Logo
Logo
×

রাজনীতি

সভা-সমাবেশ নিয়ে রাজপথমুখী হচ্ছে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

সভা-সমাবেশ নিয়ে রাজপথমুখী হচ্ছে বিএনপি
Swapno

 

 
দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করছেন বিএনপি যাকে ঘিরে নানা হামলা-মামলার নির্যাতনের পর সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যু নিয়ে ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে টানা একের পর এক কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা। সেই ধারবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি বেড় করা হয় সে সময় নারায়ণগঞ্জের শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

এ সময় গুলিতে শাওন নামে যুবদলের এক কর্মী নিহত হয় তার পর থেকেই দফায় দফায় নানা প্রতিবাদ সভাসহ মানববন্ধন, যুবসমাবেশ, সমাবেশ, মহাসমাবেশের মধ্য দিয়েই গত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর নিস্কিয় থাকা দলটি আবারো রাজপথে কঠোর হয়। পরবর্তীতে একের পর নানা কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

 

 

এরই মাঝে আন্দোলনের মাঝে মাঝে সরকার পতনের কয়েক দফা ডেট লাইন ও দেওয়া হয়েছিল যা ইতিপূর্বে সফল হয়নি। তারই মাঝে জেলা বিএনপি-মহানগর বিএনপিসহ নানা অঙ্গসংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়। যার ফলে রাজপথে কঠোরভাবে নানা আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামে, তা ছাড়া দেখা গেছে আন্দোলন হলেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা হয়রানি সুনিশ্চিত ছিল।

 

 

যাকে ঘিরে সব দিক দিয়েই ম্যানেজের মাধ্যমে টানা দেড় বছর কর্মসূচি চালিয়ে গেছে জাতীয়তাবাদী দলটি। এরই মধ্যে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনমনে বিশাল আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ বলেছিলেন বিএনপিকে সেদিন ঢাকায় অবস্থান করতে দেওয়া হবে না, তাদের বসতে ও দেওয়া হবে না।

 

 

এদিকে বিএনপি বলে ছিলেন এই মহা-সমাবেশের মাধ্যমেই বিএনপি আন্দোলনে কঠোর ভূমিকায় যাবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির মহা-সমাবেশকে লক্ষ্য করে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও পুলিশি ধরপাক্কর ও মামলার কবলে পরে বিএনপি। যার কারণে আগে থেকেই আত্মগোপনে থেকে মহা-সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করে দেয় দলটি। আর সেই হিসেবেই মহা-সমাবেশের পূর্বের দিন নেতাকর্মীরা ঢাকার মাঠিতে অবস্থান করেন।

 

 

সেখানে অবস্থানে গিয়ে ও গ্রেফতার বিপাকে পড়েছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। কিন্তু সমাবেশ সফল করার আকাঙ্খায় নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছিলেন। এদিকে পুলিশি পারমিশন পেয়েই রাতে মহা-সমাবেশের ভেন্যু তৈরি শুরু করে দলটি। আর রাতেই নয়া পল্টনের রাস্তাঘাট জনসমুদ্রে পরিণত হতে থাকে। রাত পোহালে সকালেই বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি শুরু করে।

 

 

ধীরে ধীরে সমাবেশস্থলে লোকেলোকারন্ন হয়ে পরে আর সমাবেশ চলতে থাকে জানা গেছে, ডিএমপির পুলিশের দেওয়া সময় অনুযায়ী সমাবেশ শেষ করার লক্ষ্য হিসেবেই সমাবেশ শুরু করে। কিন্তু যখন সময় পেড়িয়ে দুপুর ১২টা সেই সময় হঠাৎ নয়া পল্টন এলাকায় বিএনপির সমাবেশ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলা হয় এমনটাই জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ।

 

 

এই সমাবেশে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে এক পুলিশ বাহিনী নিহত হয়েছে আর একজন বিএনপির নেতা নিহত সহ আরো অনেক আহত-গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এক কথায় বলা চলে গত মাসের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। সেই ধারাবাহিকতায় তার পর দিন ২৯ অক্টোবর সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিন বিএনপির মহা-সচিবসহ মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

 

তার পর আবার ৩১ থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা করে দলটি। এর পর থেকেই কঠোর আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে একের পর এক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে যায় বিএনপি যা সফল করতে ব্যর্থতার প্রমান দিয়েছে নেতাকর্মীরা শুধু ঝটিকা ছিল তাদের ভূমিকা।

 

 

কঠোর আন্দোলনে কোন সফলতা না দেখলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘অসহযোগ; আন্দোলনের ডাক দেয় তার মাধ্যমেই নেতাকর্মীরা নির্বাচন বর্জনের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করে তারই মাঝে কিছুটা জনগণের সাড়া দেখতে পেয়ে তারা কয়েক দফায় নির্বাচন বর্জনের লিফলেট কর্মসূচি চালিয়ে যায়।

 

 

সর্বশেষ নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্ত্বে টানা ৩ দিনের হরতাল দেয় দলটির নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসূচি দেখা গেলে ও হরতালের তিনদিন ছিল নিরব এরই মাঝে ৭ জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যাতে নির্বাচনে সাড়া দিতে দেখা যায়নি দেশের সাধারন জনগণকে। এটাকেই বিএনপির তাদের আন্দোলনের সফলতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।

 

 

নির্বাচনের পর পরই ২ দিনের গণসংযোগ দেয় দলটি যেখানে লিফলেট বিতরণ ও করা হয় এই গণসংযোগের নাম দেওয়া হয়েছিলো নির্বাচন বর্জনের কারণে দেশবাসীকে ধন্যবাদ। পরবর্তীতে নির্বাচন শেষ হয়েছে ৭দিন নেই কোন নয়া কর্মসূচি বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, বর্তমানে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ও বর্তমানে কারগারে রয়েছে যাকে ঘিরে রাজনৈতিক মামলা ও কারাগারে থাকা নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের দিকে নজর রয়েছে বিএনপির।

 

 

আপাতত হরতাল-অবরোধের মতো হার্ডলাইনের কর্মসূচির বিষয়ে ভাবা হচ্ছে না। সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা, গণসংযোগের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তা নিয়ে বর্তমানে সকল জেলার নেতাকর্মীরা নানা আয়োজন অবহৃত রেখেছেন। সকলের দাবি অতি শীগ্রই রাজপথে ব্যাপক আকার ধারন করে রাজপথমুখী হবে দলটি।

 


এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, এই অবৈধ সরকার যে অবৈধ নির্বাচন করেছে সেই নির্বাচনে ভোটের হার ৮ থেকে ১০ শতাংশের বেশি হবে না। এটা শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরা নয় দেশের সাধারন জনগণ ও বহি:বিশ^ প্রমানিত। এই সরকারকে দেশের জনগণ কোন মতেই চায় না এটা তারা নির্বাচন বর্জন করেই জানিয়ে দিয়েছেন।

 

 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমরা আমাদের কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছি সেখান থেকে যে ধরনের কর্মসূচি আসবে এখন সেটা সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা, গণসংযোগের মতো কর্মসূচি দেওয়া হোক না কেন আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিগত দিনের থেকে আরো শক্তিশালী হয়ে রাজপথমুখী হবো ও তা সফল করবো। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশের জনগণ যেহেতু এই অবৈধ সরকারকে চায় না। সেহেতু অতি শীগ্রই এই সরকারের পতন হবে।

 


ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা যেভাবে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছি জনগণের প্রতি সেইভাবেই এই ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে বর্জনের জন্য আমরা জনগণকে আহ্বান জানাবো। আমরা আশাবাদী বর্তমানে পরিস্থিতির যে প্রেক্ষাপট এই সরকার আর থাকতে পারবে না।

 

 

যে কোন মুহুর্ত্বে দেশের জনগণ এই সরকারের পতন করবে। তিনি আরো বলেন, সামনে আমাদের যে যে কর্মসূচিগুলো আসতে যাচ্ছে তা সফলভাবেই পালন করতে ফতুল্লা থানা বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।

 


সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, এই সরকার একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো প্রধানমন্ত্রীর স্থানে বসেছে যা দেশের জনগণের জন্য একটি দু:খ জনক বিষয়। বর্তমানে দেশের জনগণ বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথেই আছে অতিতে যেভাবে ছিল। বর্তমানে সেভাবেই বিএনপির সাথে একত্মতা প্রকাশ করেছে।

 

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলা চলে যেহেতু জনগণ বিএনপির সাথে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত। আমরা বর্তমানে কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা আশা করছি কেন্দ্র আমাদের আবারো দিক নির্দেশনা মুলক কর্মসূচি দিবেন যা আমরা রাজপথে থেকেই নির্বাচন বর্জনের আহ্বানের সফলতার মতো সফল করবো।

 


জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, এই অবৈধ সরকার যেভাবে দেশের জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। সেভাবেই জনগণ তাকে তার সিট থেকে নামাতে কোন দিকে তাকাবে না।

 

 

বর্তমানে এই সরকার কি আবল-তাবল বলছে, তার ভিতরে জেগে উঠেছে যে সিটে আর বসে থাকা হবে না শীগ্রই পদত্যাগ করতে হবে সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কিন্তু তাড়াহুড়ি করে নির্বাচন পরবর্তীতে কয়েকদিনের মধ্যেই এমপি সভা- মন্ত্রী সভা করে ফেলেছে, এটা তাদের ভয়। তারা দেখেছে দেশের জনগণ কিভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন কেন্দ্র আমাকে কি ধরনের কর্মসূচি দেয় এটা দেখার বিষয়। কি দিক নির্দেশনা আসে সেই অনুযায়ী আমরা রাজপথমুখী হবো।

 


মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলনে রয়েছি, সবসময় আন্দোলনেই থাকবো যে পর্যন্ত এই সরকারের পতন না হবে। সামনে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড আমাদের নতুন কর্মসূচি দিচ্ছে তা সফল করতে আমরা আবারো রাজপথে প্রস্তুতি নিয়ে নামবো। আর এইবার আর এই শেখ হাসিনা অবৈধ সরকার পার পাবে না দেশের জনগণই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের পতন ঘটাবে।

 


মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, এ অবৈধ সরকার আবারো অবৈধভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছে কিন্ত তার এই ক্ষমতা বেশি দিন থাকবে না তার পতন হবেই।

 

 

ইতিমধ্যে দেশের জনগণ তাদের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বা ভোট না  দিয়ে তারা যে অগণতান্ত্রিক তা প্রমান দিয়েছে। এবার দেশের জনগণ তার পতন ঘটিয়ে প্রমান করবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তিনি আরো বলেন, সামনে আমাদের কর্মসূচি আসছে যার মাধ্যমে আমরা রাজপথে আবারো এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন