেলা মাদক ব্যবসার খুচরা এবং পাইকারি হাট জমজমাটভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

 

কিছু কিছু পাতি নেতার প্রশ্রয়ে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় নিত্যদিন মহড়া দিচ্ছে কিশোর গ্যাং। এদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে উঠতি বয়সী মেয়েরা। স্কুলগামী মেয়েদের পথ আগলে নানারকম ইতরামি করে। এদের ভয়ে অনেক অভিভাবক তার সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়, কিশোর গ্যাং দমানোর দায়িত্ব কার? কারা এদেরকে লালন পালন করেন? এসব প্রশ্নের জবাব জনপ্রতিনিধিদের কাঁধেই বর্তায়। আর প্রশাসন তো যার কাছ থেকে নগদ টাকা পায় তার কাছেই  মাথা নিচ করে থাকে।   

 

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ছলে বলে কলে কৌশলে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে বার বার ফায়দা লুটছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই আওয়ামী লীগ নানা রকম কৌশলের আশ্রয় নেয়। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে নানা কায়দায় বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে দিনের ভোট রাতে করে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। এবার কিন্তু দিনের ভোট রাতে করতে হয়নি।

 

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মুরুব্বীদের পরামর্শে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় ‘স্বতন্ত্র কৌশল’ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাজিমাত করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের এই ‘স্বতন্ত্র কৌশল’কে অনেকে ‘বাকশালে’র সাথে তুলনা করতে চাইছেন। বাকশালের নির্বাচন শুধু একটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিলো। কোন আসনে বাকশাল থেকেই অনেক প্রার্থী দাঁড়াতে পারতেন এবং ভোটারগণ তাদের ইচ্ছেমতো যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পারতেন।

 

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেদের দলের লোককেই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজিয়ে এবং গৃহপালিত জাতীয় পার্টিকে কয়েকটি আসন দেয়ার লোভ দেখিয়ে পাতানো নির্বাচন করে ফেলেছে। এমপিরা শপথ নিয়েছেন, মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়েছে এমনকি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা শপথও নিয়ে ফেলেছেন। শুধু তাই নয় যে মোড়লের বুদ্ধিতে তারা নির্বাচন থেকে দূরে সরেছিলো সেই মোড়ল মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিটার হাসও শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকারের নির্বাচন এবং কর্মকান্ড চেয়ে চেয়ে দেখছেন আর ভাবছেন, নির্বাচন বর্জন করাটা ভুলই হয়েছে বোধ হয়। বোদ্ধা মহলের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে শক্ত অবস্থানে ছিলো, এতে সরকার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন না দিয়ে পারতো না। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন