Logo
Logo
×

রাজনীতি

জাপা প্রীতিই কাল হলো বন্দর আ.লীগের

Icon

এলআর আকাশ

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৫ পিএম

জাপা প্রীতিই কাল হলো বন্দর আ.লীগের
Swapno

 

# কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অভিযোগ পৌঁছানো হয় বলে দাবি করা হয়
# দলীয় দাবিতে অনড় থাকায় সোনারগাঁ ১০ বছরের খরা কাটাতে সফল হয়
# চাটুকারিতা ছাড়তে না পারায় বন্দর ২৩ বছরের খরা কাটাতে ব্যর্থ হয়

 

 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন দুটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দাবি ওঠেছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন সফল হলেও সফল হয়নি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগ। গত কয়েক বছর যাবৎ এই দুটি আসন থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার দাবি ছিল।

 

কিন্তু নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়ে এসে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয় সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে নৌকার প্রার্থী দিলেও ২টি আসনে নৌকার কোন প্রার্থী রাখেননি। আর এই দুটির একটি হলো নারায়ণগঞ্জ-৫।

 

এর কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ওসমান পরিবারের প্রীতি থাকলেও স্থানীয় জাতীয় পার্টির প্রতি প্রীতি দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে ওঠতে পারেনি। কিন্তু বন্দর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শুধু ওসমান পরিবারই নয় জাতীয় পার্টির কাছে নিজেদের দলকে বিকিয়ে দিতে কুন্ঠিত হন না বলে মনে করেন তারা।

 

তাই সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ দলীয় প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে একাত্বতা ঘোষণা করতে পারলেও বন্দর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাদের চাটুকারিতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বলে মনে করা হয়। তাই সোনারগাও আওয়ামী লীগ তাদের ১০ বছরে (২০১৪ সাল থেকে ২০২৩) খরা কাটাতে পারলেও বন্দর আওয়ামী লীগ তাদের ২৩ বছরের (২০০১ সাল থেকে ২০২৩) খরা কাটাতে ব্যর্থ হয়।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে জোটগত নির্বাচন করার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ।

 

তাছাড়া ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়। তাই দীর্ঘ প্রায় টানা ২০ বছর সময় যাবৎ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটিতে আওয়ামী লীগের কোন সংসদ সদস্য না থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য জাতীয় পার্টির সাথে সমঝোতা করাকেই শ্রেয় বলে ধারণা করতে শুরু করেন। তাইতো আওয়ামী লীগের কর্ণধার হয়েও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জয়ী করানোর অভিযোগও আসে বিভিন্ন সময়।

 

এমনকি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছক করে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও জনসমর্থিত নেতাদের অংশ নিতে অনুৎসাহিত করা হয় বলেও নির্বাচনের আগে দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। সেখানে জাতীয় পার্টির নেতাদের জয়ী করতে দুর্বল প্রার্থীদের (স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাও যাদের জানেন না বলে দাবি) নৌকার প্রার্থী করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ আছে।

 

যার ফলাফল নির্বাচন শেষে পাওয়া যায়। দলের অনুগত হিসেবে একজন শক্তিশালী আওয়ামী লীগ নেতা দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করায় প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কাজ করা হয় বলে নির্বাচন শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় তৃণমূলের সাথে আলাপ করে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ এই দুটি আসনে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতার বিরুদ্ধেই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সাথে লিয়াজোঁ রাখার অভিযোগ আসে বিভিন্ন সময়।

 

যেখানে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধেই জাতীয় পার্টির সাথে লিয়াজোঁ বা সমঝোতা করে চলারও অভিযোগ আসে। তবে এই লিয়াজোঁর বিষয়টি সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতৃবৃন্দের মাঝে দেখা গেলেও বন্দর আওয়ামী লীগের প্রধানগণই জড়িত বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ আসে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিগুলো থেকে। বন্দর আওয়ামী লীগের কর্ণধারদের অল্প সময়ে ও সহজ উপায়ে অর্থ-বিত্ত গড়ার লোভ এবং সহজ পদ্ধতিতে আলিসান বাড়ি-গাড়ি গড়ে তোলার জন্য নিজ দলীয় নেতা কর্মীদের বিসর্জন দিয়ে সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ আসে।

 

এমনকি তাদের দলের দায়িত্ব গ্রহণের আগের ও পরের সম্পদের হিসেব বের করলেই থলের বেড়ার বেরিয়ে যাবে বলে দাবি তৃণমূলের। বিষয়গুলো নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অভিযোগ পৌছানো হয় বলে দাবি করা হয়। যার ফলে জেলা আওয়ামী লীগসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাও এখানকার নির্যাতিত ও অবহেলিত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করেন।

 

তাই ভেবেই নেয়া হয়েছিল এবার বন্দর আওয়ামী লীগের সেই ২৩ বছরের খরা ঘুচবে বলে। বন্দর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা যারা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের এসব স্বার্থবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, তারা এখন অনেকটাই ভয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, এর আগে এসব নেতাসহ জাতীয় পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন বলে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও এসব নেতাদের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাঙচুর, এমনকি অপহরণের মতো ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও জানান তারা। ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য কাজ করেছেন তাদের অনেককেই আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ এসেছে।

 

তাদের দাবি, যতদিন অর্থ ও ক্ষমতালোভী লোকদের আওয়ামী লীগের মসনদে বসানো হবে যতদিন পর্যন্ত এখানে দল-প্রেমিক কোন নেতাকে বসানো না হবে ততদিন পর্যন্ত বন্দর আওয়ামী লীগের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না। যারা জনগণের ভোটে সাধারণ কোন পদেও নির্বাচিত হতে না পেরে কিংবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্থান লাভেও ব্যর্থ হয়ে শুধুমাত্র চাটুকারিতা দিয়ে পদ লাভ করে তাদের মাধ্যমে আর যাই হোক দলের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটবে না। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন