কথায় আছে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু ঠিক এমনটাই ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বেশকয়েকজন নেতাদের সাথে। মূলত বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে ক্ষমতার লোভের বশবর্তী হওয়ার কারণেই তাদের বিএনপির রাজনীতি ত্যাগ করতে হয়েছে। আর এই লোভের বশবর্তী হয়ে তারা কেউ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সংস্কারবাদীর ভূমিকায় ছিলেন। যার কারণে ইতিমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে মীরজাফর, সংস্কারবাদী, সুবিধাবাদী তকমা পেয়েছেন।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি তথা সারাদেশব্যাপী আলোচিত সমালোচিত একজন ব্যক্তি তৈমূর আলম খন্দকার। বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে রাজনীতির নানা প্রলোভনে শেষতক তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন। রাজনীতির প্রলোভনের কারণেই বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তৃণমূল বিএনপি নামে একটি দলে যোগ দেন। মূলত মেয়র সংসদ হওয়ার প্রলোভনের কারণেই বিএনপি রাজনীতি থেকে তার ছিঁটকে পড়তে হয়েছে। যার কারণে তিনি মীরজাফর তকমাও পেয়েছেন।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা রেজাউল করিম বিএনপির টিকিটে টানা চার বার সংসদও হয়েছিলেন এবং প্রতিমন্ত্রীও। কিন্তু ক্ষমতার লোভে বিএনপির রাজনীতির সাথে ডিগবাজি দেয়াতে ধীরে ধীরে তাকে রাজনীতি থেকেই হারিয়ে যেতে হয়েছে। এক এগারোর সময় লোভের বশবর্তী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন। হয়েছিলেন সংস্কারবাদীদের অন্যতম একজন।
এমন তকমা নিয়েই ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে মনোনয়ন পান। কিন্তু তিনি সংস্কারবাদী তকমার পাওয়ার পর পূণরায় আর সংসদ হতে পারেন নাই। তাছাড়া বিএনপির অংশগ্রহণ করা বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতেও বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মনোনয়ন বঞ্চিত হন রেজাউল করিম।
কিন্তু এখনো বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এমনটা প্রতিয়মান করার চেষ্টা করলেও বিএনপির সুসময় রাজনৈতিক হাওয়া বইলেই তার দেখা মিলে রাজনীতির ময়দানে তাছাড়া তাকে দেখা যায় না। যার কারণে তিনি সুবিধাবাদী তকমা পেয়েছেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি লোভের কারণেই তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে ছিঁটকে পড়েছেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এক সময়ের বিএনপির আলোচিত নেতা ছিলেন শাহ আলম। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির আরোকজন প্রভাবশালী নেতা সাবেক সাংসদ মো. গিয়াসউদ্দিনও এই এলাকায় অত্যান্ত জনপ্রিয়। কিন্তু তাকে মূল্যায়ন না করে সর্বদা শাহ আলমের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিতেন বিএনপি।
কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর শাহ আলম নির্বাচনের অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিএনপিতে তিনি পুনরায় সক্রিয় না হলেও তার সহযোদ্ধাদের ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ পদ সহ পুরো কমিটি জুড়েই তার অনুসারীদের জায়গা ছিল। কিন্তু শেষতক বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী নেতা শাহ আলমের ইশারায় পরিচালিত ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি টিকেনি।
তার এমন কান্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, তিনি তার নিজ স্বার্থেই বিএনপির রাজনীতির সম্পৃক্ত ছিলেন। মূলত বিএনপির টিকিটে সংসদ হওয়াই ছিল তার আসল লক্ষ্য। কিন্তু তিনি বিএনপির দুঃসময় দল থেকে কেটে পড়ে তার অনুসারীদের বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রেখেছেন। কারণ বিএনপির সুসময় আসলে নিমিষেই বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেন। এস.এ/জেসি


