Logo
Logo
×

রাজনীতি

দিপু-খোকনের রাজনীতি মাইনাসের পথে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম

দিপু-খোকনের রাজনীতি মাইনাসের পথে
Swapno

 

# কমিটিতে আধিপত্য বিস্তার করে কঠোর সময়ে কোনঠাসা দিপু
# দিপুতে আস্থায় ধ্বংস জেলা বিএনপি, রূপগঞ্জ বিএনপি, অঙ্গসংগঠন
# রাজনীতিতে বড় পদে থেকে ও কারাগারে পা পড়েনি তাদের

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নব্য কিং মেকার রূপগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ও তারই অনুসারী হিসেবে পরিচিত নব্য রাজনৈতিকবিদ যিনি অল্প কিছুদিন যাবৎ রাজনীতিতে এসেই দিপুর ছত্রছয়ায় ছাত্রদলের কোন রাজনীতি বা পদ-পদবীতে না থেকেই প্রথমে একটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পরবর্তীতে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া পর পরই দিপুর আর্শিবাদে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বনে গেছেন গোলাম ফারুক খোকন।

 

এই মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ২০০৭ সালে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল কেন্দ্রেীয় কমিটির অর্থ-বিষয়ক সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে কিছুদিন পরই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে পদায়ণ হয়। এদিকে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক রহমানকে নানা চামচামি, চাটকারীতা করে আস্থা অর্জন করেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দায়িত্ব তার হাতে নেয়।

 

পরবর্তীতে গত ২০২১ সালে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে রাজপথে গতি ফিরিয়ে আনতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উপরে আস্থা রেখেছিলেন। যা গঠিত হয়েছে আংশিক কমিটি হিসেবে। কিন্তু গত বছর জেলা বিএনপির সমাপ্ত সম্মেলন দিপু ভূঁইয়ার প্রেক্রিপশনে তার অনুসারী নিষ্ক্রিয় নেতাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

এ দিকে জেলা যুবদলের একক কর্তৃত্ব স্থাপনের লক্ষ্যে দিপু ভূঁইয়া তার অনুসারী আমিনুল ইসলাম প্রিন্সকে একটি পদের দায়িত্বে আনতে চাইছিলেন কিন্তু তাতে তিনি সফল হয়নি। পরবর্তীতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে তিনি তার অনুসারী রফিককে বড় পদে না আনতে পারলে ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদে নিয়ে এসেছেন। তা ছাড়া জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদলে তিনি আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন।

 

জানা গেছে, তারেক রহমানের আস্থার এই প্রতৃক দিপু গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যাপকভাবে আন্দোলনে সক্রিয় থাকলে ও গত বছরের অক্টোবর পরবর্তীতে নভেম্বরের পর থেকে একেবারে বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কোন আন্দোলন থেকে শুরু করে এই দিপু ভূঁইয়া বিএনপির কোন নেতাদের দূসময়ে ও পাশে নেই। বহু নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে এই দিপু ভূঁইয়া ও তার অনুসারী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকে দূঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে পাওয়া যায়নি।

 

তারা তাদের নিজস্ব কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তা ছাড়া কোন কর্মীরা কল দিলে এই দুই নেতা তাদের কল ও রিসিভ করেনি। তা ছাড়া বর্তমানে দিপু ভূঁইয়ার নিজ হাতে গঠিত রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে নৌকা ও কেটলির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার নিজস্ব কর্মী যাদের দিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি ও জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন তারা কেউ বিএনপির কঠোর মুহুর্তে রাজপথে তাদের পাঁ ফেলেনি।

 

কেউ বলছে, রূপগঞ্জে এই দিপু-খোকন ও তার নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করেই রাজনীতি করে থাকে বলে মনে করছেন। যার কারণে এই কঠোর আন্দোলনে তারা কোন নেতৃত্ব বা দিক-নির্দেশনা দিলেন না। এ নিয়ে বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে এমন পদধারী নেতারা যারা আন্দোলনের নামে নিজেদের পকেট ভরে রাজপথের কঠোর সময়ে নিস্কিয় ভূমিকা পালন করেছেন আবার অনেকে প্রকাশ্যে না এসে নৌকার পক্ষে আর কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করে নিজেদের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

