# মেয়র আইভীর পর এমপি বাবু প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়
বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত তেজোদীপ্ত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী বলা হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে। টানা তিনবারের মত এমপি নির্বাচিত হলেন তিনি। এর আগেও তিনি এমপিত্বের স্বাদ নিয়েছেন। যাকে এক নামে সারাদেশের মানুষ চিনে। এমনকি এই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই এমপির খেলা হবে ডায়লগ দেশ ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পায়।
বিভিন্ন সময় সে নানা কারণে ইতিবাচক নেতিবাচক ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় থাকেন এমপি শামীম ওসমান। তিনি আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার পরে শামীম ওসমান ভুমিদুস্য, মাদক, সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছেন। আর এজন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি ওসমানি পৌর স্টোডিয়ামে সভা করে এদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা দিবেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে এবার আর কাউকে মন্ত্রীপরিষদে রাখা হয় নাই। যদিও তিনজন এমপির নাম দাবী তুলেছেন তাদের সমর্থকরা। যদিও এর আগে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী হিসেবে থাকলেও তিনি এবার মন্ত্রীত্ব পান নাই। নতুন মন্ত্রী পরিষদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নাম দাবী জানিয়েছে তার অনুসারীরা। যদিও তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে বেড়ান তাকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি মন্ত্রীত্ব নেন নাই।
যদিও দলের একটি অংশে গুঞ্জন উঠেছে তিনি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার জন্য এবার দলীয় হাই কমান্ডে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। তার সাথে পাল্লা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু দৌঁড়ঝাঁপ করে খালি হাতে ফিরেন নাই। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি দলের পাঁচ জন হুইপ হিসেবে তালিকার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর নাম প্রকাশ হয়েছে। সংসদের হুইপ প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার হয়ে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের থেকে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। যদিও এবারের নির্বাচনের পরে মন্ত্রী পরিষদে তিনি কোন মন্ত্রণালয়ে স্থান পান নাই। তবে প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এছাড়া সদ্য জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদের হুইপ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।
তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। ১৯৭২ সালের ‘দ্যা বাংলাদেশ (হুইপস) অর্ডার অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দেন। আইন অনুযায়ী সংসদে একজন চিফ হুইপ ও ছয়জন হুইপ থাকবেন। চিফ হুইপ মন্ত্রী মর্যাদার এবং হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। এই দিক দিয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে নাসিক মেয়র আইভী ও এমপি নজরুল ইসলাম বাবু প্রমিন্ত্রী পদমর্যাদার দায়িত্বে রয়েছেন। তবে মন্ত্রীত্বে আসতে চেয়ে হোচট খেয়েছেন জেলার প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে মন্ত্রীত্বের দাবী জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। ২০১৮ সনের নির্বাচনে তার সমর্থকরা এই দাবী জোরালোভাবে জানান। এবারও সেই দাবী জানিয়েছেন। কিন্তু এমপি শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা শমাবেশে বলেছেন তাকে মন্ত্রীত্ব হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা নেন নাই।
এছাড়া দলীয় সূত্র বলছে, ২০২২ সনের ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংসদ শামীম ওসমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে যাচ্ছেন সেই আশা নিয়ে তার কর্মী সমর্থকার সম্মেলনে আসেন। কিন্তু যখন পূর্বের কমিটি বহাল রাখা হয় তখন তিনি সহ তার কর্মী সমর্থকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন। তখন দলের মাঝে গুঞ্জন উঠে এমপি শামীম ওসমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসার জন্য দলীয় হাই কমান্ডের কয়েকজনকে ম্যানেজ করেও ব্যর্থ হন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসার স্বাদ আর তার হলো না। এখন নতুন মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই না পেয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের ঝুলি শুন্যই রয়ে গেল।
দলীয় সুত্র মতে, টানা তিনবারের এমপি শামীম ওসমান সফল ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। যার ফলে, তিনি ১৯৯৬ সনে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত এমপি নির্বাচিত হন তিনি। তখন শুরু হয় তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় । তারপরের বছর ১৯৯৭ সনে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। পাঁচ বছরের জন্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে খ্যাত নারায়ণগঞ্জে সেই সময় টানবাজার পতিতালয় উচ্ছেদ করে আলোচনায় আসেন শামীম ওসমান। তখন তিনি ছিলেন রক্তগরম থাকা এক যুবক। পুরো জেলা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। যদিও এখন আর সেই আগের আধিপত্য তার নেই। রাজনীতি প্রতিক্রিয়ায় ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার হেরে গেলে শুরু হয় ক্ষমতার পালা-বদল।
তখন দেশ ছেড়ে পালাতে হয় বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে। একা হয়ে পড়েন তিনি। জীবনের প্রায় আটটি বছর ভারত ও কানাডায় অতিবাহিত করেন। পরে ২০০৮ সনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সাংসদ শামীম ওসমান দিন শেষে ২০০৯ সালে আবার নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন। বন্দর নগরীতে আবারও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন।
তবে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র নির্বাচনে তৎকালীন জনপ্রিয় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভির কাছে পরাজিত হন তিনি। যদিও এই পরাজায়কে আজও তিনি ভুলতে পারেন নাই। এখনো মেয়রের চেয়ারে বসার অপূর্ণতা হ্যাট্রিক এমপি শামীম ওসমানের রয়েছে। সুযোগ পেলে তার হাতছানি তিনি করবেন না বলে মনে করেন তারই দলের নেতাকর্মীরা।
অবশেষে কেন্দ্রীয় কমিটি ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। তারপর থেকে দশম, ২০১৮ সনে একাদশ নির্বাচনে এমপি হন, সর্বশেষ ২০২৪ সনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সফলভাবে বিজয় লাভ করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে এমপি হয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছেন। কিন্তু তিনি এমপি হলেও শামীম ওসমানের ঝুলি যেন শুন্যের কোঠায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উত্তর বলয়ের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দলীয় কমিটি গঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্বাচনে তার প্রভাব ফুটে উঠে। শামীম ওসমানের এখনো তিনটি জায়গায় অপূর্ণতা রয়েছে। আর তা হলো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের চেয়ারে বসার স্বাদ এবং মন্ত্রী পরিষদে যাওয়া। তাই তার ঝুলি শুন্য রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল। এস.এ/জেসি


