নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির অত্যন্ত সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতি বর্তমানে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কঠোর আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমানে বিএনপি দেশের জনগণকে সামনের আন্দোলনে আসার আহ্বানের কর্মসূচিতে ও নেই এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিগত দিনে বিএনপির সকল আন্দোলনে মূর্খ ভূমিকায় থাকা ছাত্রদলের বর্তমান অবনতিতে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পরেছেন এই সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা।
তা ছাড়া ও জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ১ বছর পেরিয়ে যেতেই তারা নানা অপকর্মের সাথে লিপ্ত হয়ে পরেছেন। জানা গেছে, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের দুইটি কমিটির বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ বার বারই বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকার হেডলাইন হয়ে আসছে। ছাত্র রাজনীতি একটি পবিত্র সংগঠন এই সংগঠন থেকেই কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বড় বড় নেতারা উঠে আসে। আর এই সংগঠন থেকে যদি নানাভাবে অর্থ কেলেঙ্কারী ও দলের দূর সময়ে সকল আন্দোলন থেকে পিছপা থাকা হয়। তাহলে এদের দ্বারা মূল সংগঠনের রাজনীতির কথা প্রশ্নই উঠে না।
এমন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা সহযোগী সংগঠনের পর আর উচ্চ কোন পদে পদায়ন হতে পারে না। তাদের রাজনীতি এখানেই ফ্লপ হয়ে পরে। বর্তমানের জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের রাজনৈতিক পরিবেশের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ হলে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া বিগত দিন যখন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন, তখনও বিএনপির কোন আন্দোলনে বেশি ভূমিকা রাখতেন না।
শুধু তার রাজনৈতিক গুরু বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর পিছ পিছই আসতেন। আর বেশির ভাগ সময়েই আন্দোলনে থাকতেন না এই নাহিদ হাসান ভূঁইয়া তা ছাড়া কোন প্রকারের ভূমিকা ছাড়াই তার গুরু দিপু ভূঁইয়ার ছত্রছায়ায় থেকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বনে গেলে দফায় দফায়কৃত বিএনপির কঠোর আন্দোলনে শুধু একদিন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সাথে দেখা মিললে ও ২ মাসে আর দেখা মিলেনি তার।
অপরদিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু যিনি বিগত দিনে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদে ছিলেন কিন্তু নানা লবিং ও দেন দরবারে ও এই জিকু কমিটিতে স্থান পায়। কিন্তু আন্দোলনে নেই শুধু পদ নিতে হলে যোদ্ধা পদ পেয়ে গেলে উধা এমনই রাজনীতি দৃশ্যমান দেখিয়েছেন উনি। তিনি ও তার সভাপতির মতোই জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রনির নেতৃত্বে আন্দোলনের প্রথম দিন ফতুল্লা জালকুড়িতে হরতাল সমর্থনের মিছিলে যুক্ত ছিলেন।
তা ছাড়া তার রাজনৈতিক গুরু বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক সম্পাদ মাহমুদুর রহমান সুমনের নির্দেশনায় আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাথে কোন রকম পিছপা হয়ে হয়ে আন্দোলন দেখিয়েছেন। অপরদিকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী বর্তমানে কোন আন্দোলনেই নেই। উনি এখন ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগ দেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু বিএনপির এই ক্লান্তিলগ্নে বিএনপির সকল আন্দোলনকে ধরে রেখেছিলেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ উনি রূপগঞ্জে বিএনপির এই কঠোর আন্দোলনে কঠোর থেকে কঠোর ভূমিকায় ছিলেন। যা বর্তমানে শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় কেন্দ্রীয় নেতারা ও লক্ষ্য করেছেন। দফায় দফায় আন্দোলন রাজপথে থেকে সফল করতে গিয়ে বর্তমানে এই নেতা রয়েছেন কারাগারে। তা ছাড়া জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ভূঁইয়া ফতুল্লা ও তার নিজ এলাকা সোনারগাঁয়ে ব্যাপকভাবে তার লোকবল নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান দোলন ফতুল্লা থানায় দফায় দফায় মামলা খেয়ে ও এই থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে আন্দোলনে একের পর এক চমক দেখিয়েছেন এই নেতা আন্দোলনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রাজপথে রয়েছেন। অপরদিকে মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতি কমিটির গঠনের পর যতটা চাঙ্গা ভাব দেখাতে পেরেছিলেন বর্তমানে তার ১ ভাগ ও রাজপথে দেখানোর সক্ষমতা নেই তাদের।
এদিকে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় আন্দোলনে চোখে গুলি খাওয়ার পর তার বক্তব্যে তিনি রেস্টে ছিলেন আর এই উছিলা দেখিয়ে আর পরবর্তী সকল আন্দোলনে একদিন ও রাজপথের কোন ভূমিকায় ছিলেন না। শুধু আন্দোলনের একদিন কোন রকম তাদের বাসার সামনের একটি বন্ধ স্পটে অবরোধ সমর্থনের মিছিলে দেখা গিয়েছিলো তাকে।
তা ছাড়া এই নেতা আন্দোলণ ছেড়ে আন্দোলন বানিজ্যের টাকা নিয়ে বিয়ের আসরে বসার অভিযোগ উঠছিলো যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি লোকাল পত্রিকায় নিউজ ও হয়েছিলো বর্তমানে এই নেতা তার পারিবারিক কাজে ব্যস্ত তাকে ঘিরে আন্দোলনে নেই এই নেতা বর্তমানে তার নামে নেই কোন মামলা আর যা আছে সকলগুলো জমিন পাওয়া তারপর ও নারায়ণগঞ্জের বিএনপির লিফলেটের মতো কর্মসূচিতে এই নেতার দেখা পায়নি কেউ।
অপরদিকে মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহিদ ইস্তিয়াক সিকদারকে হরতাল সমর্থনের দিন তার নেতৃত্বে নগরীর মিশনপাড়ায় মহানগর ছাত্রদলের হরতাল পালন হলে ও এই নেতাকে আর দেখা যায়নি। ইতিমধ্যে তার নির্বাচনের পর জাতীয়পার্টির নেতাদের সাথে মজে ব্যস্ততার কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে তার।
তা ছাড়া এই সংগঠনের নামে হরতাল অবরোধে রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদল। আর বাকি নবগঠিত ইউনিটের নেতারা কেউ রাজপথের আন্দোলনে কোন প্রকারের ভূমিকা না রেখে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রদলকে রাজপথে কলঙ্কিত করেছেন। আরো জানা গেছে, কর্মীরা রাজপথে আন্দোলনে ব্যস্ত থাকলে তাদের নামে টাকা তুলে দিব্বি আরাম আয়েশে ছিলেন জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের মূল পদে থাকা নেতারা।
সূত্র মতে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে নাহিদ হাসান ভূঁইয়াকে সভাপতি ও জুবায়ের রহমান জিকুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিলো কমিটিতে আরও আছেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী, আতা ই রাব্বি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো.জাকারিয়া ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, আবু তাহের রিফাত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন।
কমিটির গঠনের পর থেকেই দেখা মিলেছে জেলা ছাত্রদলে বিভক্তের ছাপ। যা মাঝখান দিয়ে একটু ঠিক হলে ও বর্তমানে এখন ও ইউনিট কমিটি নিয়ে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের মধ্য যে বিভক্ত সৃষ্টি হয়েছে তা বর্তমানে সকলেই জানেন। তাদের বিভক্তের কারণে জেলা ছাত্রদলের রাজনীতি বিনষ্ট হচ্ছে ও সকল ইউনিট কমিটি গঠনে এখনো পিছিয়ে আছে জেলা ছাত্রদল তা ছাড়া তারা তাদের কমিটি ও পূর্নাঙ্গ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এদিকে তাদের নিজস্ব ঝগড়ায় বর্তমানে আন্দোলনের বাহিরে জেলা ছাত্রদল।
অপরদিকে একই দিনে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে রাকিবুর রহমান সাগরকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে রাহিদ ইসতিয়াক সিকদারকে। কমিটিতে আরো আছেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাজাদা রতন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজিব, যুগ্ম সম্পাদক ওসমান প্রীতম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল।
এই কমিটি গঠনের পরপরই মহানগর ছাত্রদলে একের পর এক কর্মসূচিতে চমকপ্রদ শোডাউন করেছেন যা নিয়ে রীতিমত নানা আলোচনা ছিলেন শহরে। কিন্তু গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতি স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে ধীরে ধীরে রাজপথ থেকে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন মহানগর ছাত্রদল।
এদিকে তারা ইউনিট কমিটি গঠনে সক্ষম হলে ও যোগ্য তাদের দিয়ে কমিটি না হওয়ায় ইউনিট কমিটি ও নানা অর্থ কেলেঙ্কারী বিষয় নিয়ে বিতর্কিত হয়ে পরেছেন মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতি। সামনের আন্দোলন গুলোতে ছাত্রদলকে আরো শক্তিশালী হয়ে সকল প্রকারের সংগঠন থেকে চাঁদাবাজির প্রোভলন ও উদ্দেশ্য মাথা থেকে জেড়ে ফেলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এস.এ/জেসি


