মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়করা উধাও
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
দীর্ঘদিন যাবৎ এক দফা দাবির আন্দোলনে দফায় দফায় হরতাল-অবরোধ পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। যাকে ঘিরে মামলা, হামলা, গ্রেফতার, নির্যাতনে দিনের পর দিন ঘর-বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে দীর্ঘ আড়াই মাস কঠোর আন্দোলন করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদিকে ১৩ দফা অবরোধ পালন করেন বিএনপি যাকে ঘিরে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমেই আন্দোলন চালিয়ে যান তারা।
এদিকে যেহেতু বিএনপি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এমতাবস্থায় গত ৭ জানুয়ারী ক্ষমতাসীন সরকারের হাতেই আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে নির্বাচনের দুই দিন আগে বিএনপি যে হরতাল ঘোষণা দিয়েছিলেন তা নির্বাচনের উপর দিয়েই যায় কিন্তু সেই আন্দোলনের মাঝ দিয়েই হয়ে যায় দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন হয় যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পরেছিলেন।
কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আগ মহুর্ত্বে নির্বাচন বর্জনের যে ডাক দিয়েছিলেন সেই ডাকে দেশের জনগণের সাড়া পেয়ে অনেকটাই উৎফুল্লহ রয়েছেন। যেদিকে লক্ষে রেখে কিছু ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের আবারো রাজপথমুখী করতে গত ২৭ তারিখ ঢাকায় ‘দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজ বন্দীদের মুক্তির ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের’ প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সেখান থেকে গতকাল ৩০ জানুয়ারী একই দাবিতে কালো পতাকা মিছিলের যাক দেওয়া হয় যা থানা, উপজেলা ঘিরে। কিন্তু আন্দোলনের এমন কঠোর প্রহরে মূখ ফিরিয়ে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পদে থাকা একাধিক নেতাকর্মী যারা বিগত দিনে ব্যানারের সামনে অবস্থান রেখে রাজপথে ছিলেন আজকে এই নেতাদের খুঁজেই পাচ্ছে না কর্মীরা। যা নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
জানা গেছে, বিএনপির কঠোর ৩ মাস পাড় হলে ও এদের মুখ দর্শন করেনি মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন জাকির, যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নূর উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফাতেহ মো.রেজা রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, যুগ্ম আহ্বায়ক এই.এইচ মামুন। পদে না থাকা যুগ্ম আহ্বায়কদের নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল চিন্তিত হয়ে পরেছেন কর্মীরা। আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম.এইচ মামুন কানাডায় চলে গেছেন।
যার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়করা কেউ আন্দোলনকে আপন হিসেবে গ্রহণ করেনি যেমনটা গ্রহণ করেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড সাখাওয়াত হোসনে খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
জানা গেছে, দীর্ঘ ৮২ দিন দলের জন্য কারাভোগ করেছেন এই টিপু তিনি গত ২৯ জানুয়ারী পাঁচটি থানায় ১১টি মামলায় জামিন নিয়ে বের হয়ে এসেছেন। এসেই আবারো আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরেছেন। তাছাড়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত যিনি আহ্বায়ক দায়িত্ব পালনে ছিলেন অনড় সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত আলাপ আলোচনা করে কর্মসূচি পালন করিয়ে গেছেন। নির্বাচনের পর পর জামিন নিয়ে আবারো রাজপথের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, যদি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবই আন্দোলন চালিয়ে যায় তাহলে বাকিরা কি করছে তাদের কমিটিতে রেখে কি লাভ এমন প্রশ্ন তৃণমূলে ঘুর-পাক খাচ্ছে।
সূত্র বলছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। সেখানে আহ্বায়ক করা হয় এড. সাখাওয়াত ও সদস্য সচিব করা আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে যার পর থেকেই একটি অংশ বিভক্ত হয়ে আলাদা একাংশ মহানগর বিএনপি গঠন করে। কয়েক মাস দুই পক্ষের মধ্যে কমিটি নিয়ে টানাপোড়ন দেখা গেলে ও হঠাৎ নিষ্ক্রিয় হয়ে পরেন একাংশের ১৫ জন বিদ্রোহী নেতা।
এদিকে বিদ্রোহী আতাউর রহমান মুকুলকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঙ্গল মার্কা হিসেবেই চিনে থাকে। যার কারণে নেতাকর্মীরা বলছে সে ক্ষমতা চায় রাজনীতি চায় না যার কারণে বিএনপি থেকে গাঁ বাচিঁয়ে চলছে। এমনকি লাঙ্গলের সাথে ব্যাপকভাবে আতাঁতের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও করা হয়েছে। আরেকজন বর্তমানে আব্দুস সবুর খান সেন্টু তিনি ও মুকুলের সাথে তাল মিলিয়ে চলে বর্তমানে তৈমূর বলয়ে ঘেঁষা খায় কিন্তু কিছুদিন পূর্বে তৈমূর আলম খন্দকার তৃণমূল বিএনপিতে চলে যাওয়ার কারণে তারা হতাশ হয়ে পরেন।
পর পরই নির্বাচনের আগ মুহুর্ত্বে নানা অভিযোগে মুকুলকে ও দল বহিষ্কার করলে দিশেহারা হয়ে পরেন সেই বিদ্রাহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। তারা দীর্ঘদিন কঠোর আন্দোলনে ঘরে বসে থেকে বিএনপির নামধারী নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। তাছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন, রেজা রিপন, আনোয়ার হোসেন আনু তাদের সকলেই ‘ওয়ানম্যান শো’ নেতা হিসেই চিনে তারা শুধু একাই রাজপথে আসে আর যায় তাদের নিজস্ব কোন লোকবল নেই কিন্তু পদটি নিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে।
এদিকে রিপন রেজার নামে একটি মামলার খবর পেলে ও আর এড. জাকির হোসেন জাকির দীর্ঘদিন কারভোগ করেছেন। আর বাকিরা কেউ কোন মামলার আসামী হয়নি তারা আন্দোলনে নিজ বাসভবনেই শান্তির নিঃশ্বাস নিয়েছেন। এদিকে নির্বাচন শেষ পুলিশ প্রশাসনের বিগত দিনে বিএনপির উপরে যে চাপ প্রয়োগ করতেন তা এখন অনেকটাই কম এমতা অবস্থায় পর পর দুইটি কর্মসূচি ঘোষণাতে ও এই নেতারা অনীহা প্রকাশ করছেন রাজপথে থাকতে।
যাকে ঘিরে নেতাকর্মীরা বলছে, বর্তমানে যে যে নিষ্ক্রিয় নেতারা যুগ্ম আহ্বায়কের পদের রয়েছে তাদের এই পদ থেকে বাদ দিয়ে এখানে যোগ্য ও রাজপথের লড়াকু নেতাদের দিলে সামনে মহানগর বিএনপি আরো গতিশীল ও শক্তিশীল হয়ে উঠবে। এস.এ/জেসি