 

এদের হাতে দলের বড় বড় দায়িত্ব এই এসি রুমের রাজনীতিবীদদের হাতে সীমাবদ্ধ থাকায় বিএনপি ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে অগ্রসর করছে। তা ছাড়া এই দিপু ও খোকনের বিরুদ্ধে এই কঠোর আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ জমা হয়েছে। যে কোন সময় এই দুই নেতাকে কেন্দ্র থেকে নানা সঠিক অভিযোগের পেক্ষিতে মাইনাস করার সম্ভবনা রয়েছে।তা করে যদি সামনের দিনগুলোতে এই দিপু-খোকনের হাতেই বিএনপির রাজনীতি জিম্মি থাকে তাহলে সামনের দিনে নারায়ণগঞ্জের জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন তাদের শক্তি হারাবে বিচ্ছিন্ন হবে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা আওয়ামী লীগ মার্কা বিএনপিতে পরিণত হবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি।

 

সূত্র মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু উপরে আস্থা রাখেন। যাকে ঘিরে দিপুর হাতেই জেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের মূল দায়িত্বরত হিসেবে রূপগঞ্জের নেতাদের সিলেক্ট করা হয়েছে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন সকলেই দিপু ভূঁইয়ার অনুসারীবৃন্দ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে শুরু করে জেলার সকল অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিকে চাঙ্গা করতে বিএনপির মূলদলসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে দিপু ভূঁইয়ার উপরে আস্থা রেখেই তারা অনুসারীদের কমিটিতে স্থান দিয়ে ঢেলে সাজানো হয়েছিলো।

 

যেটা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে লক্ষ্য করা গিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেয়েছে দিপু ভূঁইয়ার আস্থা ভাজন হিসেবে সু-পরিচিত গোলাম ফারুক খোকন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে আদিষ্ঠ হন পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আদিষ্ঠ করা হয়। কিন্তু এই খোকন দিপুর ভূঁইয়ার অনুসারী হওয়ার ধরণ এবার প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি এই দিপুর ভূঁইয়ার মতোই আন্দোলনে কোন ভূমিকায় ছিলেন না যা নিয়ে জেলা বিএনপিতে অসন্তোষ বিরাজমান করছে।

 

তা ছাড়া এ দিপু ভূঁইয়া ও গোলাম ফারুক খোকন বড় পদ নিয়ে রাজনীতিতে থাকে মামলায় আসামী হয়েছেন কিন্তু কারাভোগ কখনো করেনি তারা। সেহেতু রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের কারাভোগ কতটা কষ্টে এটা তারা কখনোই বুঝবে না। কারণ রূপগঞ্জের বড় বড় গ্রুপ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে নানাভাবে আতাঁত রেখে রাজনীতি পরিচালনা করছেন এই দিপু-খোকন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির এক সময়ের ঘাঁটি ছিলো রূপগঞ্জ।

 

বিএনপির আমলের সাবেক প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত আব্দুল মতিন চৌধুরী এই রূপগঞ্জ বিএনপিকে ধরে রেখেছিলেন। তার আমলে রূপগঞ্জ বিএনপি একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও রূয়পগঞ্জ বিএনপির নাম জেলা বিএনপিতে ধরে রাখতে পারলে ও এই দিপু ভূঁইয়া তার কিছু অনুসারীর মাধ্যমে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে ধ্বংসের পথে দাবিত করেছে।

 

এদের হাতে রাজনীতি তুলে দিয়ে দিপু ভূঁইয়া নিজে ও রাজনীতি থেকে উধাও ছিলেন তারা ও তারেক রহমান ও দলের থেকে দিপুকেই রাজপথের কার্যক্রম দেখাতে উৎসাহি দিপু রাজপথে নিষ্ক্রিয় থাকায় তার নেতাকর্মীরা কাকে দেখাবে তারাও রাজপথ থেকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। যেহেতু কেন্দ্র রাজপথের নিষ্ক্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন সেহেতু শেষ বেলায় দিপু ও খোকনের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে কি ব্যবস্থা আসে সেটাই দেখার বিষয়। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন