Logo
Logo
×

রাজনীতি

আন্দোলনের গতি কমিয়ে দিয়েছে বিএনপি  

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম

আন্দোলনের গতি কমিয়ে দিয়েছে বিএনপি  
Swapno


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে টানা দুই মাস আন্দোলন করেছে দেশের সবচাইতে বড় বিরোধী বিএনপি। গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে টানা একদিন দুইদিন বাদ রেখে ১৩ দফা অবরোধ ও ৪ দফায় হরতাল আবার হরতাল-অবরোধ দুটি একই সঙ্গে পালন করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

যাকে ঘিরে মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া গত বছরের অক্টোবরের পূর্বে এক বছরের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ, রোডমার্চ করে আসছিল দলটি। অতপর গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি দলসমূহের নির্বাচন বর্জন ও নির্বাচনের দিনসহ দুইদিন হরতাল কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই টানা চতুর্থ বার সরকার গঠন করেছে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামী লীগ।

 

 

কিন্তু নির্বাচনের পরবর্তীতে নতুন করে আর বড় কোনো আন্দোলন কর্মসূচি চোখে দেখা পরেনি। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে যে দফায় দফায় নির্বাচন বর্জনের দাবিতে জনগণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছিলেন সেই ক্ষেত্রে নির্বাচনে দেশের জনগণের উপস্থিতি কম থাকায় এটাকে সফলতা হিসেবে মনে করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

যাকে ঘিরে ‘ভোট বর্জন করায়’ বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কোনো এলাকায় সাধারণ মানুষকে লিফলেটসহ ফুল দিয়ে ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তার পর দীর্ঘদিন কোন আন্দোলনের দেখা মিলেনি বিএনপিসহ নির্বাচনের অংশ না নেওয়া দলগুলোর। এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনকে ডামি নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে কিন্তু নির্বাচনের পর কোন আন্দোলন না থাকায় কর্মী-সমর্থদের মাঝে নেমে আসে হতাশার ছায়া কর্মী-সমর্থকরা ও মনে করেছিলেন হয়তো বিএনপি ঝিমিয়ে পরেছে যার কারণে তারা এখন আর কোন আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাচেছ না।

 

 

কিন্তু এর পর নেতাকর্মীদের এমন হতাশা দেখে বিএনপির হাই কমান্ড দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজ বন্দীদের মুক্তির ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের’ দাবিতে গত ২৭ জানুয়ারী সারা দেশের সকল জেলা ও মহানগরে কালো পতাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু ঢাকার নয়া-পল্টনে গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, নরসংদী, নারায়ণগঞ্জ জেলাগুলোর কর্মসূচি ঢাকায় পালিত হয়।

 

 

আর সারা দেশের বাকি জেলাগুলোর কর্মসূচি পালিত হয় নিজ নিজ জেলায়। এখানে সকল নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সামনে দিয়েই কালো পতাকা মিছিল করে কর্মসূচি পালন করেন। সেই কালো পতাকা কর্মসূচি থেকে গত ৩০ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। যা প্রতিটি থানা, উপজেলা পর্যায়ে করার ঘোষণা দেন হাই কমান্ড।

 

 

কিন্তু সারা দেশেই সেদিন পুলিশের বাধার ভূমিকা ছিল অনেকটাই চোখে পড়ার মতো। বহু জায়গায় অনুমতি  থাকা সত্ত্বে ও করতে দেওয়া হয়নি কর্মসূচি পালন। সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের মহানগর বিএনপি ও বন্দর থানা বিএনপিতে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে আটক করা হলে ও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 

এরপর নতুন করে কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, আন্দোলনের ব্যর্থতা ও নির্বাচনের পর সরকার গঠন হওয়া নিয়ে নানা ধরনের মূল্যায়নও করেছেন বিএনপি ও সমমনা দলের নেতারা। তারা আপাতত ধীরে চলো নীতিতে চলার পক্ষে মতামত তুলে ধরেছেন। কঠোর কোনো কর্মসূচিতে না যেয়ে ‘পরিস্থিতি’ বুঝে সামনে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

 


সূত্র মতে, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের জেলা বিএনপির নিস্কিয়তার কারণে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির রাজনীতি অনেকটাই নিস্কিয় হয়ে পরেছে। এদিকে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশায় ভূগছেন। কিন্তু কোনভাবেই জেলা বিএনপির কোন ভূমিকাই ছিল না বিএনপির নির্বাচনের পূর্বের কঠোর আন্দোলনগুলো ঘিরে। এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ একতরফা ভোট বর্জন করেছে।

 

 

এটাকে আন্দোলনের প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা। নেতাকর্মীরা আরো বলছেন, দুই মাসের আন্দোলনে গ্রেফতার, মামলা, হুলিয়ায় সারা দেশের নেতাকর্মীরা পর্যুদস্ত। এখনি বড় আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে তা কার্যকর করার মতো পরিস্থিতি নেই। নির্বাচনের পর ২৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি, তবে তাতে দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম ছিল।

 

 

মামলা এবং গ্রেফতার এড়াতে এখনো অধিকাংশ কেন্দ্রীয় এবং জেলা ও মাঠ পর্যায়ের নেতারা আত্মগোপন থেকে বের হতে পারেননি। এদিকে আবার দলের নীতিনির্ধারক নেতারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বহু নেতা কারাগারে। তাদের জামিন হচ্ছে না। এই মুহূর্তে আন্দোলনে থাকলে নেতাদের জামিন অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

 

 

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে আসা শুরু করেছেন। প্রতিদিন জামিনের জন্য হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ রীতিমতো জনসমাবেশের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিম্ন আদালতের ও অবস্থা তথৈবচ। বিএনপির এখন ব্যস্ততা লক্ষাধিক নেতাকর্মীর জামিন নিয়ে। জামিনের পরে পরিস্থিতি বুঝে আন্দোলনের পথরেখা নিয়ে অগ্রসর হতে চাচ্ছে তারা।

 

 

এদিকে বিগত দিনে চাঙ্গা থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন আবার ঝিমিয়ে পড়ার পথে। তা ছাড়া বড় বড় পর্যায়ের কমিটিতে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের আওতাধীন ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না। এদিকে যে কৌশলই বিএনপি নিচ্ছি সেখানেই তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। মানুষ প্রত্যাশা করেছিল এই সরকার বিদায় নেবে। কিন্তু বিদায় তো দূরের কথা আবারো চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বিরোধী দল বিএনপির সকল স্বপ্ন ভঙ্গ হলো।

 

 

এদিকে গত ২৮ অক্টোবরের পর পরই নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রায় ৩ হাজারের অধিক নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে সেখান থেকে প্রায় গ্রেফতার হয়েছেন ২ হাজারের অধিক নেতাকর্মী। বর্তমানে বিএনপির সেই কারাভোগে থাকা নেতাকর্মীদের জামিন নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

সকল নেতাকর্মী জামিনের পর থেকেই নতুন কি ধরনের আন্দোলন হলে ভালো হবে সেই বিষয়ে বৈঠক করেই নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ডাক দিতে পারে বিএনপি। তা ছাড়া গত ৩০ জানুয়ারী বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর পুলিশ যেভাবে চড়াও হতে নিয়েছিলেন যাতে করে বিএনপি এখন আর কঠোর অবস্থানে যেতে রাজি নন।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন