Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফাইজুলের সাথে ৬ প্রার্থীর লড়াই

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম

ফাইজুলের সাথে ৬ প্রার্থীর লড়াই
Swapno

 

# আ.লীগের সকলে ফাইজুলকে সমর্থন করি : শওকত

 

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেই নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা ইউনিয়নের উপ নির্বাচনের ডামাঢোল বাঝতে শুরু করেছে। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার জন্য এক ঝাক প্রার্থী মাঠে নেমেছে। সেই অনুযায়ী অর্ধডজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছে। উপজেলা নির্বাচন কমিশন তথ্যমতে ফতুল্লা ইউনিয়নের উপ নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে। তার মাঝে অনেকে ২০২১ সনের ২৬ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।

 

এছাড়া তখন দলীয় প্রতীক থাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু এবার ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় সুযোগকে কাজে লাগাতে চান অন্য প্রার্থীরা। যদিও ফতুল্লা ইউনিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম। তবে দলীয় হাই কমান্ড থেকে অন্যদের প্রার্থী হতে কোন বাধা নেই। কিন্তু চেয়ারম্যান প্রার্থী ফাইজুলের পক্ষে মাঠে নেমে কাজ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।  

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফরোজা খাতুন জানান, ফতুল্লা ইউনিয়নের উপ নির্বাচনের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন থাকায় এখানকার চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা প্রদান করেছেন। তারা হলেন, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম।

 

জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতি মহসিন সিপাহী, জেলা সৈনিক লীগ নেতা পরেশ চন্দ্র দাশ, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী দেলোয়ার হোসেন, এছাড়া  আমজাদ হোসেন, মোঃ সেলিম রেজা শাওন, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মনোনয়ন জমা প্রদান করেছে। তফসিল ঘোষনার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ১৭ জন। প্রার্থীদের সমর্থকরা জানান তারা নির্বাচনের মাঠে থেকে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত লুৎফর রহমান স্বপন চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার পর থেকে উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার জন্য একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও তারা ফাইজুল ইসলামকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থীতা জমা দেন নাই। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফাইজুলের সাথে লড়াই করবে অন্য প্রার্থীরা। তিনি একক ভাবে মাঠ খালি পাচ্ছে না। তার সাথে লড়াইয়ের জন্য ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে। তবে এদের থেকে যাচাই বাছাই শেষে কয়জনের প্রার্থীতা টিকে থাকে তা দেখার বিষয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ দিন ফতুল্লা ইউনিয়ন বাসির মানুষ উন্নয়নের মুখ দেখছে না। কেননা এখানে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০২১ সনের ২৬ ডিসেম্বর এই ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক মনোনীত হয়ে এখানকার প্রয়াত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনি এর আগে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে থেকে তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারেন নাই। তাছাড়া ভারমুক্ত হয়ে ২ বছর না যেতেই দুনিয়া ছেড়ে সৃষ্টিকর্তার ডাকে চলে যান।

 

২০২৩ সনে ২৩ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন মারা গেলে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ শুন্য হয়। জাতীয় নির্বাচনের কারনে তা সঠিক সময়ে নির্বাচন করা সম্ভব হয় নাই। কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর পরই খালি উপেজলা এবং পৌর সভা নির্বাচনের তপসিলের সাথে ফতুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনের তপসিল ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশন। তার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থেকে নিজেদের মত করে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন।

 

আওয়ামী লীগ সমর্থিত ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফাইজুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দিয়ে বলেন, আমি দলের সকল নেতা কর্মীদের সমর্থন নিয়ে ফতুল্লা ইউনিয়নের উপ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এছাড়া এলাকার মুরব্বিদের দোয়া এবং তাদের ভরসায় প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা প্রদান করি। আশা করি ফতুল্লা উন্নয়নের জন্য প্রতিটি মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

 

ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের রাজনীতি নিয়ে যে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজনীতি করেছেন তারা অনেকেই এই পদে আসার জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আমরা সকলের একসাথে আলাপ আলোচনার জন্য আমার নিজ বাসায় একটি সভা হয়। সেখানে সকল সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। সভায় সকলের সম্মতিতে আলাপ আলোচনা করে আমরা, ফাইজুল ইসলামকে সমর্থন দেই। ফাইজুল ইসলামের সাথে সম্ভাব্য সকল প্রার্থীরা একমত দেন।

 

ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতি মহসিন সিপাহী বলেন, ২০২১ সনে দলীয় প্রতীক থাকায় দলের প্রতি আনুগত্য প্রদান করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেই। কিন্তু এবার যেহেতু দল থেকে কোন বাধা নেই তাই ফতুল্লা মানুষের সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য ভোটারদের অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। তাছাড়া আমার পিতা আব্দুল রশিদ এই ইউনিয়নের মেম্বার হয়ে মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।  সেই হিসেবে ফতুল্লার জনগণের ভরসায় আমি নির্বাচনের ভোটের দিন পর্যন্ত লড়াই করে যাবো। সেই সাথে বিজয় হবো বলে আশাবাদি।

 

ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জাপা নেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি ২০২১ সনের ২৬ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও অংশ গ্রহন করি। সেই হিসেবে এখানকার মানুষের দোয়া এবং শাহ ফতেহ উল্লাহ ভক্তদের দোয়াই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা প্রদান করেছি। এখানকার উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাকে ভোট দিবে বলে আশাবাদি।

 

উল্লেখ্য আগামী ৯ মার্চ ব্যালট পেপারে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যঅনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারী, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ১৫ ফেব্রুয়ারী, আপিল দায়ের ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারী, প্রতিক বরাদ্দ ২৩ ফেব্রুয়ারী এবং ৯ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন