ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ দুই ভাই!
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫৮ পিএম
শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এ কে এম শামীম ওসমান ও তার বড় ভাই জাতীয় পার্টির এ কে এম সেলিম ওসমান অনেকটা সহজ জয় পেয়েছেন। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা ভোটারদের ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল।
অন্যদিকে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান তাঁদের নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে। বেশি সংখ্যক ভোটারদের কেন্দ্রে আনাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেও নিয়েছিলেন এই দুই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা। শামীম ওসমানের আসনে কেন্দ্রভিত্তিক ২৩১ টি কমিটিও করা হয়েছিল কেন্দ্রে ভোটার আনা ও নৌকার পক্ষে জয় নিশ্চিত করতে।
কিন্তু ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছেন ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা। আসন ভিত্তিক গড় ভোটে যেমন সর্বনিম্ন দুই ভাইয়ের নির্বাচনী এলাকা তেমনি কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে আছে এই দুই আসনের ভোটাররা। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের চতুর্থ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আসনে একটি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। অপরদিকে সেলিম ওসমানের আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ এর আদর্শ স্কুলের ৪ নং মহিলা কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নির্বাচনের আগে ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন এই দুইটি আসনে মোট ভোটারের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ভোট পড়বে। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে যাদের কেন্দ্রে ৬০ শতাংশ ভোট পরবে আগামীতে সেই সকল নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।
কিন্তু ফলাফল শূন্য। সবচেয়ে কম ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ পড়েছে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। তাঁর বড় ভাই সেলিম ওসমানের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পড়েছে ৩৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
কেন্দ্র ভিত্তিক সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের চতুর্থ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আসনে। এখানে একটি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফতুল্লার কোতালেরবাগ এলাকার রয়েল একাডেমীর মহিলা কেন্দ্রে ১৯৩৮ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ১২০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন।
এর মধ্যে শামীম ওসমান পেয়েছেন ১১১ ভোট। ৪ টি বাতিল ভোটসহ অন্য প্রার্থীরা বাকি ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
শামীম ওসমানের এলাকায় গড়ে সর্বোচ্চ ৭৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বক্তাবলির গঙ্গানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে। নারী পুরুষ মিলিয়ে এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৬৫৪ জনের মধ্যে ভোট পড়েছে ১৩০৬ জনের। এই আসনের ২৩১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭ টি কেন্দ্রে ১৫ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে আর ৫ টি কেন্দ্রে পড়েছে ৭০ শতাংশের উপরে। ১০ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে ৬ টি মহিলা কেন্দ্রে।
এর মধ্যে শাসনগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ, দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, ভোলাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও দেওভোগ বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই আসনে মহিলাদের কেন্দ্রমুখী করতে ব্যর্থ এখানকার প্রার্থীরা।
একই চিত্র সেলিম ওসমানের আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ এ। এই আসনের আদর্শ স্কুলের ৪ নং মহিলা কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই কেন্দ্রে ৩৪৬৪ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৯০ জন ভোটার ভোট দিয়েছিল। সর্বোচ্চ ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে লাউসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এখানে নারী পুরুষ মিলিয়ে ২০৭৮ ভোটারের মধ্যে ১৭৫৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। এই আসনে ১৭৫ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৮ টি কেন্দ্রে ১৫ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে আর ৯ টি কেন্দ্রে ৭০ শতাংশের উপরে ভোট পড়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান ভোটারদের আহবান করতেন 'যাকে খুশি তাকে ভোট দিবেন কিন্তু ভোট দিতে আসুন'। কিন্তু তাঁদের সেই আহবানে খুব একটা সাড়া দেইনি ভোটাররা তা তাঁদের কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলে অনুমেয়।
তাঁদের বিরোধী শক্তি দাবি করছেন ভোট বর্জন নয় বরঞ্চ তাঁদেরকে প্রত্যখান করছেন তাঁদের আসনের ভোটাররা। তাঁদের আসনের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটাররা ভোট দেননি তাঁদের। এবার দেখার পালা নিজেদের আসনে কিভাবে তাঁরা ভোট না দেয়া ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন।


