Logo
Logo
×

রাজনীতি

বাদলের মত নিজামও কী সেলিম ওসমানের কাছে ল্যাতা হলেন!

Icon

এম মাহমুদ

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম

বাদলের মত নিজামও কী সেলিম ওসমানের কাছে ল্যাতা হলেন!
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন একটি প্রভাবের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয়। আর এই প্রভাবকে ত্বরান্বিত করেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ওসমান পরিবার। তবে এই ওসমান পরিবারের নেতৃত্বে থাকা প্রজারাই কখনো কখনো তাদের অতিক্রম করে প্রভাব প্রতিপত্তির রাজা হতে চান। আর তখনই এইসব প্রজা অর্থাৎ ওসমান পরিবারের অনুসারী নেতাদের নেতা থেকে ল্যাতা বানিয়ে দেন ওসমানরা। যেটা বিগত বেশ কয়েকজন প্রজা অর্থাৎ ওসমান পরিবারের অনুসারী নেতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে।

 

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ রাজনৈতিক অঙ্গন নির্বাচনের পর ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর সেই উত্তপ্ততার পিছনে প্রধান ভূমিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ওসমান পরিবার। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ‘লাকি কুপন বা লটারি’ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

 

তবে তার অন্তরালে পরিচালিত হচ্ছিল জুয়া আসর ও মাদকসেবীদের আড্ডা এমন অভিযোগে পার্কটিতে এ সকল কর্মকান্ডে বাধা দেন যার বাবার নামকরণে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কটি তারই সুযোগ্য সন্তান যুবনেতা আজমেরী ওসমান। কিন্তু তার বাধাকে পাত্তা না দিয়ে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম দিব্বি ‘লাকি কুপন বা লটারি’ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন।

 

মূলত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। যার কারণে এই সংসদের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করতে দ্বিধা বোধ করেননি নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম।

 

তাছাড়া আজমেরী ওসমান এ সকল কান্ডে বাধা দেয়ায় আজমেরী ওসমানের ৬ সমর্থককে একজন সাংসদের ইশারায় শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হলেও এই ঘটনার ইতি ঘটেনি। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের দেয়া বাধা দেয়াকে বাহবা দিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের তত্ত্বাবধায়ককে উদ্দেশ্য করে হুংকার দেন।

 

মূলত, বিকেএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, যদি আজকের মধ্যে জুয়া বন্ধ না করা হয় তাহলে আগামীকাল আমি সংসদ শেষ করে, সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে আমি পার্কসহ সকল কিছু উচ্ছেদ করবো। যদি কোন বাপের বেটা থাকে তাহলে আটকাবে।

 

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের তত্ত্বাবধায়ক শাহ নিজাম নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে পার্কটিতে চলমান কুপন বিক্রি বন্ধের ঘোষণা নিশ্চিত করেন।

 

শাহ নিজাম নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে বলেন সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, ইদানিং নম পার্ক নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি মুলক তথ্য আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই প্রচার করা হচ্ছে। বিগত ৯ বছর যাবৎ এই পার্কটি চলছে। এ পর্যন্ত এমন কোন কাজ করা হয়নি যা পার্কের নাম করণে বিন্দুমাত্র সন্মানহানিকর। শুরু থেকেই এই পার্ক লোকসানে আছে। কিন্তু অনেক কষ্ট হলেও পার্কটি বন্ধ করিনি।

 

গত কিছু দিন আগে আমি যখন নারায়ণগঞ্জের একটি সামাজিক সংগঠনের প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম তখন আমার পার্কের কর্তৃপক্ষের লোকের সাথে একটি ইভেন্টের সাথে চুক্তি হয়, মেলা করার, যাতে পরিষ্কার ভাবে লিখা আছে, এখানে কোন জুয়া, অশ্লীল ও অসামাজিক কাজ করা যাবে না। ব্যস্ততার কারণে আমি পরিপূর্ণ খেয়াল রাখতে পারিনি, যার সুযোগে কিছু লোক আমার বক্তব্য ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছে মতো সংবাদ পরিবেশন করেছেন, যা আমি মনে করি এটা সাংবাদিকতার নিয়মের বাইরে।

 

আমি যখন ভালোভাবে জানতে পারলাম তখনি পার্ক কর্তৃপক্ষকে এই মেলা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করি। আমার রাজনীতির দীর্ঘ ৩৮/৩৯ বছর বয়সে নারায়ণগঞ্জে এমন কোন কাজ নিজ স্বার্থে করিনি যাতে মানুষ খারাপ বলবে। আমি আমার নিজের স্বার্থের প্রয়োজনে এমন কোন কাজ করিনি যে কাজের জন্য আমার নেতা শামীম ওসমানের সন্মান ক্ষুন্ন হবে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চুক্তির বাইরে কাজ করার কারনে চুক্তি পত্র বাতিল করে মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আমি রাজনীতি করি আদর্শের, কোন ধান্দার রাজনীতি করি না এটাই আমার সাহস এটাই আমার সততা। পার্ক কান্ডে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ওসমান পরিবারের অনুসারী হিসেবে ফের ওসমান পরিবারের অন্যতম নীতি নির্ধারক নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের কাছে নেতা থেকে লেতা হলেন ঠিক এমনটাই অভিমত প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল।

 

প্রসঙ্গত এর আগেও সেলিম ওসমানের আসনে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদকে বন্দরের এমপি ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল। আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীকে ব্যাঙ্গ করে নেতার পরিবর্তে ‘ল্যাতা’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন সাংসদ সেলিম ওসমান।

 

আর এই সেলিম ওসমানের কাছেই ফের নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম হুংকার খেলেন। এতে করে রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে আলোচিত হচ্ছে, নিজামও কী সেলিম ওসমানের কাছে বাদলের মত ল্যাতা হলেন? এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন