আবারো বিএনপির কালো পতাকা কর্মসূচি ঘোষণা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৭ পিএম
# আগামী ৩০ জানুয়ারী আরেক দফা কালো পতাকা মিছিল
দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি। বছরের পর বছর জুড়েই একের পরন এক দাবি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি অবহৃত রেখেছে। কিন্তু তাদের আন্দোলনের মাঝ দিয়েই ২০১৪ সালের নির্বাচন ২০১৮ সালের নির্বাচন সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ও বিএনপি অংশগ্রহণ করলেন না তাদের আন্দোলনের ফাঁক দিয়েই অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচন।
যাকে ঘিরে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একটি আলাদা হতাশার দেখা মিলে যাদের দীর্ঘদিনে রাজপথে চাঙ্গা দেখা গেছে তাদের এখন অনেকটাই হতাশ দেখা যায়। এদিকে গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে হাজারো মামলা হয় যা নিয়ে বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারী অবৈধ ও ডামি আখ্যা দিয়ে তা বাতিল, নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঢাকায় বিএনপির কালো পতাকা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। যাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কর্মসূচি পালনে অংশগ্রহণ করেন।
জানা গেছে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ঝিমিয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের আবারো রাজপথে চাঙ্গা করা। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছিলেন ২৭ তারিখ ঢাকায় কালো পতাকা কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীরা আবারো রাজপথে আসা শুরু করবে। এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলায় এখন জামিন পেয়ে মুক্ত হচ্ছেন। আরোও জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সকল নেরতাকর্মীদের জামিন মঞ্জুর হবে। তারপর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা লাগাতার কর্মসূচি পালন চালিয়ে যাবে।
এদিকে গতকাল শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত কালো পতাকা মিছিল থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। জানা গেছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবৈধ ও ডামি আখ্যা দিয়ে তা বাতিল, নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ফের কালো পতাকা মিছিলের ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে এই কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে আশার আলো দেখা যাচ্ছে তারা এই কর্মসূচি সফল করতে ও সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল আরো শক্তিশালী করতে আবারো চাঙ্গা হচ্ছে বিএনপি। এদিকে জানা গেছে, বিএনপির এই কর্মসূচি পালনে অনেককেই চোখে পড়েনি কিন্তু সামনের সকল আন্দোলনে বিএনপির সকল নেতাকর্মী ব্যাপক হারে রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যাকে ঘিরে বোঝা যাচ্ছে সামনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচিগুলো কঠোর হতে পারে।
সূত্র মতে, গেল ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ভোট-পরবর্তী নীরবে সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। ভোটের আগে দাবি আদায় নিয়ে হাঁকডাক দিলেও এখন রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় দলটি। গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর ২৯ অক্টোবর থেকে দলটি চার দফা হরতাল ও ১৩ দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এরপর লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি দিয়ে আসছে দলটি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও কর্মসূচি দিয়েছিল দলটি। নির্বাচনের আগে ঢাকাসহ সারা দেশে মিছিল ও গণসংযোগ করে বিএনপি। পরবর্তীতে নির্বাচনের পর এই প্রথম কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে বিএনপি। এর আগে দীর্ঘদিন যাবৎ হরতাল-অবরোধ পালনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। রাজপথে সকলে একত্রিত হতে পারেননি। কিন্তু এই কর্মসূচি সফল করতে আবারো সেই পুরানোভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় বিএনপি।
যার জন্যই এখন একটি আমেজ মুখর ভাবে কালো পতাকা করেছেন। এবার প্রত্যেকটি জেলায় ও থানা, উপজেলায় ৩০ জানুয়ারী কালো পতাকা মিছিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সকল নেতা ও পুলিশ-প্রশাসনের মনোভাব দেখেই সামনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আর বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, যদি বিএনপি আবারো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভরাত দিয়ে রাজপথে নামার স্বপ্ন দেখছে তাহলে এই ঘোষিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মী সংকট দেখবে বিএনপি।
কারণ দেশের সাধারণ জনগণ বিএনপির সাথেই আছে যার প্রমান হয়েছে গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচনে এবার সাধারন জনগণ যেহেতু বিএনপির সাথেই আছে তাহলে সামনের সকল আন্দোলনে বিএনপি বিজয় হবেই। এখন লড়েই বিজয় আনতে হবে কারো আশায় বসে থাকলে বিজয় দেখা হবে না।
এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি বর্তমানে সামনের লড়াই আরো জোরদার করতে সংসদের প্রথম দিনেই আরেক কালো দিন রচিত করে আরেকটি কালো-পতাকা মিছিলের ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাথে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন যাকে ঘিরে বোঝা যাচ্ছে সামনে তুমুল লড়াইয়ের আভাস। এস.এ/জেসি


