‘এসপি-ডিসি আমাকে পাত্তাই দেয় না’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের এসপি-ডিসি আমাকে পাত্তাই দেয়না। শহরে মেয়রের কথা কেউ শুনে না কোনো প্রশাসন শোনে না। মেয়র জনগণের সাথে কথা বলে। সুতরাং আপনাদের কমিটমিন্ট থাকতে হবে এবং আমাকে কি করতে হবে এটা যদি সুনিদিষ্ট করে আমাকে বলে দেন তাহলে কিন্তু আমাদের অনেক প্রবলেম সমাধান হয়ে যায়। গতকাল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে মেয়র আইভী একথা বলেন।
আইভী তার বক্তব্যে বলেন, মৌমিতা বাসগুলোর কথা তো মেয়র একাধিক বার বিভিন্ন ফোরামে বলছে যে চাষাড়া রাস্তা দিয়ে কেনো এই অবৈধ বাসগুলো চলবে। কেন এই বাসগুলোর রোড পারমিট বাতিল করা হচ্ছে না। এখানে যারা বসে আছি সবাই কি একমত হতে পারি যে এই মৌমিতা গাড়ি নারায়ণগঞ্জে চলতে দেওয়া যাবে না।পুরো শহর বাসের নগরী। আমাদের শহরেই তো অনেক বাস আছে। তাহলে কেনো আরেক জায়গা থেকে এসে আরেক জায়গার বাস আমাদের এখানে প্রচণ্ড দাপটের সাথে চাষাড়ার চারপাশে বাস রেখে দিবে আর নির্বিকারে আমরা শুধু দেখবো আর বলবো রাস্তা বড় করতে হবে ডিভাইডার হবে।
সম্ভবত ২০০৬ কি ২০০৮ দিকে নারায়ণগঞ্জে যখন এসপি ইব্রাহিম ফাতিহি ছিলেন উনি কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এসব ডিভাইডার রিকশাকে চলাচলে জন্য এক লাইনের কোন দিয়ে শুরু করেছিলেন আমি কোন কিনে দিয়েছিলাম ওনি নিজেও কিছু দিয়েছিলেন এবং ওনি এটাকে ৩ মাস ট্রায়াল দিছে। এক লেনের রিকশাকে করে দিয়ে বাকি গুলোকে গাড়ির আর বাসের জন্য করে দিসে। যখন উনি ৬ মাস পর সফলতা পাইছে তখন উনি আমাদের কাছে চিঠি দিছে যেন আমরা এটার একটা পার্মানেন্ট একটা লেন করে দেই। আর যত দিন উনি বা এসপি অফিস এটা কন্ট্রোল করছে ততদিন নারায়ণগঞ্জে খুব একটা যানজট ছিলো না।
এখন যদি বলেন, এগুলোর জন্য যানজট হচ্ছে। তাহলে তো বলবো রোজার সময় যখন আপনি কন্টোল করে ফেললেন কোনো যানজট ছিলো না তখন তো এই কথাটা আসলো না। যেন ডিভাইডার তুলে দিতে হবে। আমার যেটা মনে হচ্ছে আমরা এখানে যারা বসে আছি তারা তাদের কাজটা যদি সঠিক ভাবে করি তাহলে কোনো সমস্যা থাকবে না। ট্রাফিক তো ট্রাফিকের কাজ করছে। ট্রাফিক তো এমপি বা সিটি করপোরেশনের উপরে চাপায় দিতে পারে না। যদি আপনারা মনে করেন মেয়র এই কাজগুলো আপনাদের জন্য করে দিবে তাহলে মেয়র করে দিবে। এই জায়গায় স্ট্যান্ড দেওয়া যাবে না দিবে না। আমরা বারবার বৈধ-অবৈধের চিঠি বার বার আপনার কাছে পাঠানো আছে। আমার লাস্ট চিঠি আপনার কাছে পাঠানো আছে ২০২৩ সালের। একাটারও কি পদক্ষেপ নেওয়া হইছে।
মেয়র আইভী প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি জানতে চাই রাইফেল ক্লাবের সামনে কেন অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড কেন থাকবে। প্রেস ক্লাবের সামনেই দেখেন চারপাশ ঘিরে কতগুলো অবৈধ স্ট্যান্ড আছে। এসবের ব্যাপারে আমি একটা কথা শুনতে পারলাম না বিআরটিএ এসপির থেকে। রাস্তার ডিভাইডার তুলে দিতে হবে আর ইজিবাইকের তো গভর্মেন্টই অনুমতি দিচ্ছে না। আমি কিভাবে অনুমোদন দিবো। আমি তো প্রায় গুলোকে ধরে নিয়ে জরিমানা করতাছি।
হকার প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, আমরা হকারদের নির্দিষ্ট একটা কি দুটো জায়গা দিছি যে এখানে দোকান নিয়ে বসো। আমি যখন থেকে মেয়র হয়ে আসতাছি সেই ২০০৩ থেকে বলে আসছি যে বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার মুক্ত করার জন্য। একজন এসপি যখন কথা বলবে তখন তো রিসপোনসিবলিটি নিয়ে কথা বলবে। ৬০০ হকারকে পূনর্বাসন করার পরেও ওনি যখন বললো একজন হকারকে উচ্ছেদ করা যাবে না। একজন প্রশাসনের ব্যাক্তির মুখ থেকে যখন এমন কথা বের হয় তখন কি শহরে হকার উঠবে। এখানে বসছিই তো যানজট আর হকার মুক্ত করার জন্য।
এখানে আমরা সমাধান করতে বসেছি। আর সমাধানই হবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটাকে সাফার করছি। আপনারারা যারা সবাই ঢাকা থাকে আমরা যারা এখানে থাকি তাদের সমস্যা। আমরা এখানে যারা আছি তারা যদি এটাকে সমাধান না করে এটাকে আরো প্রশ্রয় দিই তাহলে তো এখানে বসার কোনো মানে হয় না। পুরো নারায়ণগঞ্জে ভোটাররা তাকিয়ে আছে আজকের সমাধানের দিকে। যে কী সমাধান আমরা দেই।
ডিসি অফিসে আপনার নেতৃত্বে মিটিং হইছে যে রাতে ট্রাকগুলো চলবে। তাহলে কেনো দিনের বেলাতে ট্রাকগুলো চলতেছে। সেই ৬০০ হকার তাদের দোকান বিক্রি করে এখন রাস্তায়। পুরো সড়ক এখন হকারদের দখলে। এটাই কিভাবে সমাধান করা যায় এটার প্রতিকার আমরা চাই। আমার কোনো অযুহাত দরকার নাই। কে কি করতাছে। এনসিসির কী কাজ। কোথায় কী করতে হবে এটা যদি আমাকে দৃষ্টান্তমূলক ভাবে বলে দেয় তাহলে আমি করে দিবো।
এসপি একটা কথা বলেছেন যে, ঐ এলাকাতে যানজটের কারণে আমি সেখানে থাকি না। কেন ভাই সেখানে কি মানুষ থাকে না। আমাকে তো বন্দী করে রাখছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোােরশন ট্রাক দিয়ে বন্দি। মেয়রকে আপনারা সব সময় দোষারোপ করেন। তাহলে কেনো আমাকে এখন থামিয়ে দিবেন। সমাধান করতে আসছেন, সমাধান করতে দেন। আপনি এসপি যদি সেখানে থাকতে তাহলে কিছুটা হলেও সেখানে যানজট মুক্ত থাকতো। আমি অনুরোধ করবো আপনি সেখানে থাকেন।
কারণ ঐখানে ড্রেন, পানির সমস্যা ছিলো সব সমস্যা আমি সমাধান করে দিছি। এবং ট্রাকস্টেশন নিয়ে হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে। আর সেখানে স্পষ্টভাবে রায় ডিসি আর এসপিকে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ করে ওইটা ফ্রি করে তাকে জানানোর জন্য। তাদেরকে ১টা করে লাইন করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে তারা ৩ লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকে। আজকে সকলের সামনে আমার বড় দুইভাই সকলের সামনে আমাকে কমিটমেন্ট দিতে হবে যে, সড়কে হকার থাকবে না। এবং আপনারা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
বৈঠক শেষের আগে দেয়া বক্তব্যে মেয়র আইভী বলেন, সেলিম ভাই তার বক্তব্যে ১০টি প্রবলেমের কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে যে সকল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই গোল টেবিল বৈঠকে। আজকের বৈঠকে ডিসি-এসপি সাহেব, দুই সংসদ সদস্য পজিটিভ বলেছেন, তাই আমি নেগেটিভ বলতে চাই না। বড় ভাই (সেলিম ওসমান) পাশে বসে বারবার বলেন, রাগ হইয়ো না, রাগ হইয়ো না। আমি একদমই রাগ হই না, আমার কথা বলার স্টাইলটাই এই রকম।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ প্রথমত, সবাই বিবি রোড বলবেন না, এটা বঙ্গবন্ধু রোড। একটা সময় চলে আসবে যখন এটাকে তখন বিবি রোড হিসেবে চিনবে। এটাকে বঙ্গবন্ধু রোড বলবেন। সাইনবোর্ডে বঙ্গবন্ধু রোড লেখা বাধ্যতামূলক, যারা লিখেন না তাদের সাইনবোর্ড আমরা নিয়ে যাই। আমাদের এই নারায়ণগঞ্জ ৪০০ বছরের বেশি পুরনো। গোড়াপত্তন হয়েছে বন্দর নগরী দিয়ে। ব্রিটিশরা এখানে এসেছে বিভিন্ন কারণে, সবকিছু এখানে ছিল। এটা পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ ছিল।
সারা পৃথিবীতে সব জায়গাতেই পতিতালয় থাকে, নারায়ণগঞ্জেও ছিল, সারা বাংলাদেশেও আছে। যার মাধ্যমেই হোক এটা উঠেছে। শামীম ভাই যদি করে থাকেন, তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমি অনুরোধ করবো বড় দুইভাই সামনে রেখে এই নেগেটিভ কথাটি যেন আমরা না বলি। যে করেছে পতিতালয় উচ্ছেদ, সে অবশ্যই সোয়াবের কাজ করেছে, এজন্য আমরা শামীম ভাইকে ধন্যবাদ জানাই তিনি এতো বড় দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটি করেছেন। কিন্তু এই কথাটার পুনরাবৃত্তি করে নারায়ণগঞ্জের অতীত পজিটিভ জিনিসকে আনতে চাই না।
আমি ‘নারায়ণগইঞ্জা’ হিসেবে আমার চৌদ্দ পুরষের ভিটেমাটি নারায়ণগঞ্জ হিসেবে আমি লজ্জিত বোধ করি, অসম্মানিত বোধ করি কারণ এখনো ৬৪ জেলার বহু জায়গায় পতিতালয় আছে, উচ্ছেদ নাই। নারায়ণগঞ্জে গর্ব করার মতো আমাদের সংসদ সদস্যদের অনেক কিছু আছে। আজকে সেলিম ভাই যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শামীম ভাই অনেকদিন পরে হলেও একমত হয়েছে, হকার উচ্ছেদ করতে হবে, যানজট নিরসন করতে হবে, এটা আমাদের নারায়ণগঞ্জ। এর চেয়ে পজিটিভ কিছু হতে পারে না। আমরা এই জিনিসগুলোকে সামনে নিয়ে আসি, ৪০০ বছরের পুরনো নারায়ণগঞ্জকে সামনে নিয়ে আসি। কিভাবে আমাদের নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট, খালবিল সুন্দর করতে পারি।
আইভী বলেন, ১৯৯৬ সালে আপনি (শামীম ওসমান) যখন এমপি ছিলেন তখন ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া হয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রস্তাব ছিল। এখন যদি চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলস্টেশন করার প্রস্তাব আপনি (শামীম ওসমান) দেন আমাকে যেখানে যেতে বলবেন আমি রাজি আছি। আমি ভাইয়ের অবগতির জন্য বলতে চাই ইতিমধ্যে কদম রসুল সেতুর টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু রেলওয়ে, কুমুদিনী, খাদ্য গুদামের বিভিন্ন জটিলতার কারণে আমরা ৮/৯ বছর পিছিয়ে গিয়েছি। এখন টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। খুব দ্রুত প্রধানমন্ত্রী এই সেতুর ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি (সেলিম ওসমানকে আনন্দিত ভঙ্গিতে বলেন, আপনি ৫ মিনিটে বন্দরে যেতে পারবেন, আরো কাজ করতে পারবেন, আরো সহযোগিতা করতে পারবেন।
মীর জুমলা সড়ক নিয়ে মেয়র আইভী বলেন, পৌরসভা থাকাকালীন প্রেসক্লাবের অনুরোধে মীর জুমলা সড়কে উচ্ছেদ করেছিলাম। এবং মুক্ত করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে এটা আবার ডেথ প্লেস হয়ে আছে। ২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর ৪ মাসের জন্য যে জেলা প্রশাসক এখানে ছিলেন তিনি কিন্তু আবার এখানে দ্বিগু বাবু বাজারের টেন্ডার কল করলেন। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে কিন্তু এটা বন্ধ করতে পারি নাই। এখন শামীম ওসমান যেটি বললো (মীর জুমলা সড়ক) ব্যবহারের কথা।যেদিন থেকে পুলিশ প্রশাসন বলবে, এই রাস্তা ব্যবহার করবে গাড়ি চলাচল করবে, সেইদিন থেকে একটা দোকানও থাকবেনা আমি বলে দিলাম। কিন্তু সেটা ব্যবহার করতে হবে।
শামীম ওসমানের দিকে দৃষ্টিআকর্ষণ করে আইভী বলেন, সকাল বেলা রাস্তার উপর যতগুলো ট্রাক বসে এইট্রাকগুলো ৫নং ঘাটে নিয়ে যেতে পারি, (যেখানে অনেক বড় বড় কাঠ রেখে দিছে, কারা রেখে তা আমরা জানিনা)। সেখানে যদি লোডআনলোডের ব্যবস্থা করলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দিনের বেলা ট্রাক ঢুকতে না দিলে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে। আগে সেলিম ভাই দিনের বেলা ট্রাক ঢুকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে হাতেম ভাইসহ অন্যারা বলায় আবার দিনে ট্রাক চলা শুরু হয়। দিনের বেলা ট্রাক না চললে যানজট হবে না।
নিতাইগঞ্জে ট্রাক দাঁড়নো প্রসঙ্গ আইভী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকবোঝাই হয়ে নিতাইগঞ্জ আসে। এরপর হাতে করে ঘরে ঘরে নিয়ে তারা বিক্রির জন্য যায়। পরে সকাল ১১টার দিকে মালিকদের সাথে কথাবার্তা হলে তখন ট্রাকগুলো আনলোড হয়। রাস্তা কারো বাপের না, আমি তো রাস্তা থেকে চাঁদাও তুলিনা। আমাকে তো পার্কিয়ের টাকাও দেয়না। সেলিম ভাই-শামীম ভাইয়ের সাথে আমাকে লাগায়া দিবেন দেইখা আমি পার্কিং থাইকা টাকাও তুলিনা। আমার ভাইও যদি চাঁদাবাজি করে তবে তাকেও ধরবেন। সবজায়গায় ডিসক্রিমিনেশন (বৈষম্য), আজকে সাজনু এখানে অথচ শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাই।
সেলিম ভাই আমাকে বারবার অনুরোধ করে বলেছেন, আসো একসাথে বসে সমাধান করবো।একবার সেলিম ভাই আমার বাজেট অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছিলেন ট্রাক স্ট্যান্ড থাকবেনা। ৬ মাস ট্রাকস্ট্যান্ড থাকেনি।আমি এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে আজ যে আবার কাজ করা শুরু করলাম, এখানে কেউ বা হাত দিয়েন না। কাজ করতে দেন। আমার ব্যক্তিগত কিছু নাই। আমি মেয়রের জায়গায় আছি, ভাইয়েরা এমপি আছে, প্রশাসন প্রশানের জায়গায় আছে।আমরা ঝগড়া করবো, যা ইচ্ছ তাই করবো, দল নিয়ে দলাদলি করবো, আপনারা (প্রশাসন) আপনাদের কাজ করেন।
আপনারা সরকারের হয়ে কাজ করবেন। শামীম ভাই আপনি যদি ঘোষণা দেন, মাদক থাকবেনা, তাহলে থাকবেনা। আপনি পুলিশকে বাধ্য করবেন। পুলিশ প্রশাসন এমপিদের কথায় চলে, মেয়রের কথাকে পাত্তাই দেয়না। এসপি-ডিসিকে অনুরোধ করে আমাকে নিতে হয়। আমাদের মাঝে মাঝে বসতে হবে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকেই মন্ত্রীপরিষদ থেকে রেজ্যুলেশন দেয়া আছে, একটি সভায় মেয়র সভাপতিত্ব করেন ডিসি-এসপিসহ।
এখন থেকে বড় ভাই সেলিম ওসমানকে অনুরোধ করবো অতিথি হিসেবে সেই সভায় উপস্থিত থাকতে। এই মিটিংটি ৬মাস পরপর হয়। যদি আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান যদি ওই মিটিংয়ে অতিথি হিসেবে যেতে চায় আমরা সানন্দে তাকে ডাকবো। আমার ব্যক্তিগত চাওয়া হলো, আমি আবার আগের মতো নারায়ণগঞ্জ দেখতে চাই। কোন অবস্থাতেই নেগেটিভ নারায়ণগঞ্জ চাইনা। আমরা সন্ত্রাস, খুনখারাবি, মাদকের শহর, ইভটিজিং, যত্রতত্র বাস ট্রাকের নগরী চাই না।
আইভী বলে, আমি হকার তুলতেই পারি না। ১৯৮৩ সালে থানার সামনে আলী আহমদ চুনকা হকার্স মার্কেট করে দিয়েছিল। প্রত্যেকেই দোকান বিক্রি করে চলে গেছে। আমি ২০০৬ সালে আর্মি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা এই চারটি সংস্থার সহযোগিতায় হকার্স মার্কেট করে দিয়েছি। ৬০০ হকার পুনর্বাসন করা হয়েছে। মাননীয় এমপির কাছে এটি তুলে দিলাম যাতে পুলিশকে দিয়ে চেক করেন নারায়ণগঞ্জের কয়জন, নারায়ণগঞ্জের বাইরে কয়জন।
আমরা এখানে ছোট্ট একটা টোকেন মানি দিছিলাম, সেগুলোও তারা দেয়নি। প্রত্যেকে দোকান বিক্রি করে রাস্তায় এসেছে। ২০১৮ সালে এই হকার উচ্ছেদ নিয়ে শামীম ভাইয়ের সাথে আমার যেই ভুলবুঝাবুঝি হয়েছিল তার বেনিফিসিয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরের অনেকে হচ্ছে। এই ভুল বুঝাবুঝির অবসান হোক। আমরা সবাই একমত হয়েছি, এই শহর সুন্দর হবে। ফুটপাতের মালিক সিটি কর্পোরেশন, খবরদারি করে যারা হকারদের কাছ থেকে টাকা তোলে তারা।
প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি, আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যেও ভালো খারাপ আছে। সবজায়গাতেই এমন ভালোখারাপ আছে। বড় ভাই, প্রশাসন যা করবে, তা ন্যায্য হলে আমি একশোতে একশো থাকবো। আমি রাগ হবো কেন, অতীতের কোন কথাই বলতে চাই না। দুঃখ,কষ্ট আমার মধ্যেও আছে, ২০ বছর নির্যাতিত হয়েই তো চালাচ্ছি। আমি সেই কথা আর টানলামনা।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ আলম দিপুর সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টির সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীল, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রুহুল আমিন সাগর, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো.শামসুল কবীর, ব্যবসায়ীক নেতা প্রবীর সাহা।
এছাড়া গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠানে সদর, ফতুল্লা, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লা ও বন্দর এলাকার চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এস.এ/জেসি


