সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও জাতীয় পার্টির টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। জাতীয় পার্টি ভাঙ্গনের নয়া সূরে নীরবে নিভৃতে সময় অতিক্রম করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা। কারণ নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির বর্তমানে বলা চলে মূল চালিকা শক্তি ছিল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে লিয়াকত হোসেন খোকার শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে না.গঞ্জ জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে মধ্যে একপ্রকার স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে সাংগঠনিক মূল সহায়ক ছিলেন খোকা। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির এক মাত্র সংসদ হিসেবে থাকা সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচনের পর থেকেই রয়েছে একেবারে নীরবে নিভৃতে।
দলীয় সূত্র বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই জাতীয় পার্টি ভাঙ্গনের একটি আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ জাতীয় পার্টির সংসদ প্রার্থী ভরাডুবির পিছনে খোদ সংসদ প্রার্থীরাই দলীয় চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবকে দুষছেন। যার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে দলীয় চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের উপর ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির পরাজিত সংসদ প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা রয়েছেন।
নির্বাচনের পর থেকেই সংসদীয় এলাকায় তাকে আর দেখা যায়নি ঢাকামুখী রাজনীতির দিকে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে এ সকল বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে জড়াতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু ও সাধারণ সম্পাদক নাইম ইকবাল এবং মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনকে। তবে জেলা এবং মহানগরের জাতীয় পার্টির রাজনীতি সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ছিল দেদুল্যমান।
এছাড়া সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ প্রার্থী থাকলেও জেলা এবং মহানগরের জাতীয় পার্টির কার্যকলাপ চোখে পড়েনি। তবে জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা সংসদ সেলিম ওসমান এবং সাবেক সাংসদ খোকার অনুসারী থাকলেও তাদের পক্ষেও সংসদ নির্বাচনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু এবং মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী সাংসদ সেলিম ওসমানের পক্ষে যতটা ভূমিকা রাখার কথা তার চেয়ে অধিক ভূমিকা রেখেছিল জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও আবু হাসনাত শহীদ বাদল।
কিন্তু জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাইম ইকবাল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার অনুসারী হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদীয় এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বত্র পরিমাণ ভূমিকা রেখেছে। সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টির টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারাও সেই টালমাটাল অবস্থাতেই রয়েছে।
কারণ তাদের নীতি নির্ধারক সংসদ সেলিম ওসমান এবং সাবেক সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা দুজনেই রয়েছে দু অবস্থানে। সংসদ সেলিম ওসমান রয়েছে নীরবে নিভৃতে এবং সাবেক সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা জাতীয় পার্টির চলমান রাজনীতিকে নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রয়েছে ব্যস্তময়। এস.এ/জেসি


