Logo
Logo
×

রাজনীতি

এবার কমিটি গঠনের পালা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৮ পিএম

এবার কমিটি গঠনের পালা
Swapno

 

সম্মেলনে বেঁধে দেয়া সময় পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৫ মাস হয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন রাজনীতিতে মনোযোগী নেতাকর্মীরা। এতোদিন নির্বাচন থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য মাঠে ময়দানে কাজ করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্ম জেলা নারায়ণগঞ্জে এক বছরের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। কবে নাগাত কমিটি হবে তাও জানেন নেতা কর্মীরা।

 

২০২২ সনের ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষিত শীর্ষ দুই পদে আসীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্পন্ন করতে এক মাস সময় দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির খসড়াও তৈরি করতে পারেননি তারা।

 

এদিকে সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল পুনরায় বহাল থাকায় জেলার বহু নেতাকর্মী হতাশ হয়েছেন। কেননা তখন সভাপতি পদে আসার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান দৌঁড়ঝাঁপ করেও ব্যর্থ হন। যদিও সম্মেলনে তার অনুসারীরা উৎফুল্ল ভাব নিয়ে প্রবেশ করলেও তার নাম ঘোষনা না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন।

 

তাছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেক্রেটারি ৫ মাস আগে পৃথকভাবে দুটি কমিটি গঠন করে জমা দেন। যা এখনো পর্যন্ত অনুমোদন হয় নাই। অথচ নারায়ণগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় নির্বাচনের আগে কাঁচপুরের সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তখন দলীয় সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদেরও এ বিষয়ে দ্রুত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।

 

অপরদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলীয় একাধিক সূত্রমতে, পদ ভাগাভাগিতে সমন্বয় না হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখছে না। শুধু তাই নয়, পদ ভাগাভাগির কারণে বিগত কমিটিতেও ৬টি পদ শূন্য ছিল।

 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পদ ভাগাভাগির কারণে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। ফলে বিগত কমিটি যেমন সাংগঠনিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি বর্তমান কমিটিও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিমত।

 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাধিক বলছে, বছরের পর বছর ধরে জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়নে একই ব্যক্তি দলীয় শীর্ষ পদগুলো দখল করে আছে। এতে ওই নেতাদের সুবিধা নেয়ার পাল্লা ভারী হলেও নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২২ সনের ২৩শে অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলন ঘিরে পুরো জেলার মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।

 

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ একডজন কেন্দ্রীয় নেতার আগমন ঘটে সম্মেলনে। নানা আলোচনা হতে থাকে নতুন নেতৃত্ব আসছে জেলা আওয়ামী লীগে। কিন্তু দিন শেষে শীর্ষ দুই পদে পুরনোদের রেখেই সম্মেলন শেষ হয়। ফলে ফুটো বেলুনের মতো নিমিষেই চুপসে যায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

 

তাদের মতে, যে কমিটি দীর্ঘ ৫ বছরেও একটি সমাবেশ ও কমিটির ৬ শূন্য পদ পূরণ এবং নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটাতে পারে নাই। সেই নেতৃত্ব আগামী দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনে কি ভূমিকা রাখবে- তা দেখার বিষয়। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান করে নিতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের দৌঁড়-ঝাঁপ। যদিও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে কমিটি গঠনের বিষয় কিছু দিন দূরে থাকে।

 

কিন্তু এখন নির্বাচন শেষ হওয়ায় তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বলয় ঠিক রেখে তাদের লবিং চলছে কেন্দ্র পর্যন্ত। এ দৌঁড়ে সাবেক ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে আছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তবে দৌঁড়-ঝাঁপ যারাই করুক বিতর্কিতদের যেন কমিটিতে ঠাঁই দেয়া না হয় এ দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের। তাদের দাবি, দৌঁড়-ঝাঁপ যেই করুক, সৎ, ত্যাগী ও নতুন-পুরাতনের সমন্বয়ে হবে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, মূলত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল চাচ্ছেন তাদের পছন্দের লোকজনকে কমিটিতে স্থান দিতে।

 

এই নেতাদের মধ্যেই পদগুলো ভাগাভাগি হবে। তাদের মধ্যে সমন্বয় হলেই হয়তো জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখবে। ওদিকে সদ্য নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও এখন চাচ্ছেন তার নিকটতম কয়েকজন নেতা কর্মীকে রাখতে চাচ্ছেন।  

 

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ মো. বাদল জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্পন্ন করতে আমরা কেন্দ্রের কাছে নামের তালিকা জমা দিয়েছি। এখন কেন্দ্র কমিটির অনুমোদন দেয়ার পালা। আশাকরি খুব শিগগিরই আমরা জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পাবে।

 

প্রসঙ্গত: নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ১৯৯৭ সালের ২০শে ডিসেম্বর। তখন অধ্যাপক নাজমা রহমান সভাপতি ও এমপি শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এরপর ২০০২ সালের ২৭শে মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আকরামকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্র থেকে ৬১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি করে দেয়া হয়। পরে আহ্বায়ক এসএম আকরাম পদত্যাগ করে যুক্ত হয়ে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে।

 

পরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয় যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলামকে। ২০১৪ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মফিজুল ইসলাম মারা যান। এরপর ২০১৬ সালের ৯ই অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে সভাপতি এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

 

এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়  কেন্দ্র। কিন্তু ৬ পদ শূন্য রেখেই এই কমিটি তাদের মেয়াদ শেষ করে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন