Logo
Logo
×

রাজনীতি

কে পাচ্ছেন শামীম ওসমানের গ্রীন সিগন্যাল  

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৬ পিএম

কে পাচ্ছেন শামীম ওসমানের গ্রীন সিগন্যাল  
Swapno


৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচন। এ নির্বাচনে কে পাচ্ছেন শামীম ওসমানের গ্রীণ সিগন্যাল , কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান  এ নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত ১ নং ওয়ার্ড থেকে ৯ নং ওয়ার্ড সব জায়গাতেই এ নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষন। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সবাই শামীম ওসমানের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে এ সিদ্বান্তের অবসান হতে যাচ্ছে আজই।

 

 

বিশ্বস্ত সূত্র মতে, এ নিয়ে আজই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবেন শামীম ওসমান। সম্ভাব্য যে ৮ জন প্রার্থীকে নিয়ে শামীম ওসমানের চলছে যাচাই বাছাই এর মধ্যো ৪ জন প্রার্থী ইতিমধ্যো মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এরা হলেন ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা আ’লীগের সদস্য মুজিবুর রহমান ও প্রয়াত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন এর স্ত্রী সেলিনা সুলতানা।

 

 

তবে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি ফতুল্লা থানা আওয়ামী  যুবলীগ  নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আ’লীগের ১ নং সদস্য শরিফুল হক ও ফতুল্লা থানা আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ লিটন।

 

 

তবে ফতুল্লার কয়েকজন ত্যাগী ও দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এমন কয়েকজন  ব্যাক্তির সাথে এ বিষয় নিয়ে  কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৮ জন প্রার্থীই বলছে তারা শামীম ওসমানের সিদ্বান্তের দিকে তাকিয়ে । শামীম ওসমান যাকে গ্রীন সিগন্যাল দিবেন তার হয়েই বাকিরা কাজ করবেন।

 

 

তবে এই ৮ জনের মধ্যো ৪ জনই শামীম ওসমান সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগেই তারা মনোনয়ন সংগ্রহ করে ফেলায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন তারাই বলছে শামীম  ওসমান যা সিদ্বান্ত দেবেন তা মেনে নেবেন আবার এদের মধ্যো থেকেই কেউ কেউ ইতিমধ্যো মনোনয়ন ও সংগ্রহ করে ফেলেছেন। আবার একজন নির্বাচনি প্রস্তুতি সভাও করছেন। এটা তো আসলে কথা আর কাজে মিল হলো না।

 

 

বরং উচিৎ ছিলো শামীম ওসমানের সিদ্ধান্তের উপর জদি এতটাই শ্রদ্ধাশীল তারা তবে শামীম ওসমান সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই যাকে সিগন্যাল দিতেন সে  মনোনয়ন কিনতেন।

 


এ ইউনিয়ন বাসী আসলে কেমন চেয়ারম্যান চায়  এর উত্তর খুজতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে  ঘরে প্রাপ্ত তথ্যমতে, একজন ক্লিন ইমেজের সাহসী ও দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান সবার প্রত্যাশা। তারা বলছেন এ ইউনিয়নের মূল সমস্যা মাদক, কিশোরগ্যাং, ভূমিদস্যুতা , ইভটিজিং, চাঁদাবাজী ও মৌসুমী সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। যে ব্যাক্তি এ সমস্যাগুলো সমাধানে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারবে এমন ব্যাক্তি এ ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা।

 


সমগ্র ইউনিয়ন এর একাধিক স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা সবাই চাই এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে আজমত আলী আসুক । কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার সময় যখন সবাই আতঙ্কে ঘর বন্দী তখন গরীব মানুষদের কথা ভেবে তিনি ঘরে থাকতে পারেন নি। তিনি প্রথম দফায় ৫৫০ টি পরিবারকে ও দ্বিতীয় দফায় ৮০০ পরিবারকে ত্রান সহায়তা দেন।

 

 


এছাড়াও এ এলাকার যে মানুষই বিপদে পড়েছে তিনি সাধ্যমতো বিপদগ্রস্থ মানুষদের পাশে থেকেছে। তার দ্বারা মানুষ বিন্দু মাত্র ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। আমরা অনেক নেতাকে দেখি তার লোকদের কারনে এলাকায় শান্তিমতো আমরা থাকতে পারি না। মাদক, কিশোরগ্যাং, ভূমিদস্যুতায় তারা এক্সপার্ট তবে আজমত ভাই ও তার লোকদের কারনে কখনো কোনো অসুবিধা হয়নি।

 


ফতুল্লার একাধীক রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের সাথে কথা বললে তারা জানান, আজমত আলী একজন সত্যিকারের অর্থে ত্যাগী আ’লীগ নেতা। মানুষের পাশে থাকতে যে পদ পদবীর প্রয়োজন হয়না আজমত তার উৎকৃষ্ট উদহারন। সে আড়াই যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামীলীগের  রাজনীতির সাথে জড়িত।

 

 

 ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জ এ আ’লীগের যতগুলো কর্মসূচী হয়েছে প্রতিটি কর্মসূচীতে সবচেয়ে বড় মিছিলগুলোর একটি ছিলো আজমত এর। এছাড়াও বিএনপির ডাকা হরতাল অবরোধে তিনি গুরুত্বপূর্ন  একাধিক স্পট এ তার কর্মী নিয়ে পাহাড়া দিতেন জনগনের জানমালের নিরাপত্তায়।

 


এছাড়াও  ফতুল্লার এক নেতা  আছে যে পুলিশ অপরাধীদের ধরে আনলে সে নেতার কাজই অপরাধীদের ছাড়িয়ে দেওয়া কারন সে অপরাধীরা তার সেল্টারে অপরাধ করে সেখানে   আজমত আলী কখনো থানায় অপরাধী ছাড়িয়ে আনতে সুপারিশ করেনি কারন সে অপরাধীদের শেল্টার দেয়নি। এছাড়াও সে ভোটের মাঠে অত্যন্ত ভালো ফলাফল দেখিয়েছে যা প্রশংসনীয়। তার কথায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে এসেছে।

 


আবার কেউ কেউ বলছে ফতুল্লার চেয়ারম্যান হিসেবে শরীফুল হক যোগ্য প্রার্থী কারন শরিফুল হক অত্যন্ত ক্লিন ইমেজের একটা লোক । তার নামের পাশে কোনো বিতর্ক নেই। সে প্রায় আড়াই যুগের ও বেশি সময়  ধরে আ’লীগের সাথেই রয়েছে । সুযোগ ও ব্যাপক সুবিধে দেওয়ার প্রলোভনেও তিনি দলছুট হননি।

 

 

অন্য বলয়ে জাননি।  তার কর্মীরা অন্যন্যদের মতো বিতর্কিত নয়। সে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ছিলো সফল এবং ভোটের মাঠেও ছিলো সবচেয়ে সফল। সে একজন সক্রীয় নেতা। সে চেয়ারম্যান হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।

 


তবে আরেক প্রার্থী মীর সোহেল আলীর নামের সাথে বিতর্ক যেনো লেপ্টে রয়েছে। তথ্যমতে, মীর সোহেল আলীর বাবা মীর মোজাম্মেল গ্রাম সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তখন ক্ষমতায় ছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সালে মীর সোহেল আলী ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহব্বায়ক এবং পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হন।

 

 

তবে ১৯৯৬ সালে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির  একটি রাজনৈতিক প্রোগামে মীর সোহেল আলী অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে গেলে সেখানে আ’লীগের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের স্বিকার হন। অতঃপর মীর সোহেল আলীর ছোট বোন জামাতা টিপু সুলতানের মধ্যস্থতায় ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে আ’লীগের এক জনসভায় শামীম ওসমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে আ’লীগে জোগদান করেন।

 

 

তবে ২০০৮ সালে আ’লীগ পূনরায় ক্ষমতায় আসলে তখন এ আসনের সংসদ সদস্য হন কবরী। তখন সুবিধে বুঝে  আবারও মীর সোহেল আলীর বাবা তাকে কবরীর হাতে তুলে দেন। কবরীর বলয়ে যাওয়ার পর ফতুল্লার দাপা ঘাট এলাকায় অবস্থিত কেরানীগঞ্জের আ’লীগ নেতা রশিদ ও কাশেমের ঘাট ও দোকান দখল করে নেয়। এ ঘটনায় তাকে যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিলো।

 

 

একসময়ের বিএনপির মস্ত বড় নেতা এখন আ’লীগের বড় নেতা আবার চাচ্ছেন চেয়ারম্যান পদও। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সবত্র। শুধু তাই নয় এ নির্বাচন নিয়ে  ২ দিন পূর্বে এক নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় মীর সোহেল আলী বলেন, থানায় যত লোককে আমি ছাড়িয়ে দিয়েছি তারা ভোট দিলেই তো আমি পাশ। তিনি আরোও বলেন ওসিরে বললে তারা আমার কথা ফেলতে পারে না।

 

 

কারন আমার কথা ফেললে হিসেব করে ফেলতে হয়। তার এই বক্তব্যে ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে গোটা ফতুল্লায়। সমালোচনাকারীদের ভাষ্যমতে, পুলিশ যাদের থানায় নিয়ে আসে তারা মূলত অপরাধী। অপরাধীদের যারা ছাড়ায় তারা অপরাধীদের শেল্টারদাতা হিসেবেই পরিচিত। মীর সোহেল আলী যেভাবে বললেন কথাটা এর মানে তিনি অসংখ্য অপরাধীকে ছাড়িয়েছেন।  

 

 

তাহলে তিনি অবশ্যই অসংখ্য অপরাধীর শেল্টারদাতা। এছাড়াও ভোটের মাঠে তার নিয়ন্ত্রনাধীন কেন্দ্রে ভোট পরেছে মাত্র ২৬.৬৬ শতাংশ। ভোটের মাঠে তার ব্যার্থতা সামনে আনছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়াও এ ইউপিতে চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে  ৩ নং ওয়ার্ডে রয়েছে ফরিদ আহম্মেদ লিটন এর সমর্থকগোষ্ঠী, ৭ নং ওয়ার্ডে রয়েছে ফাইজুল ইসলাম এর সমর্থকগোষ্ঠী। অর্থাৎ  চেয়ারম্যান প্রার্থী সবাই ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতা। তবে এবার দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কাকে সমর্থন  দেন শামীম ওসমান।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন