এক মুকলে দিশেহারা মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০০ পিএম
# বিতর্কিত মুকলকে বোঝা হিসেবে দেখছে বিদ্রোহী গ্রুপ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জালাল উদ্দিন হাজী তারই পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে শক্তিশালী করার জন্য তাকে মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিলো। সেই ধারবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্যর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরপর তার দ্বিতীয় পুত্র অ্যাড. আবুল কালাম বাবার মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রাজনীতিতে আসেন তিনি।
তিনবার বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এই আবুল কালাম। সে অবস্থায় মহানগর বিএনপি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনে রাজপথে খুব কমই ছিলেন এই আবুল কালাম। সেই জালাল হাজী পরিবার থেকেই বেড়িয়ে এসেছেন মহানগর বিএনপির এক বিতর্কিত নেতা। যাকে নারায়ণগঞ্জের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চিনে থাকে লাঙ্গল মার্কা বিএনপি নেতা হিসেবে।
তিনি হলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। তিনি নানা সময় দলের ভিতরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে থাকে। আর দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার অভ্যাস অনেক আগ থেকেই রয়েছে বিতর্কিত নেতা মুকুলের। তারই ধারাবহিকতায় তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রকাশ্যে জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করার নজির প্রমান দিয়েছেন।
তা ছাড়া ও নব্য ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তার নামে নানা আলোচনা হওয়ায় ও তার আন্তরিকতার নেতা যাদেরকে এই জালাল হাজী পরিবারের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া বন্দরের তিন কাউন্সিলর নেতা সুলতান, হান্নান, মুরাদকে দেখা গেছে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রাচরনায় তা ছাড়া সেলিম ওসমান প্রকাশ্যে বক্তব্যে দিয়েছেন মুকুল আজকে এখানে আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু আমি তাকে আসতে না বলেছি।
সেই বক্তব্যে ও সেখানে তার সহযোগীদের উপস্থিতি প্রমান করেছেন মুকুল একজন আতাঁতকারী নেতা সেই স্বার্থেই দল থেকে মুকুল ও তাদের সহযোগীদের বহিষ্কার করা হয়। নেতাকর্মীদের দাবি, মুকুল কখনো বিএনপিতে জিয়ার সৈনিক হিসেবে কাজ করেনি। তিনি সব সময় সুফলের পিছনে দৌঁড়ঝাঁপ করেছে। তাই তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত আতাঁত করে চলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলেছেন।
তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি গঠনের সাথে সাথেই এই মুকুলকে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ দেওয়া হয় যার কারণে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। তার পাশাপাশি আরো ১৪ জনকে তার সাথে নিয়েই তিনি বিদ্রোহীতা করেন। যার তার সাথে বিদ্রোহ করেছিলেন তারা সকলেই চিন্তা করেছিলেন মুকুল বিগত দিনে যাই করেছেন এখন আর কোন আপে লাপে যাবে না। কিন্তু যখনই মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি রাজপথে সক্রিয় হয় পুরোদমে।
তখনই তাদের সাথে একত্মা প্রকাশ করা মহানগর বিএনপির ২ জন যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির ও নূর উদ্দিন। যার পর থেকেই মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপ ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হওয়া শুরু করেন। নারায়ণগঞ্জের কোন কর্মসূচিতে সারা দেয় না তারা। এদিকে বিদ্রোহী গ্রুপ চিন্তা করেছিলেন জালাল হাজী পরিবার ছাড়া মহানগর বিএনপি চলবে না। যে কারণে তারা মুকুলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
কিন্তু সর্বশেষ এই মুকুল তার সেই পুরানো রূপে ফিরে গেলেন সকল সময়ের মতো এবার জাতীয় পার্টির পক্ষে নির্বাচনে প্রকাশ্যে না আসলে ও এবার তিনি গোপনে এসেছেন কিন্তু তা আর লুকিয়ে রয়নি। সব প্রমানের মাধ্যমে ছন্নছাড়া মুকলের রাজনীতি তা ছাড়া এই মুকুলের নানা বিতর্কপনায় জালাল হাজী পরিবার বর্তমানে রাজনীতি থেকে মাইনাস রয়েছেন।
বর্তমানে বিএনপি এই সরকারের কোন নির্বাচনে অংশ নিবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই আতাউর রহমান মুকুল এবার ব্যানার ফেস্টুন করছেন বন্দর উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া জন্য। এদিকে মুকুলের সাথে থেকে বিএনপির রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া মহানগর বিএনপির সাবেক তুখোর কিছু নেতাকর্মী লজ্জায় মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে একত্মতা প্রকাশ করতে পারছে না। যাকে ঘিরে বর্তমানে এক মুকলে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতারা।
সূত্র মতে, বিতর্কিত মুকলকে এবার বোঝা হিসেবেই দেখছে মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতারা। এই মুকুল বিগত দিন থেকেই নানাভাবে বিতর্কিত ১৯৯৬-২০০১ সালের নির্বাচনে-৫ আসন থেকে সাংসদ হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক এমপি আবুল কালাম ও তৈমূর আলম খন্দকার। তখন এই তৈমূর আলমের সাথে নির্বাচনী প্রচারনায় তার পিছনে পিছনে থাকতেন এই আতাউর রহমান মুকুল তখন তৈমূরের সাথেই সদা সর্বদা থাকতেন ও তারা কি বলে তা নিয়ে সে আবার তার ভাই সাবেক এমপি কালামের কাছে গিয়ে বলতেন।
মূলত তিনি তৈমূরের সাথে থেকে কালামের মনোয়নের জোরদার চেষ্টা করেছেন। তখন সে তৈমূরের সাথে থেকে তার সাথে ব্যাপক বেইমানি করার কারণে তৈমূরের নেতাকর্মীরা অনেকেই এই মুকুলের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় কর্মী হওয়ার কারণে তাকে ছাড় দেয়। তারই ধারবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকায় ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে পরোক্ষভাবে নিজ সমর্থিত নেতাকর্মীদেও নিয়ে কাজ করেন আতাউর রহমান মুকুল।
যদিও তৎকালীন সময়ে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল তারা কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তকে অনেকটা উপেক্ষা করেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন আতাউর রহমান মুকুল। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর বিজয় র্যালীতে উপস্থিত থেকে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানের মধ্যেও ছিলেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জেলা পরিষদের মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দিয়েছিলেন কমান্ডার গোপীনাথ। আর বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। ওই সময় তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। বরং মুচকি হেসেছিলেন। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলের সাথে সমঝোতার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সরাসরি মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানের জন্য আতাউর রহমান মুকুল বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করেন আর ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কেন্দ্রে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তার এতো অভিযোগ থাকা সত্ত্বে ও কেন্দ্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে তাকে রেখেছিলেন কিন্তু তিনি সভাপতি হওয়ার আশায় ছিলো এমন বিতর্ক নিয়ে। তা ছাড়া ও মহানগর বিএনপি থেকে যারা বিদ্রোহ করেছেন তারা ও মনে করেছিলেন মুকুল আর আগের মতো নেই কিন্তু দিন থেকে এবার নির্বাচনে ও উনি জাতীয় পার্টির সঙ্গে তলে তলে সম্পৃক্ততা থাকায় এবার দিশেহারা তার থাকে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা।
তা ছাড়া মহানগর বিএনপির মূল নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যারা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন তারা চাইলে আবারো দলে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া দলে যোগদান করতে পারবে না। কিন্তু লজ্জায় বিদ্রোহী নেতারা আসতে পারছে না মহানগর বিএনপির মূল কমিটিতে।
এদিকে বিতর্কিত মুকুল এখন বহিষ্কৃত নেতা হওয়ায় আরো সুযোগ বেছে নিয়েছেন বন্দর উপজেলার নির্বাচনে অংশ নিতে এর আগে ও তিনি একবার বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এবার আবারো নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন আর বিদ্রোহী গ্রুপের নেতারা এই নির্বাচনে তার পাশে থাকার জন্য বলেছেন তারা ও বিপদে পরে কোন রকম তার সাথে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে গতিশীল করতে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানতে আহ্বায়ক ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করা হয়।
যাকে পকেট কমিটি আখ্যা দিয়ে মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে আতাউর রহমানের অনুসারী ১৫ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন তারা হলেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, হাজী নুরুদ্দিন, আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, সদস্য অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম রিপন, আমিনুল ইসলাম মিঠু, মনোয়ার হোসেন শোখন, ফারুক হোসেন, হাজী ফারুক হোসেন, হান্নান সরকার, আওলাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু। এস.এ/জেসি


