আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দিবে না বলে আগেই ঘোষণা করেছে। বিএনপি এবং সমমনা দল গুলো নির্বাচন বর্জনের ধারাবাহিকতায় দলীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচনে আসবেনা তাও প্রায় নিশ্চিত। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় বিভিন্ন দলের অনেক প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। দলীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর অনেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সে লক্ষ্যে সকল প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য বন্দর আওয়ামী লীগের বেশ কজন নেতা তৎপর রয়েছে। বিএনপিও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। বিগত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাশ করে আসা সম্ভব হলেও এবার তেমনটি হবার জো নেই। বাধ্য বাধকতা নেই বলেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এমন আধিক্য দেখা যাচ্ছে।
দুর্বল জনভিত্তির কারণে তাদের মধ্যে শীর্ষ নেতাদের আনুকুল্য লাভের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় পার্টি ও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের মাননীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব একেএম সেলিম ওসমানের আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টায় আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির সকল প্রার্থীই গলদঘর্ম। বিএনপি প্রার্থীও সেলিম ওসমানের দোয়াপ্রার্থী!
জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সেলিম ওসমান সাহেবের আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করবেন এটা খুবই স্বাভাবিক যেহেতু উনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও প্রকাশ্যে সেলিম ওসমানের আনুকুল্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন। বিগত সংসদ নির্বাচনে যারা সেলিম ওসমানের বিরোধিতা করেছেন অর্থাৎ আওয়ামী লীগের প্রার্থী চেয়ে গলা ফাটিয়েছেন তারাও এখন সেলিম ওসমানের আনুকূল্য চাচ্ছেন।
একজন প্রার্থী প্রকাশ্য জনসভায় বলেই বসলেন "সেলিম ভাই বললে আমি নির্বাচন করবো"!আহা কি আনুগত্য! দুদিন আগেও সংসদ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের বিরোধিতাকারী এমন অনেকেই আছেন যারা এখন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য সেলিম ওসমানের আনুকুল্য প্রত্যাশী। কেউ কেউ সেলিম ওসমানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের আনুকূল্য পাওয়ার জন্যও জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না সুতরাং যে যার মত প্রার্থিতা ঘোষণা করে নির্বাচন করলেই হয়।এমপি সাহেবের আনুকূল্য প্রয়োজন কেন? দলীয়ভাবে যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে না স্বাভাবিকভাবেই বিচক্ষণ এমপি মহোদয়গণ বিশেষ কারো প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করবেন তেমনটিও আশা করা যায় না। দুদিন আগে আওয়ামী লীগ অন্ত: প্রাণ হিসেবে নিজেদের জাহির করে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চাওয়া ব্যক্তিগণ কিভাবে আবার সেলিম ওসমানের আনুগত্য কামনা করে?
তাহলে কি এ কথাই প্রতিষ্ঠিত হবে যে রাজনীতিতে সবই সম্ভব? গিরগিটির মতো ঘন ঘন রং বদলানো খুবই স্বাভাবিক বিষয়? এই কি বন্দর আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈশিষ্ট্য? "একই অঙ্গে এত রূপ" ধারন আসলে দলীয় আদর্শের প্রতি ভালোবাসা থেকে নয় বরং ক্ষমতার মসনদে যাওয়ার লক্ষ্যেই ঘনঘন রং পাল্টানো।এর মূল কারণ তাদের জনভিত্তি খুবই দুর্বল তাইতো প্রভাবশালী এমপি মহোদয়ের আনুকূল্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়।
যাদের জনভিত্তি নেই তারা কিভাবে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কল্যাণে আসবে? যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না তাই প্রকৃত জনপ্রিয় ব্যক্তিগণ নির্বাচিত হয়ে আসুক এটিই সচেতন মহলের চাওয়া। বন্দর উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা মাননীয় সাংসদগণ জনগণের এই চাওয়াকে সম্মান দিবেন যা হবে নির্বাচনী এলাকায় তাঁদের দৃঢ় জনভিত্তি তৈরি করা এবং উন্নয়নের চাবিকাঠি।
লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


