৭ বছর যাবৎ মহানগর যুবদল পূর্ণাঙ্গ ও ইউনিট কমিটি বিহীন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
# নেতা পরিবর্তনেও বদলায়নি যুবদলের ভাগ্যের চাকা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে অন্যতম নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। মহানগর যুবদলকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে হলে নিশ্চই মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনেকটাই গুরুত্বপূর্ন। এছাড়া সাংগঠনিক প্রক্রিয়াধীন অনুযায়ী ইউনিট কমিটি করতে হবে যোগ্য নেতাকর্মীদের দ্বারা। কিন্তু দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ পৃথক পৃথক দুই মহানগর যুবদলের কমিটি গঠন হলে ও একটির মাধ্যমে ও হয়নি মহানগর যুবদলকে শক্তিশালীভাবে ঘরে তোলার প্রক্রিয়া।
এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের এই ব্যর্থতার কারণে রাজনৈতিক পরিচয় পাননি যুবদলের শত শত নেতাকর্মী। এদিকে খোরশেদ-মন্তু কমিটি ৩ বছর দায়িত্বে থেকেও ব্যর্থ হয়েছেন ইউনিট কমিটি দিতে। পরবর্তীতে মন্তু-সজল কমিটি ২ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তারা ইউনিট কমিটি গঠনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া ইউনিট কমিটি ও পূর্নাঙ্গ কমিটির নামে অর্থ বাণিজ্যের নানা অভিযোগের কান্ডারী হয়েছেন তারা। যা নিয়ে সেন্ট্রাল পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চিঠি পৌঁছেছে।
যাকে ঘিরে সর্বশেষ বর্তমান ৩ সদস্য বিশিষ্ট সজল-শাহেদ-সাগর কমিটি ৬ মাস পার করলে ও তারা দিতে পারেনি ইউনিট কমিটি তা ছাড়া এখনো পূর্নাঙ্গ করতে পারেনি মহানগর যুবদলকে শুধু তাদের নেতৃত্বে সদর থানার আওতাধীন আলীরটেক ইউনিয়ন ও বন্দর থানার আওতাধীন মুছাপুর ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তা ও আবার আরো ৪ মাস পূর্বে এর পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, সদর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা, বন্দর উপজেলা যুবদলের কমিটি এখনো দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে বর্তমানে দোষ পরছে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদের উপরে।
জানা গেছে, পর পর দুইটি কমিটির নেতৃত্বে থাকা নেতাদের উদাসিনতা ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের নেতৃত্বের বিস্তার ঘটাতে পারেননি মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটিতে স্থান পেতে এক ঝাঁক নেতা এখই প্রস্তুত নিয়ে আছে এমন করে প্রত্যেকটি থানার নেতারা ঝাঁকে ঝাঁকে কমিটিতে স্থান পেতে লবিং জোরদারভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু গত ৩ মাস যাবৎ বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠোর আন্দোলনের লক্ষে রাজপথে নেমে মামলা-হামলার শিকার হওয়ার কারণে নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে ছিলেন কিন্তু যেহেতু দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে সেই ক্ষেত্রে আবারো উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিয়ে আন্দোলনের নামে আবারো রাজপথে চাঙ্গা হতে যাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা এমতা অবস্থায় দ্রুত মহানগর যুবদলের ইউনিট কমিটি অতন্ত জরুরী।
তা না হলে আগামীতে মহানগর যুবদল নেতা ও কর্মী সংকটে পরবে। যার মূল কারণ হলো বর্তমানের নেতাকর্মীরা পদ-পদবী ছাড়া আন্দোলনে নামতে চায় না, কারণ সকলেই চায় তাদের একটা আলাদা পরিচিতি সেই লক্ষে শীগ্রই ইউনিট কমিটি ও মহানগর যুবদলকেত শক্তিশালী করতে হলে পূর্নাঙ্গ কমিটি অতন্ত প্রয়োজন।
সূত্রে মতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আওতায় রয়েছে সদর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও বন্দর উপজেলা ইউনিট। রয়েছে ৫ ইউনিয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি। এতগুলো কমিটির মধ্যে মাত্র দু’টি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করেছে বর্তমান মহানগর কমিটির নেতারা। বাকি ইউনিটগুলোতে দীর্ঘদিন কোনো কমিটি নেই। মহানগর যুবদলের কমিটিতে বারবার রদবদল হলেও এসব ইউনিট কমিটির পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মনের আশা আর পূরণ হয়না।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি, মমতাজ উদ্দিন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন শোখনকে সহ-সভাপতি, সাগর প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রশিদুর রহমান রশোকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৫ মাস পর ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই কমিটি বিলুপ্ত করে যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদ। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সুপারফাইভ আহবায়ক কমিটি। মমতাজউদ্দিন মন্তুকে আহ্বায়ক আর মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে ঘোষণার প্রায় ২ বছর এই ৫ জনেই আটকে ছিলো মহানগর যুবদল। এই সময়ের মধ্যে মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি, পারেনি কোনো ইউনিট কমিটিও ঘোষণা করতে।
তারা শুধু কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে উৎফুল্ল ছিলো তাদের নেতাকর্মীরা তাদের থেকে দূরে দূরে থাকতো তারা রাজপথে দেখাতে পারেনি কোন ভূমিকা। তা ছাড়া এই কমিটি গঠনের পর থেকে একের পর এক অভিযোগ ছিলো মহানগর যুবদলের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই কমিটি বিলুপ্ত করে গত ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে ঘোষণা করা হয় মহানগর যুবদলের ৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি।
এই কমিটি ও ৬ মাস অতিবাহিত করে ফেললো কিন্তু ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করতে পারেনি। কিন্তু নেতাকর্মীরা আন্দোলনে রয়েছে যারা কমিটিতে স্থান পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছে। এদিকে শীগ্রই কমিটিতে গঠনের জন্য নেতাকর্মীরা চাপ ও দিয়ে আসছে কিন্তু দলের দূসময়ের কারণে এখনো কমিটি হয়নি বলে জানা গেছে। এখন নেতাকর্মীরা মামলায় জামিন পেয়ে এসেই কমিটি গঠনে জোরদার ভূমিকা দেখাবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা ইউনিট কমিটি গঠনের জন্য নানা প্রক্রিয়া চালু করেছিলাম সেই অনুযায়ী ২টি ইউনিয়ন কমিটি ও গঠন করেছি। কিন্তু হঠাৎ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগে বিএনপি কঠোর আন্দোলন ঝাঁপিয়ে পরে সেই কারণে আমাদের কমিটি গঠনের পক্রিয়া অনকেটাই পিছিয়ে পরে। এবার আমরা আবারো আমাদের কমিটির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় বসবো সেই অনুযায়ী শীগ্রই ইউনিট কমিটি ও আমাদের মহানগর যুবদলের কমিটি ও পূর্নাঙ্গ করবো। এস.এ/জেসি


