Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘হকার পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে হবে’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

‘হকার পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে হবে’
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান গতকাল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বলেছেন, হকার উচ্ছেদ করলে পুরোপুরি করতে হবে। আর তা করতে পারলে তার পক্ষ থেকে কোন বাধা আসবেনা। তিনি বলেন, এখানে আলোচনার বিষয় হচ্ছে দুটি। এক শহরের যানজট আরেকটা হচ্ছে হকার ইস্যু। এই দুটোই আমাদের সমাজে অনেক বড় প্রবলেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের রাস্তাটা বেশির ভাগ আমার নির্বাচনী এলাকাতে পড়েছে।

 

আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পরে এই রাস্তাটা ১২০ফিট চওড়া হবে। আর বাংলাদেশের এই প্রথম এই রাস্তাটা সম্পূর্ণ আরসিসি রাস্তা হবে। আশার করি খুব দ্রুত এটার কাজ শুরু করতে পারবো। এটা আমার নির্বাচনী এলাকা কিন্তু সিটি করপোরেশনের এলাকা না শুধু মাত্র একটি অংশ। তার জন্য আমি বলতে পারি না এটা আমার এলাকা না আমি দেখবো না। পুরো নারায়ণগঞ্জটাই আমাদের, বাংলাদেশটাই আমাদের। একজন সংসদ সদস্য শুধু মাত্র একটি এলাকা নিয়ে কথা বলবে না। পুরো বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলবেন।

 

আমার মনে হয় সিদ্ধিরগঞ্জের যে সমস্যাটা এটা যদি রাস্তায় কয়েকটা ফুটওভার ব্রিজ করে দেওয়া হয় তাহলে অনেকটাই সমস্যা কমে যাবে। অন্যদিকে প্রথমত নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক গাড়ি চলছে। কিন্তু কোনো গাড়ি বিআরটিএর পারমিশন ছাড়া চলবে কেন? চলতে দেওয়া উচিত না। আপনি হচ্ছেন আইনের রক্ষক, আপনি ভক্ষক হবেন কেনো। তারপর আপনি কি বলবেন আপনি পারেন না, আমি বলবো আমিও পারি না, আইভী বলবে সেও পারে না। আমরা যেন পারি সে জন্যই এই উদ্যোগটা নেওয়া হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জে যারা বাস মালিক সমিতির লোক আছেন আমার মনে হয় ডিসির মহদোয়ের সাথে কথা বলে তাদের ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমার মনে হয় আমার সাথে সবাই একমত যে বিআরটিএ’র পারমিশন ছাড়া কোনো গাড়ি সড়কে চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, আমার জানা মতে ইজিবাইক চলাচলে কোনো পারমিশন নাই। কালকে যদি সিটি করপোরেশন পারমিশন দেয় তাহলে সারা বাংলাদেশে এর পারমিশন দিতে হবে। এই শহরটা পায়ে হাঁটার শহর। এই ছোট শহরে এতো গাড়ির কি কোনো দরকার আছে।

 

আর যদি প্রয়োজন থাকে আপনারা সিটি করপোরেশনের সাথে আলাপ করেন। তারা নির্দিষ্ট একটা জায়গা আপনাদের বলে দেবে। একটা জিনিস লক্ষ্য রাখতে হবে এরা কিন্তু কেউ ফ্রিতে বসে না। এরা সমাজের বহু মানুষদের টাকা দেয়। আমরা মনে করছি হকারদের আমরা দয়া করছি। কিন্তু না। একটা মার্কেটের দোকানদার দোকান ভাড়া যতো না দেয়, তার চেয়ে বেশি হকাররা টাকা দেয়। নয়তো আমাকে দেয় নয়তো মাস্তানদের দেয় নয়তো পুলিশদের দেয় কাউকে না কাউকে তো দেয়ই। কিন্তু হকার মুক্ত করতে হবে। আপনারা হকার মুক্ত করতে চান। আমার পক্ষ হতে কোনো বাধা আসবে না। কিন্তু যেটা হবে। সবার জন্য হতে হবে। একাংশ হবে না।

 

শামীম ওসমান আরো বলেন, মীরজুমলা সড়ক পুরাটা বন্ধ। একটা ট্রেন যদি সারাদিনে ১৬ বার আসা যাওয়া করে এই ছোট একটা শহরের দিয়ে তাহলে যানজট তো হবেই। কোনো ফেরেশতার সাধ্য নাই এই ট্রেনকে থামাবে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাষাড়া পর্যন্ত যে রেললাইনটা আছে সেটা উঠিয়ে দেওয়া হোক। এটার কোনো দরকার নাই। ট্রেন যতক্ষণ চলবে রাস্তা থেকে যানজট কমবে না। তখন ট্রেন কর্তৃপক্ষ বলবে আমরা ট্রেন ঘুরাবো কোন দিক দিয়ে। তারা যদি ট্রেনটা রেখে শুধু ইঞ্জিন টা ঘুরিয়ে নিয়ে যায় এটা করতে সময় লাগবে ২ মিনিট।

 

যেটা এখন রেল লাইন আছে এই রাস্তা যদি সিটি করপোরেশনের আন্ডারে নিয়ে যাওয়া যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো রাস্তা যেহেতু ১২০ফিট চওড়া হচ্ছে। তারপর আমরা সড়ক মন্ত্রালয়ের সাথে আলাপ করবো যে উপর দিয়ে উঠে টাচ করিয়ে দেওয়া যায় তাহলে মনেই হবে না যে নারায়ণগঞ্জে গাড়ি চলছে। যেহেতু সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সেলিম ওসমান চাচ্ছেন যে নারায়ণগঞ্জে হকার না থাকুক আমার কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু কথা হচ্ছে মুক্ত করতে হলে পুরোটাই মুক্ত করতে হবে। এখানে যেন কোনো পাথর্ক্য না করা হয়।

 

এক অংশ দিবে বাকি অংশ দিবে না তখনই কথা উঠবে মানুষের মনে যে বাকিটুকু কেনো দিবে না। সারাজীবন যে আমাকেই রাজনীতি করতে হবে। আমাকেই এমপি হতে হবে এইরকম মন-মানসিকতার লোক আমি না। এখানে আমি রাজনীতি করতে আসছি। আমার কথা হলো হকার উঠাবেন পুরোটা উঠান। নিয়ম হচ্ছে সিটি করপোরেশন ম্যাজিষ্ট্রেট দিবে, পুলিশ তাদের সাহায্য করবে। সারা বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ সংকট। এই যে সিএনজির ব্যাটারীগুলো চার্জ করে।

 

এটা  পুরো ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নষ্ট করে। আমি জেলা প্রশাসকে কাছে অনুরোধ করবে আপনি এটা ব্যাপারে খোজ নেন। কেবল নারায়ণগঞ্জ জেলা আপনি একটু খবর নেন কোথায় কোথায় এই ব্যাটারী গুলো চার্জ হয়। এবং আপনি নিশ্চত থাকেন এই ব্যাটারী গুলো যে চার্জ হচ্ছে তারা কিন্তু বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে না। আপনি যেটা বলেছেন আপনার সাথে আমি এক মত না। সীমিত আকারে ইজি বাইক এন্ড ব্যাবিট্রেক্সি। না। নারায়ণগঞ্জ থেকে যেসব বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট গামী গাড়ী চলে এদের কারো রোড পারমিট আছে বলে আমার মনে হয় না।

 

আমার শহরের রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি চালাবে কেনো আর ঐটাকে কেউ বাধা দেয় না কেনো। এটা আমার প্রশ্ন। আপনি যদি বলেন ১০টার আগে ঢাকা শহরে ট্রাক ঢুকতে পারবে না। দেখবেন ঢুকবে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এটা বললে হয় না কেনো। শহরটা যেহেতু কনজাস্টটেট বেশি সিটি করপোরেশন হাজীগঞ্জের মোড়ে ব্যারিকেড দিক। পুলিশরা এটার দেখা শোনা করবে যেন ঠিক ১০টায় গেট খুলে দেওয়া হবে। ঢাকায় কিন্তু সিটি করপোরেশনের ঠিক সামনে এরকম আছে।

 

অথবা পুলিশ যদি এনশিউর হয় রাত ১০টার আগে ট্রাক ঢুকবে না আর ভোর ৬টার মধ্যে বেরিয়ে যাবে তাহলে ভালো হয়। আরেকটা হলো ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিগুবাবুর এলাকা এবং পুরান কোর্ট এলাকা  পুরো আড়তটা  নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে থেকে আরম্ভ করে রাস্তাটা নিয়ে নেয় এবং পুরো নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পিছন দিয়ে কোর্ট পর্যন্ত তারা পুরোটা বসবে। যদি আইভী একমত হয় আমি সেলিম ভাই যাবো রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবো।

 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেছে অবশ্যই টাকা পাবো। এই শহর এখন মাদকের শহর হয়ে গেছে। আমাদের মনে হয় এখনই সময়। সিটি করপোরেশন যা করতে যাচ্ছে, আমার পক্ষ হতে কোনো আপত্তি নাই। বাধা নাই। আমি শুধু ভবিষ্যতে চাই আমাদের সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, চাদাবাজি বিরুদ্ধে সবাই মিলে সোচ্চার হতে পারি। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন