‘ক্লিন ইমেজ’ গড়তে ব্যস্ত শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের চমকপ্রদ ইতিহাস রয়েছে। আবার এই পরিবারের সদস্য হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেও তেমনি ভাবে বিতর্ক থেকেও বাদ পড়েন নাই। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমানকে নিয়ে নিজ দলের লোকেরাই সমালোচনা করতেও কার্পণ্য করেন নাই। এই নেতা সারা বছর জুড়েই স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা সমালোচনার মাঝেই থাকেন এই জনপ্রতিনিধি। তাকে বিভিন্ন সময় ঘটনার প্রেক্ষিতে নানা তকমা দেওয়া হয়েছে।
তার মাঝে সাংসদ শামীম ওসমানকে এক সময় সন্ত্রাসী বলা হত। পরে তাকে গডফাদার তকমা দেওয়া হয়। আবার কখনো কখনো তাকে খুনি হিসেবে অভিযোগ করা হয়। অপরাধীদের শেল্টারদাতা বলা হয়। কিন্তু এই সকল তকমার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান নিজেকে ক্লিন ইমেজ হিসেবে তৈরী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কেননা গুঞ্জন উঠেছে মন্ত্রীত্ব পেতে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। যদিও তিনি নিজে একাধিকবার বলেছেন, তাকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে প্রত্যাশা নামক সংগঠনের মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু, চাদাঁবাজ, ইভটিজিং মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন টানা তৃতীয় বারের নির্বাচিত এমপি শামীম ওসমান। সপ্তাহ খানিক আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দিয়ে প্রকৃত গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। কিন্তু নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলেন প্রকৃত অর্থে কি তিনি এই সকল অপরাধীদের মুক্ত করতে পারবেন।
কেননা অভিযোগ রয়েছে এই অপরাধের সাথে তার কাছের লোকেরাই জড়িত রয়েছে। নিজের লোকদের কিভাবে অপরাধ থেকে মুক্ত করবেন এই প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। তবে তিনি যদি সমাজ থেকে এই অন্ধকার নামক অপরাধ মুক্ত করতে পারেন তাহলে তাকে এই কাজের জন্য নগরবাসি সাধুবাদ জানাতে প্রস্তুত।
জানা যায়, গত কয়েক বছরে নিজেকে একজন খোদা ভীরু ব্যক্তি হিসেবে তৈরী করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের হুঁশিয়ার দেয়া এক শ্রেণির মাওলানাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদেরকে আপনারা ইসলাম বুঝান আমরা কুরআন পড়ি না? ২২ বছর ধরে তাহাজ্জুদ ছাড়ি নাই। প্রতিদিন ৮৪ রাকাত তাহাজ্জুদ নফল নামাজ আদায় করেন এই জনপ্রতিনিধি। অল্প সময়ের নোটিশে হাজার হাজার কর্মীর সমাগম করাতে পারেন তিনি। এছাড়া যে কোন মহুর্তে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে লক্ষাধিক লোক নিয়ে ঢাকার দলীয় সমাবেশে সমাগম দেখাতে পারেন। যা অন্যরা পারেন না।
সুত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীত্ব পেয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি ২০১৮ সনের নির্বাচনের পরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের পরে নতুন করে সংসদ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় রয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হয়েও সাংসদ শামীম ওসমানের মন্ত্রীত্বে অপূর্ণতা রয়েছে। তবে নতুন মন্ত্রী পরিষদে যারাই মন্ত্রীত্ব পেয়েছে তাদের কেউই বিতর্কিত নন। ক্লীন ইমেজের ব্যক্তিদের নতুন মন্ত্রী পরিষদে রাখা হয়েছে। তবে মন্ত্রী পরিষদ এখনো কিছু খালি রয়েছে। দলের মাঝে বলা হচ্ছে সেখানে সুযোগ নিতে নিজে ক্লিন ইমেজ হিসেবে দেখাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছে তিনি। তাই অনেকে অনেক প্রশ্ন রাখেন এতো দিন তিনি কোথায় ছিলেন।
সুত্র মতে, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে র্যাবের কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে শীর্ষ অপরাধী হিসেবে শামীম ওসমানের ছবি টাঙানো ছিল। নারায়ণগঞ্জ পুলিশের তালিকায়ও শামীম ওসমান ছিলেন ‘এক নম্বর সন্ত্রাসী’। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটে ছবিসহ শামীম ওসমানকে ধরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা ছিল। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ পাঠানো হয়েছিল তখন।
পলাতক থাকা অবস্থায় শামীমের বিরুদ্ধে সাত বছরের সাজাও হয়েছিল। এখন আর ওই সব তালিকায় শামীম ওসমানের নাম নেই। ইন্টারপোলের নোটিশের কার্যকারিতা শেষ। তবে আছে ওসমান পরিবারবিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলনে পুরোধার ভূমিকায় চলে এসেছেন নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
জানা যায়, ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপােরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় গিয়ে নৌকার প্রার্থী মেয়র আইভীর বিপক্ষে প্রার্থী ছিলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার। বর্তমানে তিনি তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব। নির্বাচনের প্রচারণায় গিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মেয়র আইভী বলেছেন, তৈমূর হলেন শামীম ওসমানের প্রার্থী। তিনি বলেছেন এটা তার পুরনো খেতাব পাওয়া।
তাছাড়া নাসিক নির্বাচন আসলেই মেয়র আইভী এবং শামীম ওসমানের দূরত্ব সামনে আসে। এছাড়া সেভেন মার্ডারেও এই জনপ্রতিনিধির নাম নিয়ে গুঞ্জন উঠে। যদিও পরে তা পানি হয়ে যায়। তাই নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলেন এত কিছুর পরেও ৮৪ রাকাত তাহাজ্জুত নামাজ পড়া ব্যক্তি কি নিজেকে ক্লিন ইমেজ হিসেবে দেখাতে পারবেন।
এমপি শামীম ওসমান ২৭ জানুয়ারি এক সভায় বলেন, আমার নাম শামীম ওসমান। আমি কারো দয়ায় চলি না। আমি রাজপথ থেকে সৃষ্টি হওয়া মানুষ। যারা জনগণের সেবক হয়ে চাকরী করেন তারা মাদক বিরোধী সভায় আসেন নাই কেন। আমি মাথা নোয়াবার মানুষ না। এমন কোন কাজ করি না যাতে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবো। নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং ৫ আসন থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ ভুমিদস্যু, ইভটিজিং মুক্ত করবো। সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই আমরা। এজন্য সকলের সহযোগিতা দরকার। এস.এ/জেসি


