নির্বাচনের পরপরই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৩ পিএম
# কর্মসূচি পালনে কোন প্রকারের সহিংসতা হবে না: আব্দুল হাই
# আমরা এখনো কর্মসূচি নিয়ে কোন প্রস্তুতি নেয়নি : আনোয়ার হোসেন
# আমরা শান্তিপূর্নভাবেই আমাদের কর্মসূচি পালন করবে: সাখাওয়াত
# বিএনপি শান্তিপূর্নভাবে কর্মসূচি পালন করলে আমাদের কোন আপত্তি নেই : খোকন সাহা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিসহ দেশের পাঁচ রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে। আর ওইদিন বিএনপিসহ চার রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ পালনের ডাক দিয়েছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ডাক দিয়েছে শান্তি সমাবেশের। ফলে নির্বাচনের পর একই দিনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে দেশের পাঁচ রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও হেফাজতে ইসলাম। এতে রাজনৈতিক মাঠে আবারও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শঙ্কা আর উৎকণ্ঠা বাড়ছে জনমনে।
এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘অবৈধ ও ডামি’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল, নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আগামী ৩০ জানুয়ারি দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। গতকাল শনিবার (২৭ জানুয়ারি) এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
তাদের এই ঘোষণার পরপর একইদিনে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঘোষণায় আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি সারাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন লাল-সবুজ পতাকা হাতে গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়ন কীভাবে হবে, সেই কথা বলা হবে। সারাদেশে পাহারায় থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এরপর একে একে মাঠের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং হেফাজতে ইসলাম। জানা গেছে, বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলটিকে ক্ষমতাসীনরা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। সরকারের শুরু থেকেই পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অপর দিকে বিএনপিসহ কর্মসূচি ঘোষণা করা দলগুলো বিগত দিনের মতো শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করতে চায়। তাদের দাবি ক্ষমতাসীন দল যদি এই শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিলে কোন প্রকারের সহিংসতা করেত চায় আমরা তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছি।
কিন্তু নির্বাচনের পর পরই আবারো বড় দুই দলের মাঠে পাল্টাপাল্টিভাবে নামা নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এমনকি বিএনপির নেতারা ও বলছে, আওয়ামী লীগ সহিংস ঘটনা ঘটানোর লক্ষ্যেই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া সূত্র মতে, সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি ছিল।
ওই দিন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনসহ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির মহাসমাবেশের কর্মসূচির বিপরীতে আওয়ামী লীগ বিশাল শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করেছে। তবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ওই মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নাশকতা, সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও হয়।
প্রধান বিচারপতির বাসভবন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। হামলায় একজন পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। বিএনপির মহাসামবেশ পণ্ড হয়ে যায়। এরপর থেকে কয়েক দফা হরতাল-অবরোধের ডাক দিলেও ব্যাপক ধরপাকড়, মামলা ও নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের মধ্যে বিএনপি আর মাঠে নামতে পারেনি। বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মুখে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
ভোটের আগে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মাসখানেক বিএনপি ও তার মিত্ররা লিফলেট বিতরণ করেছে। নির্বাচনের পর কিছুদিন বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও পাল্টা কর্মসূচি নেয়নি সরকার সমর্থকরা। কিন্তু যখনই বিএনপির নির্বাচনের পর পরই আবারো চাঙ্গা হওয়ার লক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করলেন এমতা অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফার পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি -আওয়ামী লীগসহ দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো নানাভাবে কর্মসূচি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ সগরম রেখেছে এবার ও নির্বাচনের পর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গণ।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আগামী ৩০ জানুয়ারী রাজপথে শান্তি সমাবেশ পালন করবো। এই সমাবেশের জন্য আমাদের প্রস্তুতি অবহৃত রয়েছে। তিনি বলেন, একই দিনে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিসহ আরো কয়েকটি দলেল কর্মসূচি রয়েছে। এটা নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই, তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো। এখানে কোন প্রকারের সহিংসতা হবে না।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা এখনো কর্মসূচি নিয়ে কোন প্রস্তুতি নেয়নি। কিন্তু যেহেতু এটা দলীয় কর্মসূচি আমরা এটাকে সমর্থন করি। আমরা কর্মসূচি নিয়ে একটি মিটিং করবো। সেখান থেকে কি সিদ্ধান্ত হয় সেই মোতাবেক কাজ করবো। আর বিএনপি যেহেতু একই দিনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা যদি কোন সহিংসতা করতে চায় এটা আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বুঝবে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে ও দেখেছি বিএনপি যখনই কোন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়,তখনই পাল্টাপাল্টিভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আমরা তাদের এই চিত্র নির্বাচনের পূর্বে ও দেখেছি নির্বাচনের পরবর্তীতে ও এটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
যার ধরন বোঝা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে পায়ে পাড়া দিয়ে সহিংস ঘটনা ঘটাতে চাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি জনগণের দল, বিএনপি শান্তি প্রিয় দল, শান্তিপূর্নভাবেই আমাদের কর্মসূচি পালন করবো ও সফল করবো। এখানে ক্ষমতাসীন দল কি করলো তা আমাদের দেখার কিছু নেই। আর যদি আওয়ামী লীগ আমাদের কোন বাধা বা সহিংসতা ঘটাতে চায় আমরা তা প্রগিহত করবো।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় চায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপরে তাদের সহিংসতার দোষ চাপিয়ে দিতে। সেই লক্ষ্যে নিয়েই আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু দেশের জনগণ এখন সব যানে করা দেশকে অশান্তি করতে চায়। বিএনপির শান্তি প্রিয় দল শান্তিপূর্নভাবেই কর্মসূচি সফল করবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপি যদি শান্তিপূর্নভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করে তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। যদি কোন সহিসংতা করতে চায় আমরা তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা প্রতিহত করাবো। এন. হুসেইন রনী /জেসি


