Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘কোন ধরণের স্বজনপ্রীতি করা চলবে না’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম

‘কোন ধরণের স্বজনপ্রীতি করা চলবে না’
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জের হকার উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে অবৈধ স্ট্যান্ড বন্ধে কোন ধরণের স্বজনপ্রীতি করা চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। গতকাল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন। সেলিম ওসমান বলেন, এমন কোনো কথা নেই যে, এখান থেকে উঠবো আর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার মেয়র, মহোদয় এসপি সাহেবের কথায় একটু মনক্ষুন্ন হয়েছে। আমিও মনক্ষুন্ন হয়েছি। কিন্তু প্রশাসন তো প্রশাসন।

 

প্রশাসন কে প্রশাসনের মতোই চলতে হবে। প্রশাসন প্রশাসনের বইরে গিয়ে বলবে, (হকার) এরা কোথায় যাবে এরা কোথায় খাবে এরা কোথায় শোবে এটা ভাবতে পারে না। কালকেও আমরা দেখেছি ঢাকার মেয়র আতিক ইচ্ছামতো বস্তি উঠিয়ে দিয়ে নতুন পার্ক করার চিন্তা ভাবনা করছে। আমরা সাধারন মানুষ কেউ চাই না একটা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কিন্তু ক্ষতি গ্রস্থ হোক এটা চাই না কিন্ত একটা মানুষ কে সুযোগ দিয়ে হাজার মানুষের অসুবিধা হয় তাহলে কী এটা চলন সই হবে?

 

এটা কখোনোই চলন সই হবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এলাকার মানুষ এখানে কেউ ঢাকা থেকে ব্যবসা করছেন, কেই অন্য কোথাও থেকে ব্যবসা করেন, এলাকার মানুষই তো অবৈধ ব্যবসা করেন। আমি মেয়রের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি তাদের গাড়িও চলবে না। উনি আমি কী আমার কাকা, আমার দুলাভাই ? যে ওনার গাড়ি টা চলবে। যার কারণে বার বার আইন করেও কিন্তু আইনকে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে।আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে স্বজনপ্রীতি একটু বেশি আছে। চোখের পর্দাটা যদি উল্টানো না যায়, এ সমস্ত আলোচনা করে কোনো লাভ  হবে না। কোনো আলোচনা হবে না। কঠোর থেকে কঠোরোতম হতে হবে। 

 

সেলিম ওসমান বলেন, আমরা আজকে বসছি, আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাই, গত ১০ বছর চেষ্টার ফল যে আজকে এখানে সবাইকে নিয়ে এক সাথে বসতে পেড়েছি। আজকে আমরা সব জন প্রতিনিধি একসাথে বসেছি। আমাদের সব গুলো কাউন্সিলর নিয়ে আমরা বসতে পারি নাই। নারায়ণগঞ্জের প্রবলেম কী? ময়লার সমস্যা। সিটি কর্পোরেশনের মানুষ ময়লা ফেলে এই ময়লাটা যাবে কোথায়। বাধ্য হয়ে লিংক রোডের দুই মাথায় গেছে। মানুষের অসুবিধা হয়েছে।  এখন কোথায় যায়?

 

শীতলক্ষ্যার কোনায় যায়, বন্দর বিভিন্ন জায়গায় যায়, এগুলো তো  অনেক বড় বড় সমস্যা। মেয়র যেটা বলেছেন সেটা সত্যি, ট্রাফিক ব্যবস্থাটা কিন্তু পুলিশের হাতে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো এটা যদি পুলিশের হাতে থাকে, তাহলে ফুটপাতের ব্যবস্থাটা কার কাছে? এটা কী সিটি কর্পোরেশনের হাতে? এটা থেকে উর্পাজন হচ্ছে। না কি মাশোহারা যাচ্ছে। কারা এই ফুটপাত চালায়। আমরা ফুটপাত নিয়ে আন্দোলন করেছি। কিন্তু এখন তো আমরা ফুটপাত বলতে পারবো না। ফুটপাতের সামনের রাস্তাটাও দখল করে নিয়েছে। এই দখলকারীরা কারা। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলে দিতে পারবো, নারায়ণগঞ্জ এর কোনো বাসিন্দা তারা না। 

 

সেলিম ওসমান বলেন, প্রথম একটাই কারণ আমাদের সবাইকে এক সাথে হতে হবে। এক সাথে হতে হবে একটা ফুটপাত ও থাকবে না। কীসের ঈদ, কীসের রোজা ফুটপাত যদি থাকে এখান থেকে মাদ ও যাবে না ইভটিজিংও যাবে না।   

সেলিম ওসমান বলেন, আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম কে আমরা যদি দারা না করাই। আর আমরা যদি আজকে তর্কবিতর্ক করি তাহলে হবে না। এক দফা এক দাবি , এটা বিএনপির স্লোগান না। নারায়ণগঞ্জ সম্পূর্ণ সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, ইভটিজিং মুক্ত, নেশা মুক্ত, রাস্তা মুক্ত, যানজট মুক্ত একটা নারায়ণগঞ্জ বানানোর  জন্য যারা আমরা আজকে এখানে বসছি তারাই যথেষ্ট। আমাদের এখানে যদি কোনো রাজনীতি থাকে আমরা এখানে ফেল করবো।

 

শুধু আমরা একবার করে বসবো, মাসে বসি ১৫ দিন পর বসি, ২ মাসে বসি, আমাদের বসতে হবে, আমরা এই একি লোক নিয়ে বসবো না। আমাদের বার বার বসতে হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের ওখানে বসবো আমাদের। আমাদের মত বিরোধ হয় যার কারণে আমরা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আমরা ইচ্ছা করলে যাই, আবার ইচ্ছা না করলে যাই না। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব যে সেখানে বসে সমস্যা সমাধান করা।

 

আজকে আমাদের নারায়ণগঞ্জ হসপিটালকে আমরা ৩০০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যা পর্যন্ত নিয়ে এসছি। কে কারা টেন্ডার নিলো, সে হসপিটাল আর হয় না। হসপিটালে একটা কমিটি ছিল। কমিটির মিটিং হয় না। আজকে জেলা প্রশাসক দায়িত্ব দিয়েছে। আমি গভর্মেন্টের থেকে অব্যহতি নিয়েছি। আমাকে যদি দায়িত্ব দেন আবার দায়িত্ব নিব কিন্তু চুরি চলবে না। ওষুধ বিক্রি করা চলবে না। কঠোর ভাবে সাজা দেওয়া হবে। কী করে সম্ভর ওখান থেকে দালাল এরেস্ট করা। ওখানে দালাল থাকে কেন। দালাল আছে তাই এরেস্ট হয়।

 

পুলিশ প্রশাসন কে কিছু বলবেন না। ওনারা যদি সহোযগিতা না পান  কোনো পুলিশ ই কিছু করতে পারবে না। এলাকার মানুষের চাহিদা থাকা দরকার। আমাদের একেক জনের মতামত যদি একেক রকমের হয় তাহলে তারা পিছিয়ে যাবে। ওনারা পিছিয়ে যাবে এটা দেখাবে ওটা দেখাবে ।

 

সেলিম ওসমান বলেন, আল্লাহ যদি আমাকে হায়াৎ দেন আমাদের মেয়র কে সঙ্গে নিয়ে ছোট ভাই সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৪। যেই মানুষ টা নাকি পারে এই নারায়ণগঞ্জ এর ৪০০ বছরের যে অশান্তি ছিল, যে হারামির যায়গা ছিল। পতিতালয়ের নারায়ণগঞ্জ ছিল। শামীম ওসমান কী পারে নাই, পতিতালয় থেকে নারায়ণগঞ্জকে মুক্ত করতে। শামীম ওসমান ই পারবে সন্ত্রাস দূর করতে, চাঁদাবাজি দুর করতে, মাদকাসক্ত দুর করতে। শামীম ওসমান কে আমরা শক্তি হিসাবে ব্যবহার করবো।

 

প্ল্যানিং করার জন্য আমি আর মেয়র আর জেলা প্রশাসন, আমরা প্ল্যানিং করে শামীম ওসমানকে দিব। শামীম ওসমান আপনার কর্মী চাই আপনি ব্যবস্থা করেন আপনারা সহোযোগি তা করবেন। যখনি ডাকা হবে তখনি যাবেন এটা কেউ মনে করবেন না যে আজকেই আমরা বসে যাব। আজকে নারায়ণগঞ্জর মানুষ কিন্তু আশা করছে যে নারায়ণগঞ্জ আর কোনো সমস্যা হবে না। সেই মূল্যায়নটা যেন আমরা করতে পারি। সেলিম ওসমান আরো বলেন, খবরদার যারা নাকি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জন প্রতিনিধি আছেন তারা কোনো দল করতে যাবেন না।

 

সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে ব্যবসা বন্ধ করে দেই, নারায়ণগঞ্জ থেকে ১৫ লক্ষ মানুষ নাই হয়ে যাবে। তারপর কষ্ট করে আর যানজট বন্ধ করতে হবে না। ১৫ লক্ষ মানুষ কমে যাবে। আমাদের মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আমরা এটা ভাঙ্গেন ওইটা ভাঙ্গেন বললে হবে না। আমরা পাগলার রাস্তাটা ব্যবহার করতে পারি না। পাগলার রাস্তা টা যদি আমরা ব্যবহার না করতে পারি, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরানো রাস্তা টা এটার দুই পাশে আপনি কী দোকন পাবেন না। জায়গাটা কার।

 

ট্রাক স্ট্র্যান্ড, বোরাক বাস স্ট্রান্ট ওটা ওখানে কেন থাকবে? আমাকে ওখানে আসতে হলে আমাকে এটা পার হয়ে আসতে হবে। আরা কী পারবো না আজকে এখান থেকে বসেই ডিসিশন নেওয়া যাবে, বোরাক থাকবে না, বেবি স্টান্ডগুলো রাইফেল ক্লাবের সামনে থাকবে না। তারপর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ থাকবে না পুলিশ থাকার দরকার নেই। বলবো আপনারা ঘুমান আমরা বের হবো। আগে স্টান্ট গুলো দখল করেন, তারপর নোটিশ করেন যে কোনো ফুটপাতে দোকান দেওয়া হবে না।

 

ওরা কোথায় যাবে এটা আমাদের মাথা ঘামানোর বিষয় না, ওরা যাবে কোথাও না কোথাও যাবে। আমার নারায়ণগঞ্জ পাটে ভরপুর ছিল পাট ছাড়া নারায়ণগঞ্জ কেউ কখোনো চিন্তা করে নাই। লক্ষ লক্ষ সিমেন্ট ছিল সেগুলো বন্ধ হয়ে যায় নি। সেখানের সেই মানুষ গুলো কী না খেয়ে মরে গেছে। শেখ হাসিনা সরকারে কেউ না খেয়ে মরবে না। সুযোগ দিবেন না। জুয়ার থেকে সন্ত্রাস থেকে আজকে অকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে আজকে ফুটপাত থেকে। ফুটপাতের দায়িত্ব আমি এখন পুলিশের কাছে রাখলাম না।

 

বাস কয়টা আছে আমাদের হিসাব দেন, কার বাস কয়টা আছে। আমাকে কেউ বলতে পারে না এই স্টান্ডটা কে চালায় ওই স্টান্ড টা কে চালায় কমিশনার রা বলতে পারে না এলাকার মানুষ বলতে পারে না পুলিশ বলতে পারে না, তাহলে সমস্যার সমাধান টা হবে কেমন করে। আমার একটাই চাহিদা যেটা আমার দায়িত্ব না সেটা আমাকে দিয়েন না রাস্তাঘাট আগে খালি করেন। আলোচনা সাপেক্ষে নারায়ণগঞ্জ এর মানুষ অত্যন্ত শান্তিতে থাকবে। যদি পারেন তো দোয়া করেন যে আমরা আজকে যে আলোচনায় বসছি। এই আলোচনা যেন কন্টিনিউ থাকে।  

 

রোজার আগেই রাস্তা ঘাট খালি হয়ে যাবে। রোজার পরে আবার বসবে এটা যেন না হয়। আপনি যদি আশ্বস্ত করেন, শামীম ওসমান সাহেব আছেন ওনার শক্তি আছে, ওনার কর্মীরা আছেন ওনার লোক আছে। আমরা যদি প্ল্যানিং করতে পারি পুলিশের দায়িত্ব যদি পুলিশ কে বুঝিয়ে দিতে পারি। শামীম ওসমানের দায়িত্ব যদি শামীম ওসমানকে বুঝিয়ে দিতে পারি  আমাদের নারায়ণগঞ্জ অতন্ত সুন্দর হবে। এবং এই কথাও বলবো জনসভা লগবে না।

 

শামীম ওসমানের মুখের কথাই যথেষ্ট। ওপেন সিক্রেট মাদক চলবে না। মাদক চলবে না আমাদের গোপনে কাজ করে আমাদেরকে শেষ করতে হবে। আমার ছোট বোন একটু উত্তেজিত হয়ে গেছেন, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমার কাজ না আমাকে দোষী করবেন এটা কেমন কথা। আমাদের এই আলোচনার মধ্যে যদি আমরা রাগ গোস্যা করি তাহলে কিন্তু এটা হবে না। আমরা সবাই এ ভাবে কথা বলতে পারি না। 

 

সেলিম ওসমান পরিশেষে বলেন, যাদের অনেক ক্ষোভ থাকে, তিনি যদি কেঁদে ফেলেন তবে তা বের হয়ে যায়। আমি বারবার বলছি আমরা পেছনের কথা বলবোনা। বিগত ইতিহাসের প্রয়োজন নেই, আমরা আজকের কথা বলবো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আজ যানজট নিরসন ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ। ৬০০ হকার না ৩০০ হকার তা নয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। কিন্তু আজকে নয়, প্রথমে আমাদের রাস্তাটা পরিষ্কার করতে হবে।

 

পরবর্তীতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের দিকটা দেখবো। শামীম ওসমানের যেই কথা কিছু রাখবো কিছু রাখবো এমনটি হবেনা এটি আমারও কথা। প্রথমে রাস্তায় কোন হকার থাকবেনা। আমরা এখন সবাই ফিল করছি। হকার এখন ত্রিমুখী। একটা হচ্ছে দোকানের সাইড থেকে মুখ করা আছে, আরেকটি দোকানের অপজিট থেকে মুখ করা আছে, আরেকটা দোকানের পিছন থেকে মুখ করা আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি, ১৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

 

যদি স্পেশাল পুলিশ আনতে হলে, পুলিশ আনতে হবে। কিন্তু আমরা চাইবো না, জনপ্রতিনিধিদের থেকে লোক দিয়ে এটা করতে। কারণ তাতে আক্রোশ হতে পারে ভুল হতে পারে। যেটা একবার ভুল হয়েছে, বারবার কথাটা উঠে আসছে, এটা প্রশাসনের মাধ্যমে রাস্তাটা খালি করতে হবে। জেলা প্রশাসন নিজেই দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন আজকে (রোববার) থেকেই এই কাজটা শুরু করবেন। আমরা সবাই একসাথে বসতে পেরেছি। এতোক্ষণ আমরা ধৈর্য্য ধরে কথা বলেছি।

 

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, যাদের নাকি আমাদের গালাগালি করার কথা ছিল, তারাও কিন্তু একটা প্রশ্ন করেন নাই। আজকে সবার মনে, সারা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে আনন্দের বিষয় হচ্ছে আমরা দুই ভাই, একবোন এক বৃন্তে। আমরা খাবো, হাসবো, আনন্দ সহকারে পুরনো কথা না বলে আমরা নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর করবো, স্মার্ট নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন