Logo
Logo
×

রাজনীতি

পদের নিশ্চয়তার পর সুদীর্ঘ নীরবতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম

পদের নিশ্চয়তার পর সুদীর্ঘ নীরবতা
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের মত সংগঠনে সাধারণ সম্পাদকের মত শীর্ষ পদ দখল করে বসে আছেন নারায়ণগঞ্জের উত্তর বলয় অর্থাৎ ওসমানপন্থী নেতারা। যেন ওসমানদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকাতেই মিলেছে জেলা বা মহানগরের এই শীর্ষ পদ। যার কারণে ওসমানী রাজত্ব কায়েম করতেই দলীয় পদকে প্রধান্য না দিয়ে ওসমানী নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত থাকেন।

 

যেটা তারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও প্রতিয়মান করেছে। তাছাড়া বছর জুড়েই ওসমানী রাজত্ব কায়েম করতে জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা দুই নেতা অপর বলয় অর্থাৎ দক্ষিণ বলয়ের নেতাদের সাথে নানা ইস্যু নিয়ে বছর জুড়েই জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে অশান্ত করে তুলেন।  

 

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এড. খোকন সাহা। তার দুজনই উত্তর বলয় অর্থাৎ ওসমানপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে।

 

তবে জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ওসমানী রাজত্ব কায়েম করতেই তাদের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা থাকে। যার কারণে নায়াণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা বিভেদ কোন্দল কমিটি গঠনে যত গড়িমসি বরাবরই জেলা এবং মহানগরের দুই সেক্রেটারির নামই উঠে আসছে।

 

দলীয় সূত্র বলছে, ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনে পূর্বের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে বহাল রাখা হয়। তবে তাদেরকে নিয়ে পূর্বেই ছিল নানা রকম বিতর্ক। কারণ জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল উত্তর বলয় ওসমানপন্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দক্ষিণ বলয়ের নেতা হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে সাংগঠনিত সিদ্ধান্তে থাকত বণিবনা।

 

কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগে তাদের পূণরায় দায়িত্ব দেয়া হলেও সেই বণিবনার চিত্র ফুটে উঠে। কমিটি গঠনের পরই এক টেবিলে এক মঞ্চের রাজনীতি থেকে সরে যান তারা। কারণ জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওসমানপন্থী নেতাদের শক্ত অবস্থান থাকায় সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ওসমানী রাজত্ব কায়েমে তাদেরকে নিয়েই সভা সমাবেশ সফল করত।

 

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিটিতে দেখা যায় ওসমানী রাজত্ব কায়েমে জেলার সাধারণ সম্পাদকদের স্বেচ্ছাচারিতা। কারণ প্রস্তাবিত কমিটি জুড়েই ছিল ওসমানপন্থী উত্তর বলয়ের নেতাদের নাম যেখানে দক্ষিণ বলয়ের অধিকাংশ নেতার নামই নেই। যার কারণে জেলার সভাপতি আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে আরেকটি প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়ে। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ওসমানী রাজত্ব কায়েমে জেলার রাজনীতিকে অশান্ত করে তুলেন।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বছর জুড়েই নানা ইস্যুকে আলোচিত হয়ে উঠে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া জনিত কারণে সম্মেলন হয়নি। আর সেই সম্মেলন এখনোও পর্যন্ত হয়ে উঠেনি।

 

কারণ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন বাতিল হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসে মহানগরের ওয়ার্ডগুলোর কমিটি করার সে অনুপাতে দক্ষিণ বলয়ের নেতা হিসেবে বিবেচিত মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং উত্তর বলয়ে অর্থাৎ ওসমানপর্ন্থী নেতা হিসেবে বিভেচিত সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ওয়ার্ড কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মননিবেশ করে ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন।

 

কিন্তু ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলনে নেতা নির্বাচনে ওসমানী রাজত্ব কায়েমে ওসমানপন্থী নেতাদের আদিষ্ঠিত করার কারণে সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার সাথে বিভেদ সৃষ্টি হয় সভাপতি আনোয়ার হোসেনের। তারই রেশ ধরে এখনো ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও বছরের অধিক সময় অতিক্রম হলেও এখনো কমিটিগুলো হয়নি। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডে এখনোও কোন রকম সম্মেলন হয়নি।

 

কারণ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি উত্তর বলয়ের প্রধান নীতি নির্ধারক একেএম শামীম ওসমানের সংসদীয় এলাকা মহানগরের নেতাকর্মীদের দাবি এখানে স্থানীয় সংসদের ইচ্ছেমত ছাড়া সম্মেলন করা সম্ভব না। যার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডে এখনো সম্মেলন হয়নি। ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিশাল সেশন জট তৈরী হওয়াতে মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন বা মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি ওসমানপন্থী নেতাদের দ্বারা আবদ্ধ থাকায় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে খোকন সাহা ওসমানী রাজত্ব কায়েমে সহায়ক হওয়ায় মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিও বদলাচ্ছে না এবং মহানগর আওয়ামীলীগে ওসমানী রাজত্বের অবসানও ঘটছে না। এছাড়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ওসমানী রাজত্ব কায়েমে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের পক্ষে লাঙ্গলের ভোট প্রার্থনায় প্রচার প্রচারাণায় আধঘাট বেঁধে নির্বাচনের শেষ মহুর্ত পর্যন্ত মাঠে ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো শহীদ বাদল এবং এড. খোকন সাহা।

 

তাদের কান্ডে রীতিমত অবাক হয়েছে জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কারণ তারাই এক সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙ্গলের প্রার্থীর বিপরীতে আওয়াজ তুলেছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সুযোগ থাকলেও তারা উল্টো জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ওসমান বলয়ের নেতা হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন